
কেশপুর ২৩ শে এপ্রিল:
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিংসা আর রক্তপাতের কলঙ্ক মুছে ফেলে এবার কেশপুরে সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। আর এই ‘রক্তপাতহীন’ শান্তিপূর্ণ ভোটের পুরো কৃতিত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকেই দিলেন কেশপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শিউলি সাহা।
এদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিউলি সাহা দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে কেশপুরে যে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে, তার জেরেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এবার কেশপুরে কোনও বোমাবাজি নেই, গুলি নেই। মানুষ শাড়িবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।” বেলা তিনটে-সাড়ে তিনটের মধ্যেই অনেক বুথে প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রার্থীর মতে, সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতির পিছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে:
- সরকারের প্রতি মানুষের অটুট বিশ্বাস এবং ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে যাওয়া।
- তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এনআরসি (NRC) এবং সিএএ (CAA)-র এক চরম ভীতি কাজ করছে। মানুষ ভয় পাচ্ছে যে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে, বা তাদের ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে অনুপ্রবেশকারী সাজানো হতে পারে। এই ভীতি থেকেই নিজেদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে মানুষ বেশি করে ভোটমুখী হয়েছেন।
অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বামফ্রন্ট আমলকে তীব্র কটাক্ষ করেন শিউলি সাহা। তিনি বলেন, “৩৪ বছরের আগের ইতিহাস টেনে আনলে দেখা যাবে, কেশপুর মানেই ছিল বোমাবাজি আর সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। ছাপ্পা ভোট আর নন্দরাণীর ডোল চলত তখন। কিন্তু আজ সেই কেশপুর শান্তির কেশপুর, প্রগতির কেশপুর, ক্ষুদিরামের কেশপুর।”
ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা বললেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ:
- কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘অতিসক্রিয়’ (Hyperactive) ভূমিকা পালন করছে।
- প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
- কয়েকটি বুথে (যেমন ৪ নম্বর বুথে) ইভিএম (EVM) বিকল হওয়া বা ভোটদানে বিঘ্ন ঘটার মতো কিছু সমস্যার খবর পেয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েছেন।
সবশেষে, মেদিনীপুরের এই ঐতিহাসিক মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বা বিরোধীরা যাই করুক না কেন, বাংলা মমতারই থাকবে।”