
Nipah Virus মোকাবিলায় জেনে নিন জরুরি ৪টি সতর্কতা।
নিপা ভাইরাস, এক আতঙ্কের নাম যা শুনেই গা শিউরে ওঠে। এর সংক্রমণে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০-৭৫ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে আশার কথা হলো, এটি কোভিডের মতো দ্রুত ছড়ায় না। তাই একটু সচেতন থাকলেই এই মারণ ভাইরাস থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সতর্কতা।
Nipah Virus : আতঙ্ক নয়, সতর্কতা প্রয়োজন
যখন দক্ষিণ ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল, তখনই খ্যাতনামা Gastroenterologist Dr. Palaniappan Manickam একটি সচেতনতামূলক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় কর্মরত এই চিকিৎসক নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ভাইরাস ছড়ানোর উৎস: বাদুড়ই মূল কারণ
Dr. Palaniappan Manickam জানান, নিপা ভাইরাস মূলত এক ধরনের ফল খাওয়া বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এই বাদুড়েরা মিষ্টি ফল খেতে ভালোবাসে এবং ফলের গাছেই বেশি থাকে। তাদের লালা ও মল-মূত্র থেকে ভাইরাস ফল ও পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই ফল স্পর্শ করলে বা খেলে শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এই তথ্যটি জানা থাকলে সতর্ক হওয়া অনেক সহজ হবে।

খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা: কী করবেন, কী করবেন না?
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং চিকিৎসকরা খাবারের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
১. হাত ধোয়া: যে কোনো ফল বা শাকসবজিতে হাত দেওয়ার আগে এবং পরে সাবান ও জল দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। বিশেষ করে যে এলাকায় মিষ্টি ফল বা খেজুর গাছ রয়েছে, সেখানকার শস্যক্ষেত্রে বাদুড়ের মলমূত্র মিশে থাকতে পারে। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. ফল খাওয়ার আগে:
- পরিষ্কার করুন: WHO-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে যেকোনো ফল খাওয়ার আগে ঠান্ডা জল দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন।
- খোসা ছাড়ান: ঝুঁকি কমাতে ফল বা সবজির খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া উচিত। কলা বা পেঁপের খোসা সাধারণত ছাড়িয়ে খাওয়া হয়, কিন্তু পেয়ারা বা আপেলের মতো ফল খোসাসমেত খাওয়ার আগে অবশ্যই খোসা ছাড়িয়ে নিন।
- মাটিতে পড়া ফল এড়িয়ে চলুন: মাটিতে পড়ে থাকা ফল বা যে ফলে আঁচড় বা কামড়ের দাগ রয়েছে, সেই ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এতে ফলের ভেতরেও ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
- বাইরের কাটা ফল নয়: বাজার থেকে দেখে ভালো করে কিনে বাড়িতে এনে ফল পরিষ্কার করে খান। বাইরের কাটা ফল এড়িয়ে চলুন, এতে নিরাপত্তা বেশি।

৩. মাংস খাওয়ার আগে: নিপা ভাইরাসে শূকর আক্রান্ত হতে পারে। তাই এই ভাইরাস ছড়ানোর সময় শূকরের মাংস এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, রান্না করা মাংসে ভাইরাস ছিল কিনা তা বোঝা সম্ভব নয়। WHO জানিয়েছে, কোনো এলাকায় নিপা ভাইরাস ছড়ালে সেখানকার শূকরদের ওপর কড়া নজর রাখা উচিত। অসুস্থ শূকরদের অবিলম্বে আলাদা করা এবং তাদের মৃত্যুর পর সতর্কতার সাথে দেহ অপসারণ করা উচিত, কারণ তা থেকেও ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
৪. মাস্কের ব্যবহার: WHO জানিয়েছে, নিপা ভাইরাস মানুষের হাঁচি, কাশি, ও নিঃশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সর্দি-কাশি হয়েছে এমন মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন, নিয়মিত হাত ধোন এবং নাক-মুখ-চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডাঃ পালানিপ্পন মানিক্যম পরামর্শ দিয়েছেন, ভিড় এলাকায় থাকলে কোভিডের মতোই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

নিপা ভাইরাস যদিও মারাত্মক, তবে সঠিক সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এর সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন এবং নিজেকে ও আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখুন।