Midnapore Lottery : মেদিনীপুরে জাল লটারির রমরমা! গোপনে অভিযান চালিয়ে মূল মাথা সহ আট জন গ্রেফতার, পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু

Share

মেদিনীপুর 27 সে মে :

মেদিনীপুরে জাল লটারির রমরমা অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালালো কোতোয়ালি পুলিশ। আর সেই অভিযানে ধরা পরলোম এই চক্রের মূল পান্ডা হরপ্রসাদ নাগ ওরফে হারু সহ মোট ৮ জাল লটারি বিক্রেতা। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে।

এর আগে রাজ্যের ভিন্ন জেলায় জাল লটারির রমরমার খবর সামনে এসেছে এবার খোদ বিপ্লবী শহর মেদিনীপুরের জাল লটারির রমরমা এবং তাতে অভিযান চালালো পুলিশ। আর তাতেই সাফল্য পুলিশের মূল মাথা সহ আট জনকে গ্রেফতার। যা নিয়ে চাঞ্চল্য মেদিনীপুর জেলা শহরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়িই মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন শুধুমাত্র জাল লটারি বিক্রির কাজ করলেও পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করত শহরের বড়তলা চকের হারু। এলাকায় সে কার্যত ‘বেতাজ বাদশা’হয়ে উঠেছিল বলেই দাবি পুলিশের। গত সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ ও ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। শহরের একটি দোকান থেকে প্রথমে আটক করা হয় হারুকে।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একে একে আরও সাতজনকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জেরার পর সকলকেই গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। জেলাবাসীর দাবি, গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি মেদিনীপুর শহরেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে লটারির দোকান। প্রতিদিন জেলাজুড়ে কোটি টাকার লটারি বিক্রি হয় বলে অনুমান। আর সেই বাজারকেই কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে চলছিল জাল লটারির ব্যবসা। মেদিনীপুর শহর ছাড়াও কেশপুর,গড়বেতা, চন্দ্রকোনা রোড, দাঁতন থেকে খড়গপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় এই জাল লটারির নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত লটারি মানেই রাতারাতি ভাগ্য বদলের হাতছানি। বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সামান্য টাকায় বড় স্বপ্ন দেখেন।

কেউ কেউ সত্যিই লাখপতি বা কোটিপতি হয়ে এলাকায় পরিচিত মুখে পরিণত হন। আবার বহু যুবক এই লটারি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে ভাগ্য সহায় না হলে অনেকেই সর্বস্বান্তও হয়ে পড়েন। আর এই লটারি কাটতে দেখা যায় সাধারণ মানুষ থেকে শিক্ষক ডাক্তার এমনকি খোদ পুলিশ কর্মীদেরও। এই বিষয়ে এক লটারির ক্রেতার কথায়, জাল লটারি দেখতে হুবহু আসলের মতো। রেজাল্টও আসল লটারির সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। পাঁচটা জাল লটারির দাম পড়ে প্রায় ৩০ টাকা। কিউআর কোডও থাকে। তবে কাগজের মান আলাদা। শুনেছি মেদিনীপুরেই ছাপা হত এগুলো। অন্য এক লটারি বিক্রেতার বিস্ফোরক দাবি, জাল লটারিতেও প্রাইজ ওঠে। ধরুন লটারি বিক্রি করে বাজার থেকে ১০ কোটি টাকা তোলা হল, তার মধ্যে ১ কোটি টাকা পুরস্কার হিসেবে বিলিয়ে দিলেই বাকিটা লাভ। সরকারকেও কোনও রাজস্ব দিতে হয় না।এই কারবারে জেলার বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত।

এ বিষয়ে মেদিনীপুর কোতোয়ালির এক পুলিশ আধিকারিক বলেন,” গোপন সূত্র পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে আর তাতেই এই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের আমরা আদালতে তুলে সাত দিনের pc চেয়েছিলাম কিন্তু চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিচারক। এদেরকে আমরা হেফাজতে নিয়ে বাকি তদন্ত খতিয়ে দেখা হবে। এদের সঙ্গে আর কোথায় কোথায় কে কে জড়িত রয়েছে সেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও আমরা সামনে আনার চেষ্টা করছি।ঘটনা প্রসঙ্গে মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, আমাদের সরকার কোনও অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। যারা দোষ করবে, তারা শাস্তি পাবে।

উল্লেখ্য,রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় লটারির প্রচলন থাকলেও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও পুরুলিয়ায় এর জনপ্রিয়তা তুলনামূলক বেশি। আর সেই জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়েই জঙ্গলমহলে বেআইনি জাল লটারির কারবার দ্রুত বাড়ছিল বলে অভিযোগ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in