Sneke Bite : সাপে কাটার ‘গোল্ডেন পিরিয়ড 100 মিনিটে’ ওঝা গুনিনের দ্বারস্থ হওয়ার জন্যই ঘটছে মৃত্যু!জল বন্যায় বিধ্বস্ত মেদিনীপুরে 1200 সাপে কাটা রোগী

Share

মেদিনীপুর 3 রা সেপ্টেম্বর :

একদিকে টানা বৃষ্টি সেইসঙ্গে বিপর্যস্ত জেলার বিভিন্ন বিধানসভা। অন্যদিকে মানুষের সঙ্গে বাড়িতে, শুকনো জায়গায় ঠাঁয় নিয়েছে বিষধর সাপেরা। চলতি বছরে ১২০০ সাপে কাটা রোগী জেলায়, যা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মধ্যে। যদি ওই ঘটনায় মৃত্যু ১৭ জনের। তবে আধিকারিকের দাবি,গোল্ডেন পিরিয়ডে হাসপাতালে না গিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর জন্যই মৃত্যু ঘটছে,আরও সচেতন হতে হবে নাগরিকদের।

একদিকে টানা বৃষ্টি, সেই সঙ্গে বন্যায় ভাসছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা।অন্যদিকে এই বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বাস্তু হয়েছে জেলার মানুষজন। যদিও এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে জলের তলায় রয়েছে অনেক কাঁচা পাকা বাড়ি সেই সঙ্গে ধান জমি। মানুষ আশ্রয় নিয়েছে শুকনো জায়গায়। তবে মানুষের সঙ্গে এবার বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর সাপেরা। বিশেষ করে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, দাসপুর, গড়বেতা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে পিংলা, সবং কেশিয়াড়ি নারায়ণগড়ে বিস্তীর্ণ অংশ। যার ফলে প্রতিদিনই জেলা হাসপাতাল এবং ডিভিশন হাসপাতাল গুলিতে ছুটে আসছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত Unknown বাইট সেইসঙ্গে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। যদিও সেই সংখ্যাটা ইতিমধ্যে ছাড়িয়েছে বারোশো। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারীদের তথ্য অনুযায়ী এ বছর এখনো পর্যন্ত প্রায় বারোশো মানুষকে বিষধর সাপে কেটেছে, যার মধ্যে মারা গেছে এখনো পর্যন্ত ১৭ জন। যদিও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় কম। গতবারে ২২০০ জনকে সাপে কামড়ে ছিল যার মধ্যে মারা গেছে ৪২ জন। তবে বেশিরভাগই মানুষজন সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিটের যে গোল্ডেন পিরিয়ড সেই সময় নষ্ট করে দেয় শুধু কুসংস্কারে বশবর্তী হয়ে ওঝা গুণীনের কাছে দৌড়ে যায়।ফলে মৃত্যু হয় এই সাপে কাটা রোগীর।

উল্লেখ্য,সম্প্রতি মেদিনীপুর সদরের অন্তর্গত ধেড়ুয়ার বাসিন্দা তপন কুমার কুমার সিংহ(৫৪) যিনি সর্প বন্ধু নামে পরিচিত, তিনি সাপের কামড়ে প্রাণ হারান। ঘটনা ক্রমে জানা যায় মেদিনীপুর সদরের অন্তর্গত কুকুরমুড়ি এলাকায় একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি যখন সাপটি উদ্ধার করে প্লাস্টিকের ডাব্বার মধ্যে ভরছিলেন সেই সময় তার অসাবধানতায় সাপটি ঘুরে গিয়ে তাকে ছোবল মারে। যদিও এরপর তিনি সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তার মৃত্যু হয়।যা নিয়ে এলাকায় শুরু হয় চাঞ্চল্য। কেননা এর আগে এই সর্প বন্ধু হিসেবে পরিচিত তপন কুমার জানা এক ও একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি তিনি যখন সাপ টি উদ্ধার করেছিলেন তখন তিনি এই বার্তায় দিয়েছিলেন,’ যে কেউ যেন তার মতন এভাবে সাপ না ধরে।’ যদিও পরিবার সূত্রে খবর, তাকে সাপ কাটার পরও তিনি হাসপাতালে যেতে দেরি করেন। ঘন্টা দুই তিনের পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করতে গিয়ে তখন মারা যান।’যেই ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এ বিষয়ে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গি বলেন,”গত বছরের তুলনায় এখনো সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা কম। তবেই সেই সংখ্যাটা এখনো পর্যন্ত ১২০০ জন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেড়ে চলেছে, সেই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। গতবারে প্রায় ২২০০ জনকে সাপে কেটেছিল যার মধ্যে ৪২ জন মারা গেছিল। তবে সাপে কাটা রোগীর মারা যাওয়ার প্রধান কারণই হল সাপে কাটার পর ১০০ মিনিটের যে গোল্ডেন পিরিয়ড।কারণ সেই গোল্ডেন পিরিয়ডে তারা সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে বরং ওঝা গুণের কাছে দৌড়ে গিয়ে ভুলভাল চিকিৎসা করানোর জন্য। আমরা যেখানে বারবার ধরে মানুষকে বলছি সাপে কাটার একমাত্র ওষুধ হল এভিএস, যা সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে এভিএস নিন এবং সুস্থ হয়ে যাবেন কিন্তু তারপরও মানুষ কুসংস্কারে বর্শবর্তী হয়ে ১০০ মিনিটের গোল্ডেন পিরিয়ডে নষ্ট করছে। তিন ঘন্টা,চার ঘন্টা পর হাসপাতালে আসার পর মৃত্যু ঘটছে সেই সাপে কাটা রোগীর, যা খুবই জেলার জন্য দুর্ভাগ্যজনক।”

এখন দেখার কবে মানুষের হুঁস ফেরে! ওঝা ও গুনিনের কাছে না গিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাজির হয় সাধারণ মানুষ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *