
মেদিনীপুর 2 রা ফেব্রুয়ারি:
মাধ্যমিক পরীক্ষায় হাতিদের থেকে পরীক্ষার্থীদের বাঁচাতে মাঠে নামল ঐরাবত। জঙ্গলমহল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরে হাতির করিডরে এলাকা গুলোয় কড়া সতর্কতা। বনদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও এগিয়ে এলো পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য।সেই সঙ্গে এলাকার বিধায়ক থেকে চেয়ারম্যান শুভেচ্ছা জানালে ফুল দিয়ে।

আজ থেকে শুরু হল গোটা রাজ্যজুড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬। এই পরীক্ষা নিয়ে রীতিমত উৎসাহ উত্তেজনায় গোটা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর।জীবনের এই প্রথম বড় পরীক্ষা।পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে বনদপ্তর, পুলিশ ও পরিবহণ সংস্থা। এইদিন জঙ্গলপথে হাতি সহ সহ বন্যপ্রাণীদের হাত থেকে সুরক্ষিতভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হলো বনদপ্তর। সোমবার মেদিনীপুর গ্রামীণের গুড়গুড়িপাল, নয়াগ্রাম প্রভৃতি জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তায় ছিল বনদপ্তরের ‘ঐরাবত’ গাড়ি। হুটার বাজিয়ে এসকর্ট করে পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া হয়। হাতির হাত থেকে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে বাঁচিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন বনকর্মীরা।কারণ গতবছর এই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় রাজ্যের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি এলাকায় মৃত্যু ঘটেছিল হাতির হামলায় এক পরীক্ষার্থীর।

আর তারপর থেকেই সদা সতর্ক সচেতন রাজ্য সরকার।এদিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা সতর্কতা অবলম্বন করে। বিশেষত কিছুটা জঙ্গলমহল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশ কিছুটা অঞ্চল জুড়ে রয়েছে হাতির করিডর। প্রায় ৩০-৩৫টি হাতি প্রতিদিনই যাতায়াত করে এই করে এই করিডর দিয়ে। প্রায় সময়ই লোকালয়ে হাতের হামলা ঘটেছে। দিনে তো বটে রাতের অন্ধকারে পালের পর পাল হাতি হামলা চালায় গোটা চাষবাস এলাকা জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিকের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করেছে বনদপ্তর।অন্যদিকে
আনন্দপুর থানার অধীন সাহসপুর ঘোষাল হাইস্কুলের সামনে দেখা গেল সুন্দর দৃশ্য। আগত পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পুলিশকাকুরা তুলে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন ফুল ও কলম। অপরদিকে, পূর্ব ঘোষণামতোই জেলার বাস পরিবহন সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা বিনা ভাড়ায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরে বিধায়ক সুজয় হাজরা পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুল, কলম ও জলের বোতল তুলে দেন তাদের হাতে।উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে সামান্য বাড়লো মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৫৩১৯৬ জন। এবার রেজিস্ট্রেশন করেছে ৫৮,৭৯০ জন। তবে, শেষপর্যন্ত পরীক্ষা দিতে চলেছে প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী। গত রবিবার বিকেলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাথে চূড়ান্ত বৈঠকের পর জানিয়েছেন পর্ষদ নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা। রবিবারও জেলার দুই ছাত্রীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুভাষ বাবু। অন্যদিকে, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কোন পরীক্ষার্থী যদি মোবাইল নিয়ে যায় তার সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জল ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের জেলার ১১ টি এলিফ্যান্ট করিডোর (হাতি চলাচলের রাস্তা) রয়েছে। সেই এলাকার পরীক্ষার্থীদের বনদপ্তরের তরফে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

এই বিষয়ে বনদপ্তরের কর্মী সূর্যকান্ত ভুঁইয়া বলেন,”শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। আমাদের এলাকায় গুড়গুড়ি পাল থেকে নয়াগ্রাম রয়েছে হাতির করিডর।এখান থেকে প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫টা হাতি যাতায়াত করে।তাই এই পরীক্ষাকে মাথায় রেখেই আমরা পাহারা দিচ্ছি। আমরা সেই সঙ্গে এলাকার পুলিশদের নিয়েও আমরা এই পাড়ায় শামিল হয়েছি।যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়।”