
সবং 26 সে মে :
“এককভাবে অভিষেককে দোষ দিয়ে লাভ নেই, দল যা করেছে কালেক্টিভলি করেছে ” দলের ভরাডুবিতে সাফাই তৃণমূলের দোদন্ড প্রতাপ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা বললেন,’আমি শুভেন্দু কে দেখে গর্বিত হই’।

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি ঘটেছে ধরাশায়ী হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই ঝড়ে পরাজিত হয়েছে চিরদিনের সবং এর অপরাজেয় প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। দীর্ঘ আট বারে জেতা বিধায়ক তিনি খড়্গপুরের কংগ্রেস বিধায়ক জ্ঞান সিং সোহন পাল ওরফে চাচাজির পরই তিনি জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন কিন্তু ২০২৬ সালের তা তিনি ধরে রাখতে পারলেন না পরাজিত হলেন বিজেপির কাছে। গোটা রাজ্যেই তৃণমূল ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়েছে। আর তারপর দীর্ঘদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন এই তৃণমূলের একসময়ের দোদন্ড প্রতাপ মন্ত্রী নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়া। তবে মুখ খুলেই তিনি প্রশংসা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, সেইসঙ্গে এই ভরাডুবির জন্য দলের সঙ্গে অভিষেককেও দায়ী করলেন।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাকে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,” যেমন আমি মেদিনীপুরের ঠিক তেমনি উনিও মেদিনীপুরের সন্তান। তাকে যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখি তখন আমি গর্বিত হই। তবে তারপরেই তাকে হাত জোড় করে অনুরোধ করি আপনি মুখ্যমন্ত্রী আপনি মেদিনীপুরের সঙ্গে বাংলাকেও দেখুন। মানুষের চোখের জল মোছান,শান্তি আনুন। তবে তিনি যদি দেখা করার জন্য ডাকেন অবশ্যই ১০০ বার যাবো। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি অভিযোগ নিয়েও সোচ্চার হন। তিনি বলেন তিনি যে জিতেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন আছে আইনের ব্যাখ্যা আছে। তবে এ বিষয়ে পদ্ধতিগত কোন কথা আমি বলতে পারব না তবে তিনি এক।বাক্যে স্বীকার করে নেন, যারা জয়ী হয়েছে তারা জয়ী হয়েছে, যারা পরাজিত হয়েছে তারা পরাজিত-ই। তাকে মান্যতা দেওয়ায় আমাদের প্রধান কাজ।

এরপরেও যদি এই জয় পরাজয় বা জেতা হারা প্রসঙ্গ থাকে তাহলে কোর্ট আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং সেই কোর্টে যাওয়া দরকার বলেও তিনি তার বক্তব্যে জানান। তিনি রিপ্রেজেন্ট অফ পিপেলস এ্যাক্ট ১৯৫০-৬০ এর কথা উল্লেখ করেন। কোন দল আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও তিনি দাবি করেন সেই সঙ্গে এসআই আর যে বড় আঘাত করেছে সেটা তিনি পরোক্ষ স্বীকার করে নেন। এরপর দলের ভরাডুবিতে অভিষেক এককভাবে দায়ী হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,’ অভিষেক কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে, কখনোই কোর কমিটির উপরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। পয়েন্ট তিন নাম্বার হিসেবে তিনি বলেন হারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খারাপ হয়ে গেল আর এর হারের তার সঙ্গে দেখা করার জন্য লাইন পড়ে থাকত। তবে তিনি দেখায় করতেন না বা ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হতো এই প্রসঙ্গে তিনি একেবারে না বলেই দায়-দায়িত্ব এড়ান।

পাশাপাশি তিনি বলেন ‘খারাপ হলে আমি দায়ী আর ভালো হলে তুমি’এই প্রচলিত ধ্যান ধারণা থেকে মুক্তি চাই। তিনি এও বলেন এককভাবে অভিষেককে দোষ দিয়ে লাভ নেই, দল যা করেছে কালেক্টিভলি করেছে, এককভাবে কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।’ যদি ওই দিন আইপ্যাক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান পুরোপুরি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়া ভোটের আগে একের পর এক স্লোগান দিয়ে ভোটে প্রচার করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তুমি একাধিকবার জয়ী হয়েছেন এই সবং থেকে, কখনো নিজে দাঁড়িয়ে কখনো তার স্ত্রী গীতা রানী ভূঁইয়া কে দাঁড় করিয়ে। এখন দেখার দীর্ঘদিনের কংগ্রেসের এই নেতা একসময় যিনি তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে এবং মন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি হন তিনি এখন বিজেপির দিকে পা বাড়ান কিনা ?