
ঘাটাল 4 ঠা সেপ্টেম্বর :
বন্যার জলে জলমগ্ন ঘাটাল।জলে ডুবেছে রাস্তা ঘাট,ডিঙি-নৌকায় চলছে যাতায়াত।জল ঢুকেছে একাধিক স্কুলে বন্ধ পঠনপাঠন।জলমগ্ন পুজোর প্যান্ডেলের কাঠামো। তবে এ বিষয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ই না হওয়ার মূল কারণ বলে মনে পড়ছে বিশেষজ্ঞ মহল।

একনাগাড়ে বৃষ্টি ও জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে ঘাটালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝুমি ও শিলাবতী নদীতে জলস্তর বাড়ছে। আর তাতেই জলমগ্ন পরিস্থিতি ঘাটাল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা সহ ঘাটাল পৌর এলাকার একাধিক ওয়ার্ড। এই জলস্তর বাড়ায় জলে ডুবেছে রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে দুর্গা পুজোর জন্য তৈরি হওয়া মণ্ডপের কাঠামো।ঘাটাল চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সূত্রে জানা যায়,ঘাটাল পৌর এলাকায় মোট ৩৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি জুনিয়র হাইস্কুলে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বন্ধ রয়েছে পঠনপাঠন।ক্লাস রুমেও জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে জলে ডুবেছে টেবিল চেয়ার থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের বসবার বেঞ্চ।ক্লাস রুমের ভেতরে জলে ঘোরা ঘুরি করছে সাপ।ঘাটাল পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ড আড়গোড়া এলাকায় যোগদা সৎসঙ্গ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিতরের এমনই ছবি ধরা পড়েছে।
ফলে এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে এবং কবে স্কুল গুলোতে পঠন পাঠন শুরু হবে উত্তর নেই কারোর কাছে।

তবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। অন্যদিকে পুজোর আগে ঘাটালের বিস্তীর্ন এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় পুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজে ব্যাঘাত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।কিছু কিছু এলাকায় পুজোর প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হলেও সেই মণ্ডপে ঢুকেছে বন্যার জল।জলে দাঁড়িয়ে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ।এমনই ছবি ধরা পড়লো ঘাটাল পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড চাউলী এলাকায়।তবে জলমগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক থাকায় পানীয় জলের পরিষেবা চালু রয়েছে।পুরসভার গড়প্রতাপ নগর,চাউলী,আড়গোড়া,শুকচন্দ্রপুর,কিসমত রামচন্দ্রপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে থাকা পানীয়জলের একাধিক ট্যাপকল জলে ডুবেছে।জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সব থেকে দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে দৈনন্দিন কাজে বাড়ি থেকে অন্যত্র যেতে গিয়ে।সেক্ষেত্রে ডিঙি নৌকায় একমাত্র ভরসা তাদের কাছে।আড়গোড়া এলাকার চাতাল জলের তলায়।দোকানপাট জলে ডোবার আশঙ্কায় অনেক দোকানদার তাদের দোকানের মালপত্র নৌকায় করে সরিয়ে নিচ্ছেন।পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের শেষ প্রান্ত বর্ডার এলাকা ঘাটালের দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের। কারণ আজকে জলে ডোবার মূল কারণ হচ্ছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়া। বিগত দিনে বামফ্রন্ট সরকার এরপর তৃণমূলের ১৫ বছর তারপরও ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তৃণমূল সরকার বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও করে উঠতে পারেনি। তবে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে এই ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান এর কাজ শুরু হয়েছে, বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করছে আর তাতেই বন্যা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হবে ঘাটালে বলেই মত এলাকাবাসীর।

দিলীপ সামন্ত নামে এক এলাকাবাসী বলেন,”গোটা এলাকায় বন্যায় ডুবে রয়েছে। আমাদের জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। একমাত্র নৌকা বা ডিঙি। তবে পানীয় জলের ব্যাপক সংকট আর সেই পানীয় জল আনতে আমাদেরকে ডিঙিয়ে করে যেতে হয়।”জীবন শাসমল নামে এক অভিভাবক বলেন,” এখন এক মাস স্কুল বন্ধ। কারণ প্রাইমারি এবং হাই স্কুলের দুটোই জলের তলায়। প্রতিবছরই এই সময়ে এই পরিস্থিতি হয়। পড়াশোনা ওঠে শিকেই। যদি এরপর আরো বৃষ্টি হয় তাতে আরো ভোগান্তি বাড়বে। আমরা অপেক্ষা করে আছি কখন জল থামবে এবং জল নামবে এই স্কুল চত্বর থেকে।”

এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষক সমীরণ সামন্ত বলেন,”টানা বৃষ্টি এবং জল বাড়ার কারণে গোটা এলাকার সঙ্গে স্কুলেও জল ঢুকে গেছে যে যে স্কুলগুলো জল ঢুকে যায় সেগুলো স্কুলের শিক্ষকেরা আমরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দিই আর তাই বন্ধ থাকে। এই বন্যা বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতেই স্কুলে পড়াশোনার পঠন পাঠন বেহাল হয়ে পড়ে যদিও স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে আমরা অপেক্ষা করি জল নামার।”
যদিও এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য,”গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল মাস্টার প্ল্যানের নাম করে টাকা তছরূপ করেছে আর তাই এই ভোগান্তি। তবে একটু সময় দিলে আমরা আস্তে আস্তে সব করে দেব, ভোগান্তি কমবে ঘাটাল বাসীর।”