
মেদিনীপুর 28 সে মে :
অবশেষে গ্রেপ্তার লক্ষী ভান্ডারে নায়ক উত্তম কুমার সাউ। যদিও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করে এদিন কোর্টে চালান করে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন এই ধরনের কাজে আরো কতজন জড়িত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবশেষে পুলিশ উত্তম সাউকে গ্রেফতার করলো আর তদন্ত শুরু করল লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে। ঘটনাচক্রে বলা যায় যে সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের মনোহরপুর (২) গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুরের বাসিন্দা উত্তম কুমার সাউ। পেশায় তিনি ঠিকা কর্মী সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের নেতা। এলাকার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ছিল এলাকার এই তৃণমূল নেতা পেশায় ঠিকা কর্মী উত্তম কুমার সাউ লক্ষীর ভান্ডার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে টাকা তোলে।তাদের প্রশ্ন ছিল লক্ষীর ভান্ডার মহিলাদের হলে উত্তম কি করে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছে, একজন ছেলে হয়ে। এই ঘটনায় পড়ে শোরগোল। এই উত্তম সাউকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা যায়। বিতর্কের কারণ হলো এই উত্তম কুমার সাউ তৃণমূল সরকারের দেওয়া লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছে তা নিজের একাউন্টে এবং সেই টাকা পাচ্ছে দীর্ঘ ২০২২ সাল থেকে।

এই ঘটনায় জোর সওয়াল করে বিজেপি, পাশাপাশি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে তারা এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে লিখিত অভিযোগ জানায়। যদিও সেই ঘটনা কেটে গেছে কয়েকদিন। এরপর সোশ্যাল মাধ্যমে খবর দেখে নড়ে চড়ে বসলে জেলার পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, সোশ্যাল মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরই এলাকায় খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই উত্তম কুমার সাউ কে গ্রেফতার করা হয়। কেননা লক্ষ্মীর ভান্ডার যা মহিলাদের প্রাপ্য তা কি করে সে নিজের একাউন্টে ২০২২ সাল থেকে টাকা পাচ্ছে তার খতিয়ে দেখার জন্যই এই গ্রেপ্তার। তার বিরুদ্ধে ফ্রড, ভুয়ো তথ্য দেওয়ার সেই সঙ্গে একাধিক অভিযোগ নিয়ে মামলা করেছে পুলিশ। এদিন তাকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হয় এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ বলে দাবি জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানের। এদিন তিনি একটি সাংবাদিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই লক্ষীর ভান্ডারের আসল রহস্য উদঘাটন করেন এবং বলেন এই ঘটনা সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার এবং সেই তদন্ত চলবে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,”আমরা সোশ্যাল মাধ্যম দেখে এই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করি। খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় সে ২০২২ সাল থেকে এই লক্ষীর ভান্ডার একাউন্টে টাকা পাচ্ছে। কিভাবে হচ্ছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তাও খুঁজে দেখছি আমরা। এছাড়া জেলায় আর কতজন এরকম লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছে তাও আমরা তদন্ত করে দেখছি।