Midnapore Court : অবশেষে সুমিত রায়ের আট দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের! জামিনের আবেদন করলো না সুমিতের আইনজীবীরা

Share

মেদিনীপুর 11 ই সেপ্টেম্বর :

দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা আদালতে সওয়াল জবাবের পর অবশেষে সুমিতের আট দিনের সিআইডি হেফাজত। যদিও সুমিতের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেননি। তবে সুমিতের শারীরিক অবস্থার জন্য এবং সেই সঙ্গে জেরার সময় আইনজীবী থাকার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জানালেন সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব।

দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হন অফিসের বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। গতকাল তাকে গ্রেফতার করার পরই এদিন মেদিনীপুরের জেলা আদালতে তোলা হয়। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে সালবনির জমি মামলায় এক ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই জমি মামলায় মেদিনীপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেপ্তার হয়েছেন দীর্ঘদিন আগে। ইতিমধ্যে সে মামলায় তার হাজিরা চলছে মেদিনীপুর আদালতে। তবে এতদিন ধরে সিআইডি তাকে খুঁজছিল বিভিন্ন জায়গায়। অবশেষে সেই সুমিত রায় কে গতকাল গ্রেফতার করা হয়। এরপরে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। অন্যদিকে ডিম থেরাপি আটকাতে মেদিনীপুর আদালত চত্বরে পুলিশ বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয় সকাল থেকে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ মিলিয়ে কয়েকশো পুলিশ এদিন হাজির হন মেদিনীপুর কোর্ট চত্বরে।কোর্টের প্রতিটি গেটের পাশাপাশি সিজিএম চত্বরে পুলিশের ড্রেস এবং সিভিল ড্রেসে ছিল সয়ে সয়ে পুলিশ বাহিনী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকার বদলের পরে গত ৫ই জুন শালবনীর বাসিন্দা শেখ ইমরান এই মর্মে অভিযোগ করেন যে জমি বিক্রির নাম করে তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। তিনি এও অভিযোগ করেন, বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি চুক্তিপত্র বা কোন এগ্রিমেন্ট সই করেনি তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। বারবার বলা সত্বেও টাকা ফেরত দেয়নি তৃণমূলের এই নেতা। অভিযোগকারীর এও দাবি, এই নিয়ে বারবার কথা বলতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরবর্তীকালে তিনি জানতে পারেন তাকে যে জমিগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর রায়ত নয়, সেগুলো সরকারি জমি,তাকে ভুল কাগজ দিয়ে বিক্রি করেছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি। জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে তাকে বিক্রি করেছিল তৃণমূলের এই নেতা।

যদিও পালা বদলের পরেই শালবনি থানায় অভিযোগ জানান শালবনির বাসিন্দা ইমরান খান। তারপরেই পুলিশ তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। এরপরেই সুজয়কে জেরা করে নাম উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অবশেষে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে সুমিত রায়কে। আর এইদিন তাকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে নিয়ে আসা হয়। মূলত তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে যে ধারাগুলোতে হয়েছে সেই ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ।

এ বিষয়ে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন,”এদিন আদালতে সিআইডি তরফ থেকে আট দিনের হেফাজতের আবেদন চাওয়া হয়েছিল সেই আট দিনের হেফাজত-ই মঞ্জুর হয়েছে। এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ৪২০, জমি মামলা এবং ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন ওদের আইনজীবী দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন একটা হচ্ছে উনার শারীরিক বিষয় নিয়ে একটি পিটিশন আবেদন করা হয়েছিল সেই সঙ্গে জেরার সময় যাতে ওনাদের অ্যাডভোকেটকে অ্যালাউ করে এই পিটিশনও আবেদন করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুজন অ্যাডভোকেটের নাম দিতে বলা হয়েছে। এরপর আদালত খতিয়ে দেখে এলাও করতে পারবেন কিনা সে জানাবে। যদিও ওদের তরফ থেকে জামিনের কোন আবেদন করা হয়নি।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *