
খড়গপুর 15 ই জুন :
খড়্গপুরে পিআইবি-র ‘বার্তালাপ’ কর্মশালায় গ্রামীণ আর্থিক ও কৃষি উন্নয়নে নাবার্ড ও ব্যাঙ্কিং উদ্যোগের পর্যালোচনা কৃষিঋণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও উদ্যোগপতি গড়ে তোলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা।এইদিন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আই আই টি খড়্গপুরের প্রফেসর ডক্টর ভার্গব মৈত্র, গভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার এম আই বি EZ জেনারেল ডিরেক্টর টি ভিকে রেড্ডি, ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা সৌম্য সংকর সড়ঙ্গী, নাবার্ড DDM আকাশ শর্মা, পিএনবির লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার কাঞ্চন কান্তি দাস, সৈকত সাঁতরা প্রমুখেরা। পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পিআইবির অধিকর্তা সৃজিতা সাহা-সাহু।

পশ্চিম মেদিনীপুর সেই সঙ্গে ঝাড়গ্রামের সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে এক বার্তালাপ অনুষ্ঠানে সামিল হল কলকাতা পিআইবি। মূলত এই বার্তালাপের উদ্দেশ্যই হল পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্যর সুবিধা অসুবিধা, সেইসঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি করন। এদিন এই বার্তালাপ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ সহ কলকাতা PIB অধিকর্তারা। খড়গপুর শহরের একটি লজে সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে একাধিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়। তাতে যেমন জেলা রাজ্যের দুর্ঘটনা কমানো বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয় ঠিক তেমনি স্বাস্থ্যের পরিকাঠামোর উন্নতি অবনতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা হয় আর্থিক বিষয়গুলি নিয়েও। পাশাপাশি মিডিয়া কর্মীদের ডিজিটাল প্লাটফর্মে সুযোগ সুবিধা নিয়েও আলাপ আলোচনা করেন প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো অধিকর্তারা।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং ভুয়ো তথ্যের মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী রেড্ডি সরকারি নীতি, কর্মসূচি এবং জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প সম্পর্কে দেশের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি পিআইবিকে ভারতের ‘প্রচার ব্যবস্থার জননী’ হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান সরকার, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধনের কাজ করে।রেড্ডি বলেন, সরকার যখনই কোনও নতুন নীতি, কর্মসূচি বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে, তখন সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল মাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পিআইবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণ সরকারি কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর তথ্যপ্রচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আয়ুষ্মান ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, যাতে তাঁরা প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন। গ্রামীণ পরিকাঠামো, কৃষি উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জীবিকাভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে এই কর্মশালায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি এই কর্মশালায় নাবার্ডের জেলা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক (ডিডিএম) আকাশ শর্মা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (এলডিএম), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, কাঞ্চন কান্তি দাস কৃষক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করেন।

আকাশ শর্মা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রদান সহজ করা এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নাবার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (আরআইডিএফ)- এর মাধ্যমে প্রায় ৪% সুদের হারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক। আকাশ শর্মা জানান, খড়্গপুর অঞ্চলে বর্তমানে নাবার্ডের সহায়তায় প্রায় ৪০৭টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। শর্মা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার ঘটাতে নাবার্ড সু-স্বাস্থ্য কেন্দ্র গ।ঠন এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি সুস্থায়ী কৃষি এবং গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে নাবার্ড-সমর্থিত একাধিক পরীক্ষামূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।কর্মশালার শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়,

যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। এরপর শেষে সার্টিফিকেট প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই অনুষ্ঠান।