Midnapore Hospital : Expiary স্যালাইন কান্ডের জের! অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সহ পাঁচজনকে শোকজ স্বাস্থ্য দপ্তরের

Share

মেদিনীপুর 11 ই জুলাই :

সম্প্রতি এক মুমূর্ষ রোগীকে ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া স্যালাইন দিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। যদিও এই ঘটনার দায়ভার স্বীকার করে নিয়েছিলেন মেদিনীপুর কলেজের সুপার ইন্দ্রনীল সেন। সেই ঘটনায় নড়ে চড়ে বসে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, তড়িঘড়ি পাঠানো হয় একটি তদন্তকারী দল। সরে জমিনে খতিয়ে দেখে পাঁচজনকে শোকজের চিঠি ধরালো রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।

মেদিনীপুরে এক্সপায়রি স্যালাইন কান্ডের জেরে এবার অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সহ নার্স এবং আরো মিলিয়ে প্রায় ৫ জনকে শোকজের চিঠি ধরাল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর যা নিয়ে ফেল চাঞ্চল্য জেলায়। মূলত গত কয়েকদিন আগে
একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর পল্লীর বাসিন্দা মানসী দে(৬২) কে মেদিনীপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু গতকাল ৮ই জুলাই মাকে দেখতে গিয়েই আঁতকে উঠে ছেলে বিশ্বজিৎ। ছেলের অভিযোগ মা বারবার বলে কোন কারণ ছাড়াই বুক ধড়ফড় করছে। এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় যে আগের যে স্যালাইন চালানো হয়েছে ইতিমধ্যে তার ডেট এক্সপায়ারি হয়েছে গত ২০২৬ এর মার্চ মাসে। এরই পাশাপাশি সুগারের যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে তাও এক্সপায়ারী। এরপরই ছেলে বিশ্বজিৎ এই বিষয় নিয়ে সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগ করার পরই তড়িঘড়ি হাসপাতালে তরফ থেকে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে আই সি ইউ তে রেফার করা হয়।

শুরু হয় নতুন করে চিকিৎসা। সেই ঘটনায় তড়িঘড়ি রাজ্য থেকে একটি দুজনের কমিটি করে পাঠানো হয়। তারা পরের দিনই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ,সুপার, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর তারা হাসপাতালে স্যালাইন রাখার স্টোর রুম হাসপাতাল এবং বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখে সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। সেই ঘটনার পরেই চার দিনের মাথায় শো কজের চিঠি। সূত্র অনুযায়ী অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, দায়িত্বে থাকা সিস্টার ইনচার্জ,স্টাফ নার্স, স্টোর ইনচার্জ সহ মোট পাঁচজনকে শো কজের চিঠি পাঠায় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।

এই ঘটনায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুপার ডঃ ইন্দ্রনীল সেন এক বক্তব্যে জানান, “অফিসিয়ালি আমাদের কাছে কোন চিঠি এসে পৌঁছয়নি, তবে শুনেছি পাঁচজনকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি যুক্তি দিয়ে এও বলেন শোকজকে বড় করে দেখানো হয়েছে। আসল সেই ঘটনার বিবরণ জানতে চাওয়া হয়েছে, এটা কোন বড় ব্যাপার না। ইনকোয়ারির একটা অংশই হল এই শোকজ। তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান শোকজ মানে পানিশমেন্ট নয় কিন্তু।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক বছর আগে ঘটে যাওয়া expiary স্যালাইনে মৃত প্রসূতির ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি,সেই ঘটনার স্যালাইনে মৃত প্রসূতির তদন্ত এখনো চলছে। প্রাক্তন এইচওডি এবং মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ সুপারের ইতিমধ্যে সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। প্রাক্তন মেডিকেল কলেজ সুপার জয়ন্ত কুমার রাউত যোগ দিয়েছেন কাজে। সেই ঘটনার বছর খানেক ঘুরতে না ঘুরতেই ফের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের এক রোগী কে। সেই ঘটনারই তদন্ত করছে নতুন সরকারের।স্বাস্থ্য দপ্তরের আরেকটি টিম।

যদিও এই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গি কোন রকমই মুখ খুলতে রাজি হননি, তবে তিনি এই ঘটনায় শোকজের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in