
শিরোমণি 28 সে এপ্রিল :
ডিজিটাল যুগেও ঘাম শুকাতে জুড়ি নেই তাল পাতার পাখার। এসি কুলারের মধ্যেও তাল পাতা কেটে পাখা বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরের ঘোড়ুই পাড়ার বাসিন্দারা। তবে ২-৫ টাকার পাখা দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫-৩০ টাকা। ভোট যেতেই আবার পুরনো কাজে মন শিল্পীদের। তবে জলের সংকট নিয়ে

একসময় মা ঠাকুমাদের ঘুম পাড়ানি গান আর তালপাতার পাখায় প্রাণ জুড়াতো সত্তর আশির দশকের শিশু কিশোরদের। এরপর এসি কুলার ফ্যান এবং ডিজিটাল দাপটে হারিয়েছে সেই পাখার চাহিদা। কিন্তু এখনো লোডশেডিং হলে প্রয়োজন পড়ে সেই তালপাতার ঠান্ডা হাওয়ার পাখা। যার জুড়ি মেলা ভার আজকের যুগেও। সদ্য প্রথম দফার ভোট ফুরিয়েছে আর ভোট ফুরোনোর পরেই ফের পুরোদমে সেই কাজে নেমে পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরের শিরোমনি অঞ্চলের ঘোড়ুই পাড়ার বাসিন্দারা।কারণ সেই তালপাতার পাখা তৈরি করার সেই নস্টালজিয়ার অভ্যাস ছাড়তে পারেনি এখনো এই ঘোড়ুই পাড়া এলাকার মানুষেরা। পাড়ার ৭০ টি পরিবার আর তার অধিকাংশই এই তাল পাতা পাখার উপর ভরসা করেন নিজেদের জীবন জীবিকা।
এই পাখা তৈরির প্রণালী হল – প্রথমে ঘরের পুরুষেরা তাল গাছের বড় বড় পাতা কেটে আনেন। এরপর সেই গুলোকে শুকিয়ে ঝাড়ায় মোছায় করে কেটে রেডি করা হয় পাখা তৈরীর স্ট্রাকচার। এরপর বাড়ির মহিলারা নারকেল কাঠি দিয়ে তাকে সূঁচ সুতার মাধ্যমে সেলাই করে তৈরি করেন এক একটি সুন্দর তালপাতার পাখা।আর সেই পাখার হাওয়াতে ভরে ওঠে মন।

এই বিষয়ে শিল্পী বলেন অঞ্জলি ঘোড়ুই,সবিতা ঘোড়ুই বলেন,” দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে এই তাল পাতার পাখা করে আসছি আমরা। পুরুষরা গাছের ডালা পাতা কেটে আনে।এরপর সেগুলো কেটে সূঁচ সুতো দিয়ে সেলাই করে এই পাখা বানানো হয়। আগে ২-৫ টাকা করে বিক্রি হতো।এখন ২০-২৫ টাকা করে পিস বিক্রি হয়। আমরা হোল সেলার ও বিক্রি করি। তবে আমাদের পাড়ার কয়েকটা পরিবার এখনও সেই ট্র্যাডিশন বজায় রেখেছি।”

শিল্পী বিকাশ ঘোড়ুই বলেন,” এই গরম পড়লে এই চাহিদা বাড়ে। আগে কম দাম ছিল এখন দাম বেশি। তবু মানুষ কেনে। কারণ এই নস্টালজিয়া পাখা এখনও মানুষ কিনতে চাই। আমাদের গ্রামে অনেক গুলো ফ্যামিলি এই কাজ করে জীবন জীবিকা চালায়।