
মেদিনীপুর 30 সে মার্চ :
এবার জেলা কংগ্রেসে প্রার্থী বদলের দাবিতে ভাঙচুর চালালো কংগ্রেস নেতা শ্যামল ঘোষ সহ কর্মী সমর্থকেরা। নেতৃত্বের দাবি টাকার বিনিময়ে জেলা সভাপতি তালিকা তৈরি করেছে, তাই এই তালিকা মানি না। যারা দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস করেছে দেওয়ার লিখন লিখেছে তারা বঞ্চিত। তাই আমরা কেশপুর দাসপুর মেদিনীপুর সহ ৬ বিধানসভার প্রার্থী বদলের দাবি জানাচ্ছি। যদিও অন্যদিকে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি জানান যারা ভাঙচুর করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ডান- বাম উভয় দলের। এবার কংগ্রেস প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে কংগ্রেস জেলা কার্যালয়ের সামনে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখালো এক দল কংগ্রেস নেতা কর্মী ও সমর্থক। রীতিমতো জেলা কার্যালয়ে ঢুকে টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করল এক প্রস্থ, যা নিয়ে উত্তেজনা সংশ্লিষ্ট এলাকায়। ঘটনাচক্রে জানা যায় গতকাল বহু প্রতীক্ষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধান সভাতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে জেলা কংগ্রেস। আর সেই প্রার্থী তালিকায় মেদিনীপুর,শালবনি, কেশপুর গড়বেতা খড়্গপুর সহ ছটি বিধানসভার প্রার্থী তালিকা না পসন্দ কংগ্রেসের একাংশের। পাশাপাশি শালবনী বিধান সভাতে শ্যামল ঘোষ এর জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে অরূপ মুখার্জির নাম।যা নিয়ে অসন্তোষ কংগ্রেস নেতা শ্যামল ঘোষের ও তার অনুগামীদের মধ্যে। গতকাল সন্ধ্যায় তালিকা প্রকাশের পরই সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিন বেলা গড়াতেই কেশপুর দাসপুর খড়্গপুর থেকে টিকিট না পাওয়া কংগ্রেস নেতা এবং তার অনুগামীরা তারা জেলা কার্যালয় ছুটে আসেন একদল কর্মী সমর্থক কে নিয়ে।এরপর তারা জেলা কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করতে থাকেন, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার ফেস্টুন এবং জাতীয় কংগ্রেসের দলীয় পতাকা। এরপরই তারা আগুন জ্বালিয়ে দেন জেলা অফিস প্রাঙ্গনে। যা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে।

এই বিষয়ে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা শ্যামল ঘোষ বলেন,”আমাদের অভিযোগ এই তালিকা নিয়ে। কারণ এই তালিকা আমরা মানি না।আমরা মনে করি জেলা সভাপতি রাতের অন্ধকারে তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে টাকা নিয়ে এই তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই দাসপুর কেশপুর খড়্গপুর মেদিনীপুর সহ আমরা ছটি বিধানসভার প্রার্থী বদলের দাবি জানাচ্ছি। এদিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন রাত্রিবেলায় মদ খেতে খেতে এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা সভাপতি যার সঙ্গে যুক্ত জেলা নেতৃত্ব। হুমকির সুরে বলেন আজকে আগুন জ্বলছে, আগামী দিনে বড় কিছু ঘটবে এই জেলায়। “
এ বিষয়ে আরেক বিক্ষিপ্ত নেত্রী ডলি রায় বলেন আমি মহিলা সভানেত্রী পিসিসিআই মেম্বার।দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস করি অথচ দাসপুরে আমাকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে প্রার্থী করেছে যিনি তিনটে পার্টি অফিস কে নিজেদের দখলে রেখেছেন।অন্য দলে যোগদান করেছেন বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে আছেন। এখানকার জেলা সভাপতি এবং কিছু নেতা টাকার বিনিময়ে এসব তালিকা পাঠিয়েছে আর সেই তালিকায় প্রকাশ হয়েছে। তাই আমরা কংগ্রেসের এই তালিকা মানি না।”

যদিও অন্যদিকে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবাশীষ ঘোষ বলেন,”টিকিট নিয়ে কারো ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু এভাবে জেলা অফিসে ভাঙচুর, আগুন ধরানো ঠিক নয়। দলগতভাবে এটা ব্যবস্থা নিতে হবে দরকার হলে সাসপেন্ড করা হবে।পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী তালিকা নিয়ে নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রার্থী তালিকা নিয়ে আমারও প্রশ্ন আছে,অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলবো।”