
খড়গপুর 7 ই জুলাই :
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের জবাব দিলেন দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দুর পাশেই থেকে তাকে দলীয় মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করালেন তিনি। পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশ্যে বললেন পালিয়ে থাকলে চলবে না, ভোটে জিতেছেন, কাজ বন্ধ থাকলে পুলিশ দিয়ে তুলে আনব, ঠিক এরকমই কটাক্ষ করলেন খড়্গপুরে এসে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কলকাতায় বেশি সময় দিচ্ছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি তার বিধানসভায় এলাকাতেও মর্নিংওয়াকের সঙ্গে মানুষের অভাব অভিযোগও শুনছেন এ রকমই এক মর্নিং ওয়ার্কের পর তিনি মুখোমুখি হন সাংবাদিকের সঙ্গে এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মূলত গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্বন্ধে একাধিক মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন” শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। তাকে কে কি বলছেন তাতে যায় আসে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা ছিলেন একাই থাকতে হবে। দলটা তো সার্কাস হয়ে গেছে। তবে আমরা চাইছিলাম যোগ্য বিরোধী দল একটা থাকুক।’এরপর রোষের চাপে ফেরার থাকা পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন,’ পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধানদের উদ্দেশ্যে বলেন,’জনগণের ভোটে জিতেছেন, পালিয়ে থাকলে চলবে না। পঞ্চায়েতের কাজ বন্ধ করে বসে থাকলে পুলিশ দিয়ে তুলে আনব। দরকারে বাড়ি ঘেরাও করা হবে। ডিমের বদলে ইঁট ছোড়া হবে! মানুষের পরিষেবা দিতে হয় আপনাকে।’

উল্লেখ করা যায়, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের টিকিটের জেতা পঞ্চায়েত প্রধান ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের পুরনো কর্মকান্ডের জন্য স্থানীয় বিজেপি ও ক্ষুব্ধ লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া শুরু করেছে।। দুর্নীতির অভিযোগে ঐ সমস্ত নেতাকর্মীদের ডিম ছুঁড়ে মারধর করা হচ্ছে। বিজেপি কর্মী সমর্থক ও সাধারনদের গণরোষে বহু তৃণমূল নেতাকর্মী জনপ্রতিনিধি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিনই। এই আশঙ্কা থেকেই আক্রমণের ভয়ে রাজ্যজুড়ে প্রায় দুই হাজার পঞ্চায়েত প্রধান পঞ্চায়েত অফিসে উপস্থিত হতে পারছেন না। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য বিভিন্ন শংসাপত্র, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা দেওয়ার, টেন্ডার প্রক্রিয়া সবটাই আটকে গিয়েছে। এবার সেটা নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ খড়গপুরে। সেই সঙ্গে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের বিষয়েও কটাক্ষ করলেন।

ফেরার থাকা পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন – “প্রায় দুই হাজার পঞ্চায়েত প্রধান আক্রমণের ভয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না পঞ্চায়েত অফিসে। এতে মানুষের সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন পেমেন্ট বন্ধ, সাধারণ মানুষের সার্টিফিকেট পেতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই ঐ সমস্ত প্রধানদের কাছে আপিল করছি-যারা বলেছিলেন জনগণের ভোটে জিতেছেন, তারা এসে কাজ করুন। রাজনীতিতে নেমেছেন টোন টিটকিরি হবেই। কিন্তু আপনি এসে কাজ না করলে আরও সমস্যা বাড়বে। সংবাদ মাধ্যমের সামনে পরিষ্কার বলে রাখছি- দরকার হলে সব করতে বাধ্য থাকবো। পুলিশ দিয়ে তুলে আনব। বাড়ি ঘেরাও করে দেবো। তখন ডিমের বদলে ইঁট মারা হবে। সুতরাং ভালই ভালই বলছি, চলে আসুন। আর যদি না পারেন, পদত্যাগ করুন, তারপর দেশ ছেড়ে বাংলাদেশ পাকিস্তান যেখানে ইচ্ছা চলে যান।”

এরপর তৃণমূল প্রাক্তন নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ দেখিয়ে বিরোধী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন,’ বাংলার আর্থিক দুরবস্থা তৈরি হয়েছে ওদের পাগলামোর কারণে। এতদিন ধরে সুবিধা ভোগ করেছিলেন বিভিন্ন পদে থেকে। তখন কোন কিছু বলছিলেন না। এখন দলটা উঠে গেছে তাই অন্য রাস্তা খুঁজছে। মুখে তাই শক্ত কথা বলছেন। এগুলো একেবারে গুরুত্বহীন। অনেকেই আছেন এরকম যারা দুর্নীতি করে বিভিন্ন রকম লাভ নিয়েছেন। তারাও এখন জামা কাপড় খুলে ফেলে ধুয়ে ফেলতে চাইছেন।’