
মেদিনীপুর 15 ই সেপ্টেম্বর :
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ তিনজন লিঙ্ক ম্যান যেমন অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষীকান্ত ভূঁইয়া কে আদালতে তোলা হল। সিআইডির তরফে আট দিনের হেফাজতের আবেদন চাওয়া হয় আদালতের বিচারক চার দিন হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ১৯ তারিখ যেদিন সুমিত রায় কে কোর্টে নিয়ে আসা হবে সেদিন এই তিনজনকে আদালতে নিয়ে আসা হবে বলে জানান সরকারি আইনজীবী।

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক জেলা সভাপতি জমি দুর্নীতি মামলায় এবার গ্রেপ্তার হলো তিন লিঙ্কম্যান যারা তাই জমি কেনা বেচা এবং টাকা পৌঁছানোর কাজে ব্যবহার করা হতো। মূলত রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেই তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে এক ও একাধিক অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন মানুষজন। যার মধ্যে প্রথম মামলা ছিল শালবনি জমি দুর্নীতি। ইমরান খান নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ ছিল জমি বিক্রির নাম করে তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। তিনি এও অভিযোগ করেন, বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি চুক্তিপত্র বা কোন এগ্রিমেন্ট সই করেনি। বারবার বলা সত্বেও টাকা ফেরত দেয়নি তৃণমূলের এই নেতা। অভিযোগকারীর এও দাবি, এই নিয়ে বারবার কথা বলতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরবর্তীকালে তিনি জানতে পারেন তাকে যে জমিগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর রায়ত নয়, সেগুলো সরকারি জমি,তাকে ভুল কাগজ দিয়ে বিক্রি করেছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি।

জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে তাকে বিক্রি করেছিল তৃণমূলের এই নেতা।যদিও পালা বদলের পরেই শালবনি থানায় অভিযোগ জানান শালবনির বাসিন্দা ইমরান খান। তারপরেই পুলিশ তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। এরপরেই সুজয়কে জেরা করে নাম উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অবশেষে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুমিত রায়কে।তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে সেই ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে । সেই ঘটনায় আট দিনের সিআইডি হেফাজতের রায় দিয়েছে আদালত।এরপরই জমি দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে একের পর এক গ্রেফতার করছে সিআইডি। এবার এই মামলায় তিনজন ‘লিঙ্কম্যান’কে গ্রেফতার করল তদন্তকারী সংস্থা। এই ধৃতদের নাম লক্ষ্মী ভূঁইয়া, অমিত ঘোষ ও নিত্যানন্দ রায়।

সিআইডি সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জমি সংক্রান্ত এই দুর্নীতি চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁদের। সূত্রের দাবি, তিনজনেরই সুজয় হাজরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।শালবনী জমি দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করেছে সিআইডি। নতুন করে তিন ‘লিঙ্কম্যান’ গ্রেফতারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জমি লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে।যদিও এদিন মেদিনীপুর আদালতে তিনজনকে তোলা হলে সিআইডি আট দিনের হেফাজতের আবেদন করে কিন্তু আদালত সব শোনার পর চার দিনের সিআইডি হেফাজতে নির্দেশ দেয় অর্থাৎ আগামী ১৯ শে সেপ্টেম্বর সুমিত রায়ের সঙ্গে এই তিন লিঙ্কম্যান কে তোলা হবে মেদিনীপুর আদালতে। যদিও এই তিন অভিযুক্তের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছিল কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় এ দিন মেদিনীপুর আদালতে।

এ বিষয়ে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ হাবিব বলেন,”জমি দুর্নীতি মামলায় সুজয় হাজরার সঙ্গে যারা কাজ করতো বা যারা টাকা লেনদেন করত এবং এই জমি দেখিয়ে দিত তাদের পাইয়ে দিত সেরকম তিনজন লিংক ম্যান কে সি আই ডি গ্রেফতার করেছে। তারা কনফেশন করেছে যে তারা এই মামলায় এই বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করবে। তাই এই দিন আদালতে তোলা হলে তারা আট দিনের সিআইডি হেফাজতের আবেদন করেন কিন্তু আদালত তাদের চার দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্তের আইনজীবীরা পৃথক পৃথকভাবে জামিনের আবেদন করেছিল কিন্তু সে জামিনের আবেদন বাতিল করেছে আদালত। আগামী ১৯ শে সেপ্টেম্বর সুমিত রায়ের সঙ্গে এদেরকে তোলা হবে মেদিনীপুর আদালতে।

এখন দেখার এই মামলায় জেলা থেকে আর কত জন কে গ্রেফতার করে সিআইডি।