Sabang Case : সমবায় সমিতির টাকা 26 লক্ষ তছরুপের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তৃণমূল নেতা! 5 বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের

Share

মেদিনীপুর 31 সে জুলাই :

তেরো বছর পর সমবায় ব্যাংকের টাকা নয় ছয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতার সশ্রম কারাদণ্ড। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ। পাবলিক প্রসিকিউটার এর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এটি শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় সাক্ষীদের ভয় দেখাচ্ছিলেন আর তার জন্যই বিচার হচ্ছিল না। অবশেষে তারা এসে সাক্ষী দেওয়ায় CJM সেই বিচার পর্ব শেষ হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদন্ডের নির্দেশ দিলেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় বিগত ২০১৩ সালের সবং এর সুন্দরপুর এলাকার চাউলিকুড়ি সুন্দরপুর SKU সমবায় সমিতির কয়েক লক্ষ টাকা তছরুপ করার অভিযোগ ওঠে সবং এর ৬ নং অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি জয়দেব পাল এর ওপর। উল্লেখ্য, এই জয়দেব পাল ওই সমবায় সমিতির ক্যাশিয়ার কাম ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের। গ্রেফতার হয় জয়দেব। যেই ঘটনায় ২৯ জন সাক্ষী ও ৩৩ টা ডকুমেন্টস প্রমান হিসেবে আদালতে পেশ হয়। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল নেতা হওয়ায় সাক্ষ্যদের উপর প্রভাব খাটাতেন জয়দেব। অবশেষে রাজ্যে পালা বদলের পর গত বুধবার দোষী সাব্যস্ত হন এই জয়দেব পাল। অবশেষে এইদিন বিচারপতি এই নেতার ৫ বছরের কারাদন্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানার রায় দেন।অনাদায়ে আরো ১০ মাসের কারদন্ডের নির্দেশ দিলো আদালত।

এই বিষয়ে মেদিনীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন,”সবং এ একটি সমবায় ব্যাংক ছিল, এস কে ইউ প্রাইভেট লিমিটেডের সমবায় ব্যাংক। সেই ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কাম ক্লার্ক জয়দেব পাল বিদ্যাসাগর ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নাম করে চার লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বেরই। কিন্তু সেই টাকা বিদ্যাসাগর ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করে নেয়। সেই ঘটনায় অভিযোগ হওয়ার পরই তদন্ত নামে সবং থানার পুলিশ তারা তদন্ত করতে গিয়ে দেখে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার নয় বরং প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই অভিযুক্ত জয়দেব পাল। সেই ঘটনার মামলা জল গড়িয়েছে বহুদূর। মোট ২৯ জন সাক্ষী হয়েছে ২৩ টা ডকুমেন্ট জমা পড়েছে। সেই ঘটনায় হায়েস্ট পানিশমেন্ট এর দাবি ছিল আমাদের আর তাই ঘোষণা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন উনি একটি রাজনৈতিক দলের পদে ছিলেন তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা সাক্ষী গুলো কিছুতেই আসছিল না কোর্টে। কারণ অভিযোগ ছিল তিনি তাদের ভয় দেখিয়ে সাক্ষী হতে দেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে ভয় কাটিয়ে সে সাক্ষী গুলো উপস্থিত হয় এবং সেই ভিত্তিতেই বিচারপতি রায় ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘ 13 বছর পর বিচার পেলেন এলাকার মানুষ। যদিও এরকম বহু মামলা ঝুলে রয়েছে মেদিনীপুর জেলা আদালতে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *