
খড়গপুর 8 ই সেপ্টেম্বর:
সাধারণ মানুষের জীবনে যক্ষ্মা বা টিবি (TB) আজও এক আতঙ্কের নাম। তবে সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে এই রোগকে জয় করা সম্ভব। এই বার্তা নিয়েই যক্ষ্মা রোগীদের পাশে দাঁড়াল রশ্মি গ্রুপ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ‘জন অংশীদারিত্ব’ কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং রশ্মি গ্রুপের সিএসআর (CSR) উদ্যোগের আওতায়, যক্ষ্মা রোগীদের কল্যাণে এক বিশেষ মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলো।

খড়গপুরের ‘হোটেল ইভেন্ট ভিউ’-তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যক্ষ্মা রোগীদের হাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের ঝুড়ি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রায় সাহস ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেয় রশ্মি গ্রুপ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ,মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক ডা. শঙ্কর কুমার গুছাইত; নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি,খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. বুশরা বানু, পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডা. সৌম্য শঙ্কর সড়ঙ্গী এবং খড়গপুরের মহকুমা শাসক জ্যোতি ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক ডা. দেবঞ্জন মান্না, খড়গপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রাজকুমার বিশ্বাস, খড়গপুর-১ উন্নয়ন ব্লকের বিডিও (BDO) মহম্মদ শরিফুল ইসলাম, হিজলি আরএইচ (RH)-এর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অতনু পাত্র।

এছড়াও ছিলেন এনটিইপি (NTEP)-এর ডব্লিউএইচও (WHO) পরামর্শদাতা ডা. অভিজিৎ দে,খড়গপুর লোকাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক চিন্ময় প্রামাণিক এবং সাদতপুরের ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ তপন কুমার মাইতি, পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং রশ্মি গ্রুপের প্রতিনিধিরা। যক্ষ্মা (TB) প্রতিরোধ, চিকিৎসা এবং রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। মূলত ‘নি-ক্ষয় মিত্র, জন-অংশীদারিত্ব’ (Ni-kshay Mitra, Jan Bhagidari) কর্মসূচির অংশ হিসেবে, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রশ্মি গ্রুপের প্রবর্তক সঞ্জীব কুমার পাটোয়ারি ও সঞ্জয় কুমার পাটোয়ারি যক্ষ্মা-আক্রান্ত ১০টি পরিবারের হাতে পুষ্টিকর খাদ্যের ঝুড়ি তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, রশ্মি গ্রুপ এর আগেই ‘নি-ক্ষয় মিত্র’ প্রকল্পের আওতায় ২০০ জন যক্ষ্মা রোগীকে দত্তক নিয়েছে। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ যক্ষ্মা রোগীদের প্রতি সচেতনতা ও সহমর্মিতার বার্তা প্রদান করেন এবং রশ্মি গ্রুপের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের CMOH ডা. সৌম্য শঙ্কর সারণী তাঁর বক্তব্যে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, বিশেষ এক্স-রে পরিষেবা এবং সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নিয়মিত চিকিৎসা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির মাধ্যমে যক্ষ্মা থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

রশ্মি গ্রুপের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা ভাস্কর চৌধুরী বলেন যে, সরকারের ‘জন-অংশীদারিত্ব’ এর মতো কর্মসূচিগুলি কেবল সরকারি উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই ধরনের কর্মসূচিকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে রশ্মি গ্রুপের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই উদ্যোগ।