
পিংলা 29 সে মে :
এবার পাকিস্তানি চক্র পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায়। অভিযোগ, ভারতীয় সিম ব্যবহার করে পাকিস্তানি আইএসআই কর্তাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের OTP সরবরাহ করা হত। অভিযোগ, মোবাইল সিমের OTP বিক্রির মাধ্যমে চলছিল আন্তর্জাতিক চক্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন আমরা পুরো অন্ধকারে কিছুই জানি না।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ক্ষীরাই গ্রাম থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুরসলিন ও গৌতম খাঁড়া নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। জানা গেছে, প্রতি OTP-র জন্য মিলত মোটা টাকা।মূলত ভারতের সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে এখানকার চরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন পাক গুপ্তচর সংস্থার অফিসাররা। একদিকে ওটিপি বিক্রি অন্যদিকে তথ্য পাচারের অভিযোগ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক সিমকার্ড। অভিযুক্ত মুরসলিন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় গিয়েও আইএসআই কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছিল। গোপন সূত্রে বেঙ্গল এসটিএফ অফিসারদের কাছে খবর আসে, পিংলার একটি দোকান থেকে ভুয়ো নথি জমা করে প্রচুর সিম তোলা হচ্ছে। সেগুলি কারা কিনছে তাই নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। যে মোবাইল কোম্পানির সিম তোলা হয়েছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা হয়েছে।

পিংলার যে সিম বিক্রেতার কাছ থেকে এই সিম কেনা হচ্ছিল সেখানে যান তদন্তকারীরা। সেখানে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্ত কারি অফিসারদের। তার স্টক পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, মাসে কয়েক হাজার সিম বিক্রি হচ্ছে। এরপর গৌতম খাঁড়া সম্পর্কে ওই দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই সিম কিনছে সেখানকার বাসিন্দা মুরসলিন। একটি একটি সিম কেনা হচ্ছে পাঁচ থেকে ছশো টাকা দিয়ে। এরপরই মুরসালিনকে ধরা হয় গ্রাম থেকে। তাকে জেরা করতেই জানা যায়, ভারতীয় সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলছেন পাক আইএসআইয়ের কর্তারা। সে ওটিপি সরবরাহ করছে। এক একটি ওটিপি বেচে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা রোজগার হচ্ছে। তারপরই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। মুরসালিনকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে পাক আইএসআই অফিসারের পরিচয় হয়।

ভারতীয় সিমের ওটিপির বিনিময়ে মোটা টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে। এই টোপ গিলে সে সিম কিনে ওটিপি সরবরাহ শুরু করে। পরে তার সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থার অন্য অফিসারদের সঙ্গে পরিচয় হয়। ভারতীয় সিম দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মধ্যেমে আইএসআই কর্তরা এখানকার চরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। অভিযুক্ত মুরসালিন চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, কতজন পাক আইএসআই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল, কী কী তথ্য পাচার করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পিংলার বিভিন্ন এলাকায়।এই ঘটনায় সম্পূর্ণ আঁধারে জেলা পুলিশ বলে এইদিন দাবি করলেন জেলার পুলিশ সুপার।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,” পিংলায় এসটিএফ অভিযান চালিয়ে দুজন কে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ OTP দিয়ে তথ্য পাচার করত পাকিস্তানে। পুরো বিষয়টা ওদের এর বেশি কিছু জানি না। আমাদের কি কিছুই জানায় নি।”