Dengue cases : জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত 84 ! চন্দ্রকোনায় চার বছরের শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় মশা নিধন তেল স্প্রে করার কাজ পৌরসভার

Share

চন্দ্রকোনা 2 রা সেপ্টেম্বর :

এই প্রথম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পৌরসভায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হল চার বছরের শিশু। চন্দ্রকোনা পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসল পৌর প্রশাসন।বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানো শুরু করা এছাড়াও মশা নিধন তেল স্প্রে করা কাজ চলছে জোর কদমে। পৌরসভার সূত্রে খবর এই এলাকার মানুষ কিছুটা অসচতেন থাকার জন্যই হয়তো হতে পারে এই ধরনের পরিস্থিতি। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সূত্রে জেলার সংখ্যাটা ৮৪ জন।

একদিকে টানা বর্ষণ চলছে গোটা রাজ্যের সঙ্গে জেলায় বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া সহ বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতাতে আর এরই পাশাপাশি প্রতি বছর মতন এ বছরও ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে রাজ্যজুড়ে। এবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হল পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্ডার এলাকা চন্দ্রকোনার এক চার বছরের শিশু। যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য। তবে এই ঘটনায় নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন, তৎপর হয়ে উদ্যোগী হয়েছে ডেঙ্গু মশা নিধনে। সূত্র অনুযায়ী চন্দ্রকোনা পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের এক দম্পতির চার বছরের শিশুর গত ১৪-১৫ দিন ধরে জ্বর হয়েছিল। এই জ্বর কিছুতেই কাটছিল না। এরপর পরিবার বারে বারে বহু জায়গায় দেখিয়ে ওষুধও খাইয়েছে কিন্তু তবু জ্বর নামেনি। বাধ্য হয়ে তারা জন্ডিসও কাটিয়েছে কিন্তু তারপরও ধরা পড়েনি ডেঙ্গু বলে। এরপরই তাকে তড়িঘড়ি ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে রক্ত পরীক্ষা করানো হয় এবং তাতেই গতকাল ধরা পড়ে ডেঙ্গু পজেটিভ। যদিও এই ঘটনায় পরিবারকে জানানো হয়নি বলে পরিবারের দাবি। এরপরই তড়িঘড়ি এলাকায় নেমে পড়ে চন্দ্রকোনার স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম। তারা আশেপাশে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টিবাড়ির পরিবারের রক্ত পরীক্ষা করে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। সেইসঙ্গে খোঁজখবর চালায় কেউ কোথা থেকে এসেছে কিনা বা কারো বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর হয়েছে কিনা। এরই পাশাপাশি এলাকায় মশার লার্ভা মারার স্প্রে করা হয় এলাকা জুড়ে। যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য এলাকায়।

এই পরিবারের শিশুটির ঠাকুমা বলেন,” গত কয়েকদিন ধরেই টানা জ্বরে ভুগছিল এই শিশুটি। বহু জায়গায় ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়েছে তারপরও জ্বর নাম ছিল না। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম জন্ডিস হয়েছে। কিন্তু এরপরও জ্বর না কাটায় ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে রক্ত পরীক্ষা করার পরই এই ডেঙ্গু ধরা পড়ে। যদিও এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আমাদেরকে কোন কিছু জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে এলাকায় যাওয়া এক স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মী বলেন,”গোটা রাজ্যের সঙ্গে ডেঙ্গুর বাড়ন্ত। তবে আমাদের জেলায় ছিল না এই প্রথম ডেঙ্গু আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছে। শিশুটির ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার রক্ত টেস্টের পরেই জানা যায় ডেঙ্গু। তাই আমরা তড়িঘড়ি এলাকায় নেমে পড়েছি। প্রায় আশেপাশের ৫০ থেকে ৬০ টি বাড়িতে আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষকে বলেছি কোনোভাবে জল জমতে দেবেন না, সেই সঙ্গে আগাছা পরিষ্কার করে রাখার। পাশাপাশি মশা নিধনের জন্য স্প্রে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম রয়েছে এলাকায়।”

যদিও জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গী বলেন,’আগের বছরের তুলনায় এ বছর সংখ্যাটা কম তবে একটাও যাতে একটা না বাড়ে তার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করছি। জেলার মানুষকে বলবো সর্বদা সতর্ক ও সচেতন হোন। এলাকায় কোনভাবে জল জমতে দেবেন না, বাড়ির আশেপাশের আগাছা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। সেই সঙ্গে দু দিনের বেশি জ্বর হলেই রক্ত পরীক্ষা করান,স্বাস্থ্য দপ্তর আপনাদের পাশেই রয়েছে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *