
মেদিনীপুর 2 রা জুলাই :
স্কুলের শিক্ষকদের টিউশনির প্রতিবাদে এবার রাস্তায় নামলেন প্রাইভেট টিউটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ৩০০ জন।মেদিনীপুর শহর শাখার তরফে বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ জন গৃহশিক্ষক মিছিল করে শহর পরিক্রমা করেন। এর পরে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।

স্কুলের শিক্ষকরা কোনভাবেই প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না আগেই নির্দেশিকা জারি হয়েছে তারপরও বহু স্কুল শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন করছেন আর এরই প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন গৃহ শিক্ষকরা। বিক্ষোভরত গৃহশিক্ষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকা থাকার পরেও অনেক স্কুল শিক্ষক লুকিয়ে প্রাইভেটে পড়াচ্ছেন। কোনও কোনও শিক্ষক স্ত্রীকে সামনে রেখে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ। কোথাও আবার পড়ুয়াদের সাইকেল লুকিয়ে রেখে গোপনে টিউশন দেওয়া হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে এ বার পথে নামলেন গৃহশিক্ষকরা।
এইরকমই মেদিনীপুর শহরে প্রাইভেট টিউশন দেন জ্যোতির্ময় দাস। তিনি বলেন, ‘কয়েকজন স্কুল শিক্ষক শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করছেন। স্কুলে সরকারি চেয়ারে বসে, সরকারি পাখার হাওয়া খেয়ে আয়েস করছেন। আর সকাল সন্ধে বাড়িতে টিউশন পড়াচ্ছেন। সেই টিউশন থেকে টাকা রোজগার করে চলেছেন।

সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এটা করছেন তাঁরা। এটা চলতে পারে না। একজন স্কুল শিক্ষক যদি বাড়িতে বোর্ড ওয়ার্ক করে, প্রজেক্ট দেখিয়ে, প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে দিতে পারেন। স্কুলে কেন পারছেন না? সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকছেন তাঁরা। শনিবার অর্ধদিবস পাচ্ছেন। তার পরেও কম পড়ে যাচ্ছে। কারণ, ব্যবসায়ী মানসিকতা।’জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) নোটিসের প্রেক্ষিতে গত মাসেই স্কুলশিক্ষা দপ্তর জানিয়ে দেয়— স্কুলে কর্মরত টিচাররা কোনও ভাবেই প্রাইভেট টিউশন দিতে পারবেন না। রাজ্যের জেলাগুলির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই) সেই নির্দেশিকাও পাঠানো হয় দপ্তরের তরফে। তাতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, গৃহশিক্ষকতার অভিযোগ উঠলে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট টিচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক–শিক্ষিকাদের এই নির্দেশিকা ফরোয়ার্ড করেছেন ডিআইরা।

গৃহশিক্ষকদের দাবি, ২০১১ সাল থেকে এই বিষয়ে আন্দোলন সংগঠিত করে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা সত্ত্বেও স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন পড়িয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হল থেকে গৃহশিক্ষকদের মিছিল মেদিনীপুর শহর পরিক্রমা করে ডিআই অফিসের সামনে যায়। গৃহশিক্ষকদের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষকরা যাতে টিউশনি না করেন এর জন্য সরকারের নির্দেশিকা রয়েছে, কিন্তু সেটা কার্যকর হচ্ছে না। সেই নির্দেশিকা যাতে কার্যকর হয় তার জন্যই তাঁদের পথে নামা। যদিও অন্যদিকে এ বিষয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমিত রায় বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেকটা স্কুলেই নোটিস পাঠিয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁদের স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে এই মর্মে ডিক্লিয়ারেশন নেবেন যে, তাঁরা কোনও ভাবেই প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত নন।

সেই ডিক্লেয়ারেশনে প্রধান শিক্ষক সন্তুষ্ট হলে তিনি তাঁর রিপোর্ট বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জমা দেবেন। জুলাই মাসে সেই রিপোর্ট পাঠানোর কথা রয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে স্ক্রুটিনিও করা হবে।’