
চন্দ্রকোনা 26 সে জুলাই :
পানার চাপে ভেঙে ঝুলছে বাঁশের সাঁকো তারউপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলছে যাতায়াত।সাঁকোর পাশেই তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে স্টিল ব্রিজ।ব্রিজে ওঠানামার সংযোগকারী রাস্তা তৈরি না হওয়ায় অনেকে আবার সিঁড়ি বেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে নবনির্মিত স্টিল ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছেন।দ্রুত সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করে ব্রিজ চালুর দাবি এলাকাবাসীর।

শিলাবতী নদীর জল বাড়তেই নদী পারাপারে এমনই ভোগান্তির ছবি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বান্দিপুর-১ পঞ্চায়েতের কদমতলা এলাকায়।জানাযায়, কদমতলা এলাকায় শিলাবতী নদীর উপর আগে পঞ্চায়েতের তৈরি একটি কাঠের সেতু ছিল।কয়েক বছর আগে সেই সেতু ভেঙে যায়।এলাকার মানুষের উদ্যোগে তৈরি করা হয় বাঁশের সাঁকোচন্দ্রকোনা ১ ও ২ নম্বর ব্লকের একাধিক গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকো।
এলাকার মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় এক বছর হল বাঁশের সাঁকোর পাশেই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে একটি স্টিল ব্রিজ তৈরি করা হয়।সেই ব্রিজ নির্মাণ হলেও নেই ব্রিজের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা। আর এখানেই দেখা দিয়েছে যাতায়াতের চরম বিপদ।এলাকাবাসীর দাবি, গত।বৃহস্পতিবার নদীর জল বাড়ার সাথে ভেসে আসে পানা।

সেই পানার চাপে বাঁশের সাঁকোর মাঝের অংশ ভেঙে ঝুলছে।আর সেই ভাঙা অংশ দিয়েই হামাগুড়ি দিয়ে চলছে যাতায়াত।আবার অনেকেই পাশে স্টিল ব্রিজের উপর দিয়েই রাস্তা না থাকার কারণে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হামাগুড়ি দিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে ওঠানামা করছেন।প্রবীণ থেকে নবীন এলাকার কৃষক সকলেই এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।এলাকার মানুষজনের দাবি, ব্রিজে ওঠা-নামার জন্য দ্রুত সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ করে দ্রুত ব্রিজ চালু করা হোক।এনিয়ে বান্দিপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়েছেন,ভাঙা সাঁকো মেরামত করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।নতুন ব্রিজের সংযোগকারী রাস্তার কাজও চলছে সেই কাজ সম্পন্ন হলেই দ্রুত ব্রিজ চালু হয়ে যাবে।রাস্তা তৈরি না করেই ব্রিজ তৈরি এবং ঢিমেতালে ব্রিজের কাজ হওয়ায় তৎকালীন তৃণমূল সরকারকেই দুষছে বিজেপি।

এলাকাবাসী নিরঞ্জন ঘোষ, মুক্তিরাম মেটারা বলেন,’ গত বছর থেকে ব্রিজ করে দিয়েছে কিন্তু ওঠার কোন রাস্তা করেনি। তাই এর ওপর মানুষজন সাইকেল নিয়ে বাইক নিয়ে উঠতে পারবে না। অন্যদিকে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে,ভেঙে গিয়েছে এই বাঁশের সাঁকো,যার ফলে রাস্তা পারাপারে খুবই সমস্যা। দুর্ঘটনা ঘটে চলছে,হুঁশ নেই প্রশাসনের।”
সীতারাম মুখার্জি বলেন,”আজীবন দেখে এসেছি এই পোলটা হয়েই চলছে। নতুন ব্রিজ উদ্বোধন হয়নি আর পুরনো বাঁশের সাঁকোয় যাতায়াত করতে গিয়ে মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ছে,জলে ডুবে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান চাই।” গণেশ পাত্র নামে এক সাগর পুরের বাসিন্দা বলেন এই ব্রিজে আমরা উঠতেই পারছি না .আর বাঁশের সাঁকোয় উঠতে গিয়ে দুবার পড়ে গিয়েছি। যদিও আমরা কোনক্রমে উঠতে পারি মহিলারা তো পারবেই না। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান সেটাই দেখার।”

এলাকার তৃণমূল প্রধান পিঙ্কি দোলই বলেন,” আমরা খবর পেয়েছি যে যাতায়াতের জন্য প্রধান রাস্তা বাঁশের সাঁকো ভেঙে গেছে,তার কারণ বন্যা। আমরা বিষয়টা উপর মহলে জানিয়েছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ওই সাঁকো টা বানিয়ে দেব।”

এই বিষয়ে বিজেপি চন্দ্রকোণা-২ মন্ডল সহ সভাপতি
মৃত্যুঞ্জয় পড়িয়া বলেন,” বিজেপি সরকারের বয়স মাত্র দু মাস অথচ এই ১৫ বছর ধরে তৃণমূল ওই এলাকায় কোন কাজই করেনি। বিষয়টা সমস্যা রয়েছে সাইডের রাস্তা না করেই এ ধরনের ব্রিজ করে দিয়ে বোকামির কাজ করেছে তৃণমূল। বিষয়টা আমাদের বিধায়ক ২ বার এসে দেখে গেছেন। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর জন্য পাকাপোক্ত রাস্তা বানিয়ে দেবো।”