Zilla Parishad : ‘জেলা পরিষদ থেকে কোটি কোটি টাকা IPAC কে দিয়ে ভোট করিয়েছেন তার আগে তদন্ত হোক’ হুল দিবস অনুষ্ঠানে এসেও বাইরে থেকে ফিরে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

Share

মেদিনীপুর 30 সে জুন :

‘এত তাড়াতাড়ি আমি মঞ্চ শেয়ার করতে পারব না,আগে আমার বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি আইপ্যাক কে কোটি কোটি টাকা দিয়ে দুর্নীতি করেছেন,ভোটে খরচা করেছেন তার আগে তদন্ত হোক তারপর মঞ্চ শেয়ার’ হুল দিবস অনুষ্ঠানে এসেই বাইরে থেকে ফিরে গেলেন বিজেপি বিধায়ক যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক জেলায়।

মঙ্গলবার ছিল গোটা রাজ্যে হুল দিবস আর এই হুল দিবসকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মত সমস্ত জেলায় বিশেষভাবে পালিত হয়েছে মহা ধুমধামে। এদিন মেদিনীপুর জেলা শহরে প্রদ্যুৎ স্মৃতি সদনে হুল দিবসে জেলাস্তরীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই মঞ্চে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা,জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত,ভদ্র হেমব্রম,নারায়ণ গড়ের বিজেপি বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, তৃণমূল জেলা পরিষদের জেলা সভাধীপতি প্রতিভা রানী মাইতি, তৃণমূল বিধায়ক দিনেন রায় সহ অন্যান্যরা। এদিন হুল দিবস শুরু হলেও নারায়ণগড়ের বিজেপি বিধায়ক রমা প্রসাদ গিরি সভা মঞ্চ ঢোকার আগেই বাইরের গেট থেকেই তিনি ফিরে গেলেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। এই ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক রামপ্রসাদ গিরির মন্তব্য,”তৃণমূল পরিচালিত এ জেলা পরিষদ থেকে কোটি কোটি টাকা ভোটের জন্য খরচা করেছে এই তৃণমূলের জেলা সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি এবং তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা সহ তৃণমূল নেতৃত্ব।

তার আগে তদন্ত হওয়া উচিত। কারন আমি যেখান থেকে জিতেছি সেই নারায়ণগড়ের ভোটে আমার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ থেকে কোটি কোটি টাকা IPAC কে দেওয়া হয়েছে, ভোটের কাজে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য। সেই ঘটনার আগে তদন্ত হোক তার আগে এত তাড়াতাড়ি আমি যার বিরুদ্ধে লড়লাম সেই তৃণমূল জেলা পরিষদ পরিষদের সভাধীপতি প্রতিভা মাইতির সঙ্গে এক মঞ্চ শেয়ার করতে পারব না। পাশাপাশি তিনি এও বলেন এলাকার জনগণ তার বিরুদ্ধে আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। আমি যদি মঞ্চ শেয়ার করি তারা আমাকে ক্ষমা করবে না।”এই বলেই যদিও বিজেপি বিধায়ক বাইরে থেকে সটান গাড়িতে চেপে রওনা দেন নিজের গন্তব্যস্থলে। আর তা নিয়ে জেলায় নতুন বিতর্ক।

যদিও এই নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের। এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের জেলা সভাধিপতি প্রতিভা রানী মাইতির মুখেও। এ বিষয়ে মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর কুমার গুছাইত কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,’ এটা সরকারি অনুষ্ঠান, এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা মত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কেউ যদি অংশগ্রহণ না করে তার বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। এটা সম্পূর্ণ উনার ব্যাপার। ‘

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০২৬ এর নির্বাচনে পাল বদলের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতারি চলছে।। তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার মুখে তাদেরকে ডিম মেরে প্রতিবাদ করছে সাধারণ মানুষ এবং বিজেপিরা। যদিও এখনো ভোট না হওয়ায় পৌরসভা,জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত,বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাসীন রয়েছে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। কেউ পৌরসভার চেয়ারম্যান কাউন্সিলর তো কেউ তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের জেলা সভাধিপতি । আবার কেউ কেউ বিধায়ক রয়েছেন এলাকায়। আর এক্ষেত্রে একই মঞ্চ শেয়ার নিয়ে ক্ষোভ জন্মেছে বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in