Dilip Ghosh : মানস ভুঁইয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জ্যোতিষী বলতে পারবে, বিজেপি নয়! বিজেপিতে যোগ নিয়ে সোজা সাপটা দিলীপ ঘোষ

Share

খড়গপুর 15 ই জুন :

‘মানসদার এখন সাহস হয়েছে আমার নামে ভালো ভালো কথা বলার’ খড়্গপুরে এক বার্তালাপ অনুষ্ঠানে এসে মানস রঞ্জন ভূঁইয়াকে নিয়ে সোজা সাপটা ভাষায় মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। দিলীপ ঘোষ বলেন, এখন সব পার্টির দরজা তৃণমূলের জন্য বন্ধ,ওনারা যেখানে যা পাচ্ছেন নতুন পার্টি করে ঢুকে পড়ছেন। মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জ্যোতিষী বলতে পারবে, বিজেপি না।

তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত।গত শনিবার দল ছেড়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী প্রবীণ নেতা মানস ভূঁইয়া। তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর হঠাৎ এভাবে দল ছাড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো দলে যোগ দিচ্ছেন কিনা তা এখনো পরিস্কার নয়। এই নিয়ে এইদিন দিলীপ ঘোষ কে জিজ্ঞেস করা হলে দিলীপ ঘোষ সোজা সাপটা উত্তরা দেন। এদিন এই পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ খড়্গপুর এসেছিলেন সাংবাদিকদের নিয়ে বার্তালাপ এক অনুষ্ঠানে। সেখানেই অনুষ্ঠান শেষ পর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। এদিন সাংবাদিকরা দিলীপ ঘোষ কে বলেন তৃণমূল প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ভালো, আপনার সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলে। যদিও এই নিয়ে পাল্টা দিলীপ ঘোষ বলেন মানস দা কে সিনিয়ার দাদা হিসেবে দেখি আমি।

উনি যদি আমার নিন্দা করেন তাতেও আমার করার কিছু নেই।আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। আগে উনি প্রশংসা করার সাহস পেতেন না, বলতে পারতেন না এখন বলার সাহস পেয়েছেন। বিজেপির দরজা খোলা হবে কি মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার জন্য এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন আমাদের স্টেট প্রেসিডেন্ট ঢোকার দরজায় বড় তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আর কিছু করার নেই। বিজেপি কি মানস রঞ্জন ভূঁইয়া কে পেতে আগ্রহী এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন আমরা কাউকে পেতে আগ্রহী নই, ২০৮ টা সিট দিয়ে জনতা আমাদের সঙ্গে আছে আর কাউকে আমাদের দরকার নেই। পাশাপাশি মানসের উদ্দেশ্যে দিলীপের বার্তা ওনারা আগে ঠিক করুন কার কি লাগবে? এখন সব পার্টির দরজা তৃণমূলের জন্য বন্ধ,ওনারা যেখানে যা পাচ্ছেন নতুন পার্টি করে ঢুকে পড়ছেন। তবে শেষ পর্যায়ে দিলীপ ঘোষ বলেন মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জ্যোতিষী বলতে পারবে, বিজেপি না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই ডাকাবুকো নেতা মন্ত্রী একসময় কংগ্রেসের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং সভাপতি ছিলেন জেলায়। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ২০১১ সালে বামফ্রন্ট কে হটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। তখন মানসবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। পরে সেই জোটে ভাঙন ধরে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে গেছেন এই কংগ্রেস নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়া তৎকালীন সময়ে। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এ এক রাজনৈতিক ঘটনায় তার নাম যুক্ত হওয়ায় অবশেষে পুলিশে অভিযোগ হওয়ার পরে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি মমতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তৃণমূলে ঢুকে পড়েন। তৃণমূলে ঢোকার পরে তিনি কংগ্রেসকে বেনজির আক্রমণ করেন। এরপর তৃণমূল তাকে মন্ত্রী বানায়,রাজ্যসভার সদস্যও করে।

এতদিন ধরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে এক একাধিক মন্তব্য করে আসছেন এবং এলাকায় একাধিক মামলা দিয়েছেন বিজেপি নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৬ সালে পালাবদলের পর ফের বেসুরো হয়ে উঠেছেন এই ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা। দলের ভরাডুবিতে তিনি তৃণমূল নেত্রীকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছেন।এখন কানাঘুষ শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি বিজেপিতে যোগ দেবেন বড় নেতার হাত ধরে। যেই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা দিলীপ ঘোষ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in