
মেদিনীপুর 13 ই জুলাই :
‘যে অপরাধ করে সে যেমন দোষী যে অপরাধীকে বাঁচায় সেও সমান দোষী ‘এবার ইংলিশ মিডিয়ামের প্রিন্সিপালের অপসারণ চেয়ে অবস্থানে বসলেন অভিভাবকেরা। একসাথে তালি দিয়ে তারা দাবি করলেন,’ইউ ওয়ান্ট জাস্টিসের।’ অন্যদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিন তিনটে নির্দেশিকা পাঠালো পুলিশ প্রশাসন,যার মধ্যে রয়েছে বাথরুমের বাইরে সিসিটিভি লাগানো।

গোটা রাজ্যজুড়ে ই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শিশু, মহিলা,বয়স্ক আক্রান্ত হচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে। সম্প্রতি মেদিনীপুরের একটি স্বনামধন্য ইংরেজি স্কুলে এক প্রথম শ্রেণীর পড়ুয়াকে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয় স্কুলেরই এক অস্থায়ী কর্মী দ্বারা। যেই ঘটনায় তোলপাড় মেদিনীপুর। এই দিন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার প্রিন্সিপালের পদত্যাগ চেয়ে ইস্কুলের সামনেই অবস্থানে বসলেন বাকি অভিভাবকেরা,এলাকায় উত্তেজনা। ঘটনা সূত্রে জানা যায়,গত কয়েকদিন আগে এই স্বনামধন্য ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের এক প্রথম শ্রেণীর ছাত্র যখন তার মায়ের সাথে বাড়ি ফিরছিল তখন তার মাকে সে বলে, এই স্কুলে একটি ঘটনা ঘটে। যেই ঘটনা শুনলে শিউরে ওঠে তার মা। ওই পড়ুয়া জানান স্কুলের এক সুইপার আঙ্কেল তাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বলে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়।

এই ঘটনা শোনার পরই ভেঙে পড়ে পড়ুয়ার পরিবার। দ্রুত তারা এই বিষয়ে পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেন এবং স্কুলে ছুটে যান এবং অভিযোগ জানান। এই ঘটনায় নড়ে চড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারা অভিযুক্তকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশের খবর দেন। এই ঘটনায় তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট স্কুলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তারা অভিযুক্তকে নিয়ে যায় থানায়। পরবর্তীকালে রাত্রি নাগাদ অভিযোগ হয় এবং ও অভিযুক্তকে আদালতে বিচারের জন্য পাঠিয়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্তের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেয় আদালত।কিন্তু এখানে থেমে থাকেনি অভিভাবকেরা। এবার স্কুলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নামলো স্কুলের বাকি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। সকাল থেকেই তারা স্কুলের সামনে হাজির হন। সমস্ত বাচ্চাকে স্কুলে না পাঠিয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপরই অভিভাবকরাই স্কুলের গেটের সামনে বসে পড়েন। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিসের’ দাবি নিয়ে তারা অভিনব প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।

তাদের মূল দাবি ছিল এই ঘটনায় স্কুলের প্রিন্সিপাল কোন রূপ ভূমিকা দেখা যায়নি। দেখা যায়নি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার। তাই এই প্রিন্সিপালের অপসারণ যে তারা এদিন আন্দোলনে নেমে পড়েন। তারা এও অভিযোগ করেন এই ধরনের ন্যাক্কারজনক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রিন্সিপালের কোন প্রতিবাদের ভূমিকা তারা দেখতে পাননি, তাই বাকি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তারা। অভিভাবকের এও অভিযোগ একটা ছোট্ট শিশুর উপর যে ধরনের শারীরিক মানসিক অত্যাচার হয়েছে তা বাকি শিশুদের উপর যেন আগামী দিনে না হয়, তাই এই প্রিন্সিপালের পদত্যাগ অবিলম্বে জরুরী। যাতে আগামী দিনে নিরাপত্তার সাথে, নির্ভয়ে খুদে পড়ুয়ারা পড়াশুনা করতে পারে স্কুলে। অন্যদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্কুলে নির্দেশিকা পাঠালো জেলা পুলিশ, তার মধ্যে রয়েছে একাধিক নির্দেশনাবলী।

এই বিষয়ে অভিভাবক সংকরী সামন্ত বলেন,” এত বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যেটা ভূ-ভারতে কখনো ঘটেনি। এই ঘটনায় প্রিন্সিপালের কোন ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না আমরা। যে দোষ করে সে যেমন অপরাধী, যে দোষী কে বাঁচায় সেও সমান অপরাধী। আমরা চাই এই প্রিন্সিপালেরও কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হোক প্রয়োজনে তাকে বদলি করা হোক। অন্যদিকে আরেক অভিভাবক সুপর্ণা চক্রবর্তী বলেন,” আমরা আজকে অবস্থানে বসেছি তার একটাই কারণ আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে পড়ে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সেই বাচ্চাদের নিরাপত্তা কোথায়? পাশাপাশি স্কুলের তরফ থেকে আক্রান্ত বাচ্চার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে হয়েছে বলে আমাদের ঠিক জানা নেই। তাই আমরা প্রপার নিরাপত্তা চাইছি। ওই প্রিন্সিপালকে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, প্রয়োজনে আমরা ওনার পদত্যাগের দাবি করছি।পাশাপাশি আমরা এও দাবি করছি এই ধরনের ঘটনা বাকি পড়ুয়ার সঙ্গে যে হয়নি তার গ্যারান্টি কে দেবে আমাদের, আমরা চায় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা।”

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,”আমরা অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি। সেইসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে প্রতিটা বাথরুমের ঢোকার আগে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রপারওয়েতে কর্মী নিয়োগ এবং বড়দের টয়লেট আমরা আলাদা করার কথাও বলেছি স্কুল কর্তৃপক্ষকে।”