Chandrakona Case : পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন আসামির মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চন্দ্রকোণায়! মেরে দেওয়ার অভিযোগ পরিবারের, সব CCTV তে আছে দাবি, পুলিশ সুপারের

Share

চন্দ্রকোণা 14 ই সেপ্টেম্বর :

চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া আসামি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু,এই ঘটনায় উত্তেজনা চন্দ্রকোণায়। বাড়ির লোকের অভিযোগ পুলিশ মেরে দিয়েছে তাদের বাড়ির লোক কে। একজন আসামি কখন থানায় মরতে পারে না। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। এই নিয়ে তারাই দিন কোর্টের দ্বারস্থ হন।অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানের বক্তব্য শৌচাগারে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এই অভিযুক্ত।

রবিবার এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানায।পুলিশ সূত্রে খবর,চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ৪ দিন আগে রাহুল রুইদাস(১৯) নামে এক ব্যক্তিকে চুরির কেসে গ্রেফতার করে।রাহুলের বাড়ি চন্দ্রকোণা পুরসভার বকশ্বরপুর এলাকায়।গ্রেপ্তারির পরে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।আদালত তাকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।ধৃত রাহুল রুইদাস কে আনা হয় থানায়।সুত্র মারফৎ জানা গিয়েছে,রবিবার পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় থানার শৌচাগারে যায় আসামি।সেখানে গিয়ে পরণের প্যান্ট নিয়ে গলায় ফাঁস লাগায় সে।তৎক্ষণাৎ পুলিশ গিয়ে আসামি রাহুল রুইদাসকে উদ্ধার করে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রবিবার রাতেই ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে HDU তে মৃত্যু হয় আসামি রাহুল রুইদাসের।

আসামির পরিবারের দাবি,রাহুল বরাবরই চুরির কাজে লিপ্ত ছিল।আগেও পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।সে ছাড়াও পেয়ে যায়।চার পাঁচদিন আগে ফের রাহুল রুইদাসকে চুরির অভিযোগে থানায় তুলে নিয়ে যায় চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ।সে খবর জানতো না বলে দাবি মৃতের পরিবারের।তাদের আরও দাবি,সিভিক পাঠিয়ে বাড়ি থেকে রাহুলের পোশাক চেয়ে নিয়ে যাওয়া হতো।পরিবারের বক্তব্য, রবিবার তাদের খবর দেওয়া হয় রাহুল অসুস্থ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।চন্দ্রকোণা হাসপাতাল থেকে ঘাটাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাহুলকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এই মৃতের পরিবার কোর্টের দ্বারস্থ হলেও অন্যদিকে পুলিশ সুপারের বক্তব্য, পুরো ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আসামিকে বারে বারে চোরের অভিযোগে ধরা হয়েছে। এইদিন শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে সেখানেই প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।পরে আমরা দরজা ভেঙে উদ্ধার করি, নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য।

এই বিষয়ে রাহুলের দাদা আকাশ রুইদাস বলে,’আমার দাদা চুরি করত এই এলাকায় সবাই জানে। এর আগে দাদাকে বহুবার পুলিশ তুলেও নিয়ে গেছে আবার ছেড়েও দিয়েছে। কয়েকদিন আগে দাদাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ সেটা আমরা জানি না। গতকাল রাত্রে পুলিশ ফোন করে জানায় দাদা নাকি প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এই সত্যতা মানি না কারণ আমার দাদা কখনো সুসাইড করতে পারে না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস পুলিশ নিজেরাই মেরে দিয়েছে আমার দাদাকে। আমরা এর বিচার চাই।”

রাহুলের মা কাকলি রুইদাস বলেন,”আমার ছেলে অনেকবার চুরি করেছে এটা মেনে নিয়েছি আমরা এবং তার জন্য আইন আছে,বিধান আছে জেলে পাঠানো যায়। কিন্তু তাকে এভাবে মেরে দেওয়া যায় না থানায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চয়ই বলে দেয়নি যে অপরাধীকে থানায় মেরে দাও। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ওরা চারদিন ধরে রেখে নেশা পানি করে আমার ছেলেকে মেরে দিয়েছে। আমাদের ঘরে সিভিক কে পাঠিয়েছিল বলেছিলে একটা গামছা একটা বারমুন্ডা দিয়ে আসার জন্য কিন্তু একবারও বলেনি যে আমার ছেলে গ্রেফতার হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

রাহুলের ঠাকুমা বিজয়লক্ষ্মী রুইদাস বলেন,’আমাদের কে শুধু ফোন করেছিল পুলিশ এবং এটা বলেছিল যে আপনাদের বাড়ির লোক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি তখন ও মারা গিয়েছে আমাদেরকে জানায় যে মাথা ঠুকে এবং প্যান্ট গলায় লাগে আত্মহত্যা করেছে। আমরা মনে করি ও নিজে মরতে পারে না এটা পুলিশ করেছে।’

এই বিষয়ে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতাল বিএমওএইচ
সীতানাথ হাঁসদা বলেন,’গতকাল রাতে যখন ওই পেশেন্ট থেকে আনা হয় তখন একটা গলায় দাগ ছিল। যখন এখানে এনেছিল তখনই কিন্তু পালস চলেনি ও মারা গিয়েছিল। আমরা এখানে আনার পর যাবতীয় ব্যবস্থা করেছি কিন্তু দেখে মনে হয়েছে কোন ভাবে হ্যাঙ্গিং হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওর।’

এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন ‘শৌচাগারে পরণের প্যান্ট গলায় জড়িয়ে সুইসাইড করেছে আসামি, ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। রাতে শৌচাগার করতে যায়। এরপর আধ ঘন্টা কেটে গেলেও কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ওকে উদ্ধার করাহয়। পাশাপাশি তিনি বলেন আমাদের কাছে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তবে দরজা ভেঙে উদ্ধার করার পর আসামি বেঁচে ছিলেন বলে দাবি করেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *