Rajib Banerjee : জিতে এসে প্রথম কাজই হবে ডেবরার সুস্থ নাগরিক পরিষেবা সঙ্গে ট্যাবা -গেড়িয়া ব্রিজ নির্মাণ! মনোনয়ন জমা দিয়েই মন্তব্য রাজীবের

Share

ডেবরা 3 রা এপ্রিল :

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক অন্যতম বিধানসভা হল ডেবরা বিধানসভা।এই বিধানসভা একসময় সেলিমা খাতুন পরবর্তীকালে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবির লড়াই করেছেন এবং জিতে এসেছেন এই ডেবরা বিধানসভা থেকে। গতবারে লড়াইটা টক্করে টক্করে হয়েছে কারণ হুমায়ুন কবিরের প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির তরফে আই পি এস অফিসার ভারতী ঘোষ। যদিও শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন কবির পরাজিত করে ভারতী ঘোষকে।

সূত্র অনুযায়ী তারপরও এই সিটে টানা বেড়ে চলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নানারকম সমস্যার জন্য হুমায়ুনকে সরিয়ে এই সিটে প্রার্থী বদল করা হয়।নতুন প্রার্থী হন ডোমজুড়ের রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের একসময়ের সেচ ও বনমন্ত্রী। যদিও প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই টানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।কর্মীসভা থেকে ক্যাম্পেইনিং সেই সঙ্গে মিছিল, বাইক Rally, মন্দিরে পুজো দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা কোন কিছুই বাদ রাখেননি। তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিরাট বড় বর্ণাঢ্য Rally না করে বরং কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পরিবার কে নিয়েই মনোনয়ন জমা দিলেন খড়্গপুর এসডিও অফিসে। এদিন স্পষ্ট কথায় সোজা সাপটাও উত্তর দিলেন রাজীব।বললেন আগের যিনি বিধায়ক ছিলেন তিনি যথেষ্ট কাজ করে গেছেন এবং আমিও বাকি কাজগুলোও শেষ করবো। সেই সঙ্গে জিতে আসার পর প্রথম কাজই হবে তারা ট্যাবাগেড়িয়া ব্রিজ তৈরি করা।

1) প্রশ্ন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আপনারা কতটা প্রস্তুত ? প্রচার কেমন?
উত্তর : যেদিন থেকে আমাদের নাম ঘোষণা হয়েছে সেদিন থেকেই আমরা প্রচার শুরু করে দিয়েছি।আমরা বাড়ি বাড়ি প্রচার করছি,আমরা বুথে গিয়ে প্রচার করছি সেই সঙ্গে মিটিং মিছিল যাবতীয় সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা মানুষের সামনে তুলে ধরছি। আমাদের যেমন কর্মী সমর্থকরা মাঠে-ঘাটে রয়েছে তেমনি আমিও সবার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

২) প্রশ্ন: SiR এর করার পর ভোটের ওপর প্রভাব পড়বে?
উত্তর : একদম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই এসআইআর হয়েছে। বিজেপি তার নির্বাচন কমিশনকে দল দাসে পরিণত করেছে। এই এস আই এর মাধ্যমে বেছে বেছে তৃণমূল প্রার্থী কর্মীদের নাম ও তার পরিবারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই।সঙ্গে গণতন্ত্রকে শেষ করেছে,স্বাধীনতা হরণ করেছে বিজেপি। তবে বাংলার মানুষ এত বোকা নয়, বাংলার মানুষ জানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকলে উন্নয়ন হবে না হলে কোনদিনই সম্ভব নয়। আর তা ভোট বাক্সে জবাব দেবে বাংলার মানুষ।

৩) প্রশ্ন: আগের বিধায়ক কোন কাজগুলো করে গেছেন কোন কাজগুলো হলো না আপনি করবেন
উত্তর : নিঃসন্দেহে আগের যিনি বিধায়ক ছিলেন তিনি প্রচুর কাজ করে গেছেন।তবে আমার জিতে আসার পর প্রথম কাজই হবে ডেবরা বাসির জন্য সুস্থ নাগরিক পরিষেবা, ট্যাবাগেড়িয়া ব্রিজ সেইসঙ্গে এলাকার রাস্তাঘাট,পানীয় জল,নিকাশি ব্যবস্থা সেইসঙ্গে খেলাধুলা যেহেতু ভালবাসি তাই খেলাধুলার মানোন্নয়ন। যেহেতু আমি স্পোর্টস লাভার তাই একটা স্টেডিয়াম যদি ডেবরাতে করা যায় তার উপরও গুরুত্ব দেব।
৪) প্রশ্ন: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে কি ধারণা?
উত্তর : সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি আমার শুভকামনা।কারণ গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব হল এই নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দল তার রাজনৈতিক প্রচার করে লড়াই করবে এটাই আমরাও চায়।এবার মানুষ তাদের মধ্যে থেকে বেছে কোন জনপ্রতিনিধিকে তাদের প্রয়োজন।

৫) প্রশ্ন: ভোটের পূর্বাভাস কি ? কত লিড দেবেন?
উত্তর : আমাদের জিত নিয়ে কোন সন্দেহ ডেবরা বাসির নেই। তবে আমরা মার্জিন বাড়ানোর জন্য যেটুকু আমাদের দরকার সেটুকু আমরা করছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,রাজীব ব্যানার্জির জন্ম ১৯৭৪ সালে। পড়াশুনো ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অভ ম্যানেজমেন্ট & ইঞ্জিনিয়ারিং।ডোমজুড় থেকে ২০১১ সালে ২০১৬ সালে এবং ২০২১ সালে তিনি জিতে আসেন। ৫২ বছর বয়সী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, যিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনমন্ত্রী,সেচ ও জলপথ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঝখানে তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন।

পরে আবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি ফিরিয়ে এসেছেন তৃণমূল। এইখানেও রাজিব বন্দ্যোপাধ্যায় কে এবারে ডেবরা থেকে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in