
মেদিনীপুর 12 ই মে :
নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন মেদিনীপুরের সাঁতারু। গতবারের ৩৪ কিলোমিটারের রেকর্ড ভেঙে তিনি এবার ৩৫ কিলোমিটার পক প্রণালী অতিক্রম করলেন মাত্র সাত ঘন্টা পাঁচ মিনিটে। মেদিনীপুরে ফিরতেই সম্বর্ধনায় ঝড়, আপ্লুত আফরিন বললেন সবার সাহায্য নিয়েই এই কঠিন কাজ সম্ভব হয়েছে।

টানা একের পর এক রেকর্ড গড়ছে পশ্চিম মেদিনীপুর এর মেয়ে আফরিন আর তার কীর্তিতে খুশি মেদিনীপুর। ইংলিশ চ্যানেলের পর এবার দুর্গম। ৩৫ কিলোমিটার এর পক প্রণালী অতিক্রম আফরিনের। এরপরই মেদিনীপুরে ফিরতেই তাকে ঘিরে সম্বর্ধনার ঝড় গাড়ি করে ঘোরান হল সারা শহর। মূলত মেদিনীপুর শহরের দেওয়ান বাবার চকের বাসিন্দা হলো এই আফরিন জাবি। বছর ২৪ এর আফরিন থাকেন বাবা শেখ পিয়ার আলি, মা সাবিনা পারভিনের সঙ্গে থাকেন। ছোট থেকে সাঁতরে বেড়ান এই যুবতী। গত ২০২৫ সালে ২৯ শে জুলাই আফরিন ইংলিশ চ্যানেল জয় করেছিলেন। সেই সময় ৩৪ কিমি সেই জলপথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। সেই জয় করার পর ফিরে আসতেই তাকে ঘিরে সম্বর্ধনার ঝড় উঠে, শুধু জেলা নয় রাজ্য এবং দেশেও নাম ছড়িয়ে পড়ে এই যুবতীর। তখনই সে তার স্বপ্নের কথা জানায় এবং জানিয়েছিল যে তার নেক্সট টার্গেট হচ্ছে পক প্রণালী।

অবশেষে স্বপ্ন পূরণে আফরিন গত ৯ ই এপ্রিল শনিবার ভোরে তিনি শ্রীলঙ্কার থালাইমান্নার থেকে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। একটানা ৭ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতরে সকাল ১০ টা ৪০ মিনিট নাগাদ সফল ভাবে তিনি পৌঁছন তামিলনাড়ুর ধনুষকোডিতে। এরপরই তিনি উচ্ছাসে ফেটে পড়েন। তিনি জানান, নিজের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, জয় করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে, এই পক প্রণালী জয় করতে তাঁকে কম বাধা সম্মুখীন হতে হয়নি। পক প্রণালী পারের জন্য যে বিপুল অর্থ দরকার ছিল, তা কী করে জোগান দেওয়া হবে, সেই চিন্তাই বড় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেদিনীপুর রোটারি আই হসপিটাল এবং রোটারি ক্লাবের তরফে আফরিনকে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকার সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাই এদিন ফিরতেই তাকে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সম্বর্ধনা দেবার জন্য। হুডখোলা গাড়িতে করে গোটা শহর পরিক্রমা করা হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল শহরে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,২০২৫ সালের ২৯ শে জুলাই আফরিন ইংলিশ চ্যানেল জয় করেছিলেন। সেই সময় ৩৪ কিমি সেই জলপথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। এ বার ভারত শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী পক প্রণালী ৩৫ কিলোমিটার জলপথ ৭ ঘণ্টা ৫ মিনিটেই অতিক্রম করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন আফরিন।

এ বিষয়ে আফরিন জাবি বলেন,”গতবারের দুর্গম পরিস্থিতির সঙ্গে এবারে জেলিফিশরা দল বেঁধে আক্রমণ করেনি বরং তারা সিঙ্গেল সিঙ্গেল স্ট্রিং নিয়ে তার চারিদিকে ঘোরাফেরা করেছে। তবে এবারের আর্থিক একটা বড় সমস্যা ছিল সে দিক দিয়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছে সাহায্য করার জন্য যা বকলমে স্বীকার করে নিয়েছে আফরিন।