
খড়গপুর (2) 17 ই সেপ্টেম্বর :
নেপাল প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিধ্বস্ত। এই পরিস্থিতিতে তাদের সাহায্যের জন্য পথে নামল পড়ুয়ারা। প্রতিদিনকার দেওয়া টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এই বিধ্বস্ত নেপালের উদ্দেশ্যে সাহায্য। এক অন্যান্য নজির জেলায়। এই সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ অভিভাবকেরাও।

নেপালের বন্যায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাড়বাঁশী হাই স্কুল-এর পক্ষ থেকে ‘নেপাল বন্যা ত্রাণ তহবিল’। এরকমই মহৎ উদ্যোগ দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর(২) এর বাড়বাঁশী
হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। মূলত স্কুলের তরফ থেকে জানা যায় এ এই স্কুলের পড়ুয়ারা নিজেদের বাড়ি থেকে দেওয়া প্রতিদিনের টিফিনের খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান করে। তাদের এই ছোট্ট ত্যাগের মধ্যে রয়েছে বড় হয়ে ওঠার এক অসাধারণ শিক্ষা। ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও অভিভাবকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা এক সপ্তাহ ধরে তাদের টিফিনের টাকা জমিয়ে এই ত্রাণ তহবিল প্রদান করে। এই টাকা প্রদান করে স্কুলের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা। দু টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা কুড়ি টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা তারা ইতিমধ্যে ত্রাণ তহবিলে তুলে ফেলে।আর সেই টাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় নেপালের বন্যা বিধ্বস্ত, বিপন্ন মানুষের সাহায্যের জন্য।

উল্লেখ্য,সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ হড়কা বানে নেপাল বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই হড়কা বানে একের পর এক তলিয়ে গেছে বড় বড় বিল্ডিং, অট্টালিকা ঘরবাড়ি এবং সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা। বহু মানুষ মারা গিয়েছে বহু মানুষের খোঁজ মেলে নি।এছাড়াও এখনও বহু মানুষ রয়েছে জলের তলায়। এরপরও দ্বিতীয়বার হড়পা বান ঘটেছে এই নেপালে।এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব দাঁড়িয়েছে নেপালের পাশে। ভারত রাশিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ তাদের সাহায্যের বিমান পাঠিয়ে দিয়েছেন নেপালের। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে ভারত। শুধু খাবার দাবার নয় সেই সঙ্গে আর্থিক বিষয় ও তারা সাহায্য করেছে নেপালকে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এক্ষেত্রে ভারতের বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যেমন সম্প্রতি খোঁজ পাওয়া গিয়েছে এই মুকুল রায়ের পুত্রবধূর।

এই বিষয়ে বাড়বাঁশী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মাধব মাইতি বলেন,’ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় পরিস্থিতিতে সবাইকেই পাশে দাঁড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে আমাদের পড়ুয়ারা তাদের টিফিনের খরচা বাঁচিয়ে সাহায্য করেছে এই ত্রাণ তহবিলে। এই তহবিলের টাকা পৌঁছে যাবে নেপালের সাহায্যের জন্য এরই সাথে সাহায্য করে তাদের অভিভাবকেরা। আমরা চাই এই ত্রাণ তহবিল এ আরো মানুষ সাহায্য করুক। পাশাপাশি তিনি এও বলেন’ আমাদের আন্তরিক বিশ্বাস, এই সংবাদটি যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে, তত বেশি ছাত্রছাত্রী বুঝতে পারবে—মানবিক কাজ করার জন্য বড় হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আজই একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। আমরা সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী আহ্বান পৌঁছে দিতে চাই—“তোমার টিফিনের সামান্য সঞ্চয়, তোমার একটি ছোট্ট সাহায্য, তোমার একটি সহানুভূতির হাত—কোনও বিপন্ন মানুষের জীবনে বড় আশার কারণ হতে পারে।

তাই এগিয়ে এসো, পাশে দাঁড়াও, মানবতার অংশীদার হও।”একজন ছাত্রের হাতে হয়তো সামান্য অর্থ, কিন্তু তার সেই সামান্য দানের মধ্যে যদি থাকে অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছা, তাহলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে সমাজ পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ। একজন এগিয়ে এলে আরও দশজন সাহস পাবে; দশজন এগিয়ে এলে তৈরি হবে শতজনের মানবিক উদ্যোগ। আমরা চাই, বাড়বাঁশী হাই স্কুলের এই ছোট্ট উদ্যোগ দেখে বাংলার, ভারতের এবং বিশ্বের প্রতিটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অনুপ্রাণিত হোক। তারা শিখুক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহমর্মিতাও জীবনের একটি বড় সাফল্য। এই কারণেই আপনার সংবাদপত্রে সংবাদটির প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার একটি প্রতিবেদন আমাদের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে মানবিক কাজের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। একটি সংবাদ হয়তো একটি বিদ্যালয়ের কথা বলবে, কিন্তু তার অনুপ্রেরণা পৌঁছে যেতে পারে বহু বিদ্যালয়ের দরজায়।

অন্যদিকে পড়ুয়া অনুপম রায় ও সন্তু হালদারের বক্তব্য,’এই ধরনের উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা খুবই খুশি। আমাদের সাহায্য করা টাকা একটা বিধ্বস্ত দেশের মানুষদের উপকারে লাগবে তা জেনেও খুব ভালো লাগছে। প্রতিদিনকার টিফিনের টাকা বাড়ি থেকে দেয় সেই টাকা বাঁচিয়েই আমরা এই ত্রাণ তহবিলে দান করেছি।’
এ বিষয়ে পড়ুয়ার অভিভাবক তরুণ জানা, নবনীতা রাইরা বলেন,’পড়ুয়ারা তারা নিজেদের উদ্যোগে এই ত্রাণ তহবিল গঠন করেছে। আর সেই তহবিলে টাকা দিচ্ছে তাদের নিজের বাঁচানো টাকা। আমরাও যে যেমন পেয়েছি যথ সামান্য হেল্প করেছি এই তহবিলে। এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’