
মেদিনীপুর 14 ই জুলাই :
পুলিশ সুপারের হাত দিয়ে PACE অ্যাপসের উদ্বোধন। শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা এই অ্যাপস ডাউনলোড করা করে এতে আবেদন করতে পারবেন চাকরির জন্য। আগামী ১৫ ই আগস্ট এর আগেই এক হাজার জনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জেলা পুলিশের। ‘সময় থাকতে এখনই এপ্লাই করুন তরুণ তরুণীরা’বলে দাবি করলেন পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।(আবেদন ২১ থেকে ৩১ সে জুলাই)

গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষের অভিযোগ ছিল কর্মসংস্থান না করা এবং শিক্ষিত বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা না করা। একাধিক অভিযোগের মধ্যে এই একটি অভিযোগে ক্ষোভ জন্মেছিল তরুণ তরুণীদের মধ্যে। তাই সরকার পরিবর্তন হতেই কর্মসংস্থানের উপর জোর দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপির সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মত পশ্চিম মেদিনীপুরে পুলিশ সুপারের হাত ধরে উদ্বোধন হলো পুলিশ দ্বারা পরিচালিত এবং কাজ দেওয়ার জন্য PACE অ্যাপসের। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, এই অ্যাপস ডাউনলোড করার পর এই অ্যাপস থেকে শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা তারা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন রকম কর্পোরেট জগতে, মেদিনীপুর শহর ও জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির কাজ সহ ভিন্ন ভিন্ন কাজের জায়গা পাবেন এবং পাবেন ঠিক ঠিকানা। এদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় অ্যাপসের মধ্য দিয়ে ফর্ম ফিলাপের কাজ।

গোটা জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে এই অ্যাপসের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ। এরপর ১৫ আগস্ট এর আগেই এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিধায়ক, জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের হাত দিয়ে সেসব কোম্পানির অফার লেটার তুলে দেওয়া হবে যোগ্য শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের হাতে। আর তাতেই একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হবে তখন অন্যদিকে বেকারের সংখ্যাও কমবে বলে মত পুলিশের। এই অ্যাপসে গিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সন্ধান পাওয়া যাবে। এদিন এই অ্যাপসের উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সেই সঙ্গে এই অ্যাপসের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন। তিনি এও বলেন কেবলমাত্র মেদিনীপুরের বসবাস কারী মানুষজনই এই সুবিধা নিতে পারবে। প্রথম অর্ধে এক হাজার জনকে চাকরি দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ১৫ টি কোম্পানির সঙ্গে টাই আপ করা হয়। এখন অপেক্ষা, অফার লেটার তুলে দেওয়ার।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,”মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো এই অ্যাপস এর আমরা শুভ উদ্বোধন করলাম। যার মাধ্যমে মেদিনীপুরে বসবাস কারি এবং মেদিনীপুরের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী বিভিন্ন কোম্পানি ও কর্পোরেট সেক্টরে তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবে। উল্লেখ, করে এও বলেন কোন দালাল বা টাকা দিয়ে চাকরি নিয়োগ হবে না। দুর্নীতি মুক্ত চাকরি দিতেই এই উদ্যোগ,পুরো তত্বাবধানেই থাকবে পুলিশ। সেই সঙ্গে অফার লেটার দেওয়ার সময় থাকবেন স্থানীয় বিধায়ক জেলাশাসক সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আমরা চাইছি স্বাধীনতার আগেই বেকারদের স্বাধীন করতে।”

যদিও পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। শিক্ষিত বেকার যুবক অরিজিৎ দাস এর মতে,”এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই অকল্পনীয়। কারণ আমরা বিভিন্ন জায়গায় এখন চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এতে যদি চাকরির ব্যবস্থা হয় তাতে অনেকটা সুরাহা হবে।” অন্যদিকে সোমা সরকার বলেন,”অ্যাপসের মাধ্যমে এই চাকরির ফলে অনেকটাই দুর্নীতি কমবে, যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাবেন। পুজোর আগে এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা কুর্নিশ জানাচ্ছি, ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে।”