
ঘাটাল 7 ই আগস্ট :
বন্যা প্লাবিত ঘাটাল শুধু ব্যবসা পত্র বা যাতায়াত নয় শ্মশানে পোড়াতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছে এলাকার মানুষ।। একদিকে প্লাবিত বা ডুবে রয়েছে শ্মশান অন্যদিকে দূরের শ্মশান গুলি নিয়ে যেতে ভরসা সেই ডিঙি। অবশেষে প্লাবিত এলাকায় ডিঙি করে নিয়ে গিয়ে শবদেহ দাহ করলেন এলাকার মানুষ। যদিও বিজেপি বিধায়কের দাবি,’ বিগত সরকার ইলেকট্রিক চুল্লি করেও করে ওঠেনি। তবে আমরা বন্যা কবলিত ঘাটালে দ্রুত ইলেকট্রিক চুল্লির কাজ সম্পন্ন করব,সেই সঙ্গে শবদেহ পোড়ানোর সমস্যা মিটবে সাধারণ মানুষের।’

বন্যা প্লাবিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, যার মধ্যে বেশি প্লাবিত হয়েছে সবং,পিংলার পরই ঘাটাল এলাকা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই স্কুল কলেজ সহ ডুবে রয়েছে ওয়ার্ডগুলি। তাই এলাকার মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বেরোতে যেমন সমস্যা তেমনি শিকেই উঠেছে পঠন পাঠন। তবে এরই পাশাপাশি এবার শবদেহ দাহ করতে সমস্যায় পড়েছে এলাকার মানুষজন। কারণ একদিকে যেমন নিচু শ্মশান গুলি ডুবে রয়েছে, অন্যদিকে যেগুলো ডুবে নি সেগুলি দূর দূরান্তে। এরকমই এক পরিস্থিতিতে শবদেহ দাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেল পরিবার। মূলত শারীরিক অসুস্থতার জেরে মৃত্যু হয় গ্রামের দুই বৃদ্ধের।এদিকে বন্যার জলে ডুবে রয়েছে গ্রামের রাস্তা ঘাট।বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও যেতে হলে ভরসা সেই ডিঙি নৌকা।গ্রামের দুই বৃদ্ধের মৃত্যুতে বিপাকে পড়েন বাড়ির সদস্যরা।কারণ মৃতদেহ দাহ করতে শ্মশানে যেতে হলে জল পেরিয়ে যেতে হবে।

অগত্যা রবিবার গ্রামের মানুষজন মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে দেহ ও দাহকার্য করার জন্য সামগ্রী চাপিয়ে শ্মশানে নিয়ে যায়।ঘাটালে বন্যার মাঝে এমনই জল যন্ত্রণার ছবি দেখা গেল ঘাটাল পুরসভার শুকচন্দ্রপুরে। জানা যায়,শুকচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা দুই বৃদ্ধ নিতাই শাসমল ও রবীন্দ্রনাথ শাসমল।দুজনেই কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।দুজনেই মারা যান। এই পরিস্থিতিতে তাকে কোথায় দাহ করবেন তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ে পরিবার। কারণ এলাকায় যে শ্মশান রয়েছে সেটি জলে ডুবে রয়েছে আর দূর দূরান্তে যেই শ্মশান টি রয়েছে সেটি নিয়ে যেতে জল পেরিয়ে যেতে হবে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকজন তাঁদের দেহ ডিঙি নৌকায় করে জল পেরিয়ে দূরে রঘুনাথচক শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহকার্য সম্পন্ন করে। যদিও এই নিয়ে একরাশ ক্ষোভ ও উগরে দিয়েছেন।

এই বিষয়ে পরিবারের লোকজন বলেন,’গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ফলে ঘাটাল জলমগ্ন পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে আমরা যেমন ঘর থেকে বেরোতে পারছি না তেমনি আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিন্তু অসুবিধা হচ্ছে। এর উপরে আমাদের দুই সম্পর্কের দাদু মারা যায়। তাদের ডায়ালিসিস চলছিল তাই অসুস্থতার কারণে মারা গিয়েছে কিন্তু মারা যাওয়ার পরও আমরা তাদের দাহ করতে পারিনি কারণ আমাদের নিকটবর্তী যে শ্মশান রয়েছে তার জলে ডুবে যায় কিন্তু সেটা নিয়ে যেতে ব্যাপক সমস্যা এলাকায় কিন্তু আমরা উপায় না দেখে দিনের বেলায় ডিগ্রিতে করে সেই দেহ নিয়ে গিয়ে দাহ করতে পেরেছি অবশেষে।। এটা আজ নতুন সমস্যা নয়, জন্মলগ্ন থেকে ঘাটালের এই প্লাবিত এলাকায় এই ধরনের সমস্যা দেখে আসছি তবে আমরা চাইবো এটা সমাধান হোক।”

অন্যদিকে ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন,”তৃণমূল সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর রাজত্ব করেছে,তারপরও ঘাটালে জল যন্ত্রণা থেকে যেমন মুক্তি দেয়নি, তেমনি মুক্তি দেয়নি এই শবদাহ পোড়ানোর ক্ষেত্রে। কারণ বন্যা প্লাবিত এই ঘাটালে ইলেকট্রিক চুল্লির ভীষণ প্রয়োজন, যা এত বছর ধরে করে উঠতে পারেনি তারা। আমাদের সরকারের বয়স সবেমাত্র চার মাস। তবে তার মধ্যে পূর্তমন্ত্রী মাননীয়া অগ্নিমিত্রা পাল যেদিন এসেছিলেন তার কাছে আমরা ইলেকট্রিক চুল্লির আবেদন করেছিলাম এবং তিনি এস্টিমেট জমা দিতে বলেছেন।আমরা জমা দিয়েছি।আগামী ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা কাজ শুরু করে দেব। আমরা এলাকার অসুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের স্পিড বোট পাঠিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মারা যাওয়ার খবর জানতে পারিনি। না হলে আমরাই ব্যবস্থা করে দিতাম।”

এখন অপেক্ষা, কবে হবে এই ইলেকট্রিক চুল্লি! সমাধান হবে এলাকার পরিস্থিতির।