
মেদিনীপুর 23 সে আগস্ট :
ক্যান্সার আক্রান্ত মা-বোনেদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক চুল দান কর্মসূচি। মেদিনীপুরের আশা ভোঁসলে মঞ্চে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠল এই কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মা ও বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের চুল দান করেন।

‘চুলহীন মেয়েদের সৌন্দর্য ভাবা যায় না’ কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই। পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা সব কাজে যেমন পটু তেমনি পারদর্শী। তাই এবার ক্যান্সার পেশেন্টের জন্য চুল দান কর্মসূচির আয়োজন। মূলত কঠিন মহামারীর সময় গঠন হয়েছিল অপরাজেয় সংগঠন বেশ কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে। যদিও তার আজকে সদস্য সংখ্যা ছয় শতাধিক। তারা আর পাঁচটা মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি এবার ক্যান্সার পেশেন্টেরদের জন্য চুল দান কর্মসূচির আয়োজন করল শহরের আশা ভোঁসলে মঞ্চে। পঞ্চম তম বর্ষে চুল দান করতে এগিয়ে এলো শতাধিক মহিলা, কিশোরী। একে একে সবাই তারা তাদের নিজের সৌন্দর্য বিশিষ্ট চুল কেটে দিলেন এই সংস্থার লোকেদের কাছে। এই চুল একটি পলিথিনের মাধ্যমে পৌছে যাবে এবার সেই সব মহামারীতে আক্রান্ত অসহায় ক্যান্সার রোগীদের কাছে। যার উদ্দেশ্যেই হলো এই অসময়ে ভেঙে পড়া সেই সব মহিলাদের স্বশক্তিকরণ এবং ভরসা বাড়ানো।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মসূচিকে উৎসাহিত করেন প্রখ্যাত স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মঙ্গল প্রসাদ মল্লিক মহাশয়, নাড়াজোল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পলি পাহাড়ি,আঞ্চলিক ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ বিশ্বজিৎ পাল,তাঁতিগেড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার পাহাড়ি সহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি চিত্ততোষ পৈড়া, দীপক চৌধুরী, অতনু ঘোষ, প্রশান্ত মাজী, জয়দেব সিং, সরোজ অধিকারী, সৌরেন ভুঁইয়া, মানস বেরা, সৌরভ দত্ত, অনুভব সার সহ অন্যান্যরা।এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ বছর বয়সী ও ১১ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশুর স্বতঃস্ফূর্তভাবে চুল দান করা। বয়সে ছোট হলেও মানবিকতার এই মহৎ কাজে তাঁদের আগ্রহ ও সাহস উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানবিকতার কোনো বয়স হয় না,একটি ছোট্ট ত্যাগও অন্য একজন মানুষের জীবনে বড় আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনের সম্পাদক সুশান্ত জানা বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত মা-বোনেদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মহৎ উদ্যোগ। ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় চুল হারানোর কারণে অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সামান্য হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস থেকেই সংগঠনের এই উদ্যোগ। তিনি জানান, এই কর্মসূচি এবার পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল এবং প্রতিবছরের মতো এবারও চুল দাতাদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও সাড়া ফেলার মতো।সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সমর বড়দোলই জানান, “এই কর্মসূচি আমাদের সংগঠনের অন্যতম বাৎসরিক কর্মসূচি। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হলো। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আরও উৎসাহিত করেছে। আগামী বছর এই কর্মসূচি আরও বৃহৎ আকারে করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আশাবাদী, আগামী বছর ১০০ জনেরও বেশি চুল দাতা এই মানবিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।”

তিনি আরও বলেন, অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সারা বছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মধ্যে মানবিকতার চেতনা জাগিয়ে তোলাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। আজকের এই কর্মসূচির সাফল্য সেই ধারাবাহিক সামাজিক দায়বদ্ধতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।