
মেদিনীপুর 2 রা মে :
যেসব লোক গন্ডগোল করেছে আগে বা গন্ডগোল করবে বলে মনে হয় তাদের তালিকা নিয়ে আমরা বিশেষ নজর রাখছি, আমাদের কিউআরটি টিম সেসব এলাকায় বিশেষভাবে ঘোরাফেরা করবে, মেদিনীপুরের পোস্ট পোল নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস পুলিশ সুপারের। পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন করে ১৮ কোম্পানি বাহিনী এলো পোস্ট পোল ভায়োলেন্স রুখতে।

মাঝে মাত্র আর একটা দিন এরপরই গণনা হবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের। আর তারই এখন প্রস্তুতি গোটা রাজ্য জুড়ে।যদিও ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন কাউন্টিং সেন্টার গুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, এক্সট্রা করে বাহিনী আসছে পোস্ট পোল ভায়োলেন্স রুখতে এরকমই দাবি করলেন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন প্রতিদিনই দফায় দফায় নতুন নতুন নির্দেশিকা জারি করছে আর সেই নির্দেশিকা জারি হচ্ছে গোটা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ইতিমধ্যে প্রথম দফার ভোটেই পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ নির্বিঘ্নে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ১৫ টি বিধানসভার জন্য তিনটি কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে। চন্দ্রকোনা,দাসপুর ঘাটাল মোট তিনটি বিধানসভার জন্য ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজ এ কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে।

অন্যদিকে খড়্গপুর সদর, খড়গপুর গ্রামীণ,কেশিয়াড়ি সবং, পিংলা বিধানসভা নিয়ে কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে খড়্গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়। এরপর বাকি রয়ে যাওয়া গড়বেতা, শালবনী,মেদিনীপুর, কেশপুর সেই সঙ্গে দাঁতন ডেবরা ও নারায়ণগড়ের কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে মেদিনীপুর কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুল। আগামী ৪ ঠা মে সকাল আটটা থেকে শুরু হবে এই কাউন্টিং। তবে তার আগে নিরাপত্তার দিকটা আরেকবার ঝালিয়ে নিলেন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা ও জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,”গণনা নির্বিঘ্নে করার জন্য যেমন আলাদা করে ফোর্স নেওয়া হয়েছে ঠিক তেমনি পোস্ট পোল ভায়োলেন্স রুখতে প্রায় ১৮ কোম্পানি কেন্দ্র বাহিনী এসেছে আমাদের জেলায়।

পাশাপাশি তিনি বলেন এই ফোর্সকে থানায় থানায় আমরা ব্যবস্থা করেছি রাখার সেই সঙ্গে QRT টিম করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় গন্ডগোল হয়েছিল সেসব জায়গাগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি যে সকল লোকেদের নাম গন্ডগোলের জন্য আমাদের তালিকায় এসেছে তাদের আমরা বিশেষ নজর রাখছি।” এরপর তিনি পোস্ট পোল ভায়োলেন্স নিয়ে বলেন,”চার তারিখ যে রেজাল্ট বেরোবে, সেই রেজাল্ট যেরকমই হোক না কেন, কোন পার্টি যাতে কারো উপর হামলা না করতে পারে পাশাপাশি প্রত্যেকটা নাগরিক যাতে সুস্থভাবে তাদের সাধারণ জীবন যাপন করতে পারে, কারো যেন না ক্ষয় ক্ষতি হয় সেদিকে আমরা সদা দৃষ্টি রাখবো। সেই জন্য আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

উল্লেখ্য, এই বারে মোট দু দফায় ভোটের প্রথম দফায় ভোট পশ্চিম মেদিনীপুর সহ ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হয় কলকাতা সহ প্রায় ১৪২ টি কেন্দ্রের। প্রথম দফায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা খড়গপুর সহ মোট ১৫ টি বিধান সভার নির্বাচন এক সঙ্গে হয় যা মেদিনীপুর,খড়গপুর ও ঘাটালের কাউন্টিং সেন্টারে বন্দি রয়েছে ইভিএম।এই ভোটে মনোনয়ন তোলা জমা দেওয়ার সময় ছিল ৬ ই থেকে ৯ ই এপ্রিল,ভোট গণনা আগামী ৪ ই মে। জেলা নির্বাচন কমিশন তথা জেলাশাসকের তথ্য অনুযায়ী এবারে পশ্চিম মেদিনীপুর ১৫ টি বিধানসভায় ১২২ জন প্রার্থী লড়াই করছে। এবারে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ লক্ষ ৭০,৭৯৪জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৪৬ জন স্ত্রী ভোটার ১৮ লক্ষ ১৮,৫১,২২৮ জন।

তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা ছিল ২০ জন।পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভার মোট পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ছিল ৪৩৩৩ টি অক্সুলারি হিসেবে ৪৭৫৩ টি ছিল। মহিলা বুথে সংখ্যা ৪০৮ টি। মডেল বুথ এর সংখ্যা ১৫ টি টি।কমিশন সূত্র অনুযায়ী যেহেতু ভোট নিতে যাওয়া পুরুষদের সংখ্যা কম তাই মহিলাদেরকে এগিয়ে আনার জন্যই মহিলা বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল,নেওয়া হয় মহিলা বাহিনী।এবার অপেক্ষা ফলাফলের।