
মেদিনীপুর 21 সে আগস্ট :
নারীশিক্ষা, কৃতিত্বের স্বীকৃতি এবং নতুন পথচলার বার্তা নিয়ে শুক্রবার ডক্টর বিধান চন্দ্র রায় মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হল রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা কলেজ (স্বশাসিত)-এর চতুর্থ সমাবর্তন। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের এই সমাবর্তনে স্নাতক স্তরের ৯১২ জন এবং স্নাতকোত্তর স্তরের ৩৫৯ জন-এর হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়

এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা কলেজে চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এইদিন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সহ বিশিষ্ট জনেরা। এইদিন প্রথমে কলেজের তরফ থেকে পতাকা উত্তোলন এবং সেই সঙ্গে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় মন্ত্রীকে। এরপর বন্দে মা তরম সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের সূচনা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর। সমাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল ‘স্ত্রী-শক্তি পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান। নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই সম্মান দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জনপ্রতিনিধি।

ছিলেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রূপকুমার বর্মন, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার উপাচার্য অধ্যাপক অয়ন ভট্টাচার্য এবং মেদিনীপুরের বিধায়ক ড. শঙ্করকুমার গুচ্ছাইত, কলেজের অধ্যক্ষা ড: স্বপ্না ঘোড়াই প্রমুখ। এই দিন এই মঞ্চ থেকে একসঙ্গে ১,২৭১ পড়ুয়ার হাতে উঠল ডিগ্রি। স্বর্ণপদক পেলেন ৩৮ জন, রৌপ্যপদক ৩৯ জন। পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, শিক্ষিত নারী শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়েন না, পরিবার এবং সমাজের পরিবর্তনেরও অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বদা আপনাদের সাথ আছে। এরপর পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনার কি পোশাক পরবেন, কোথায় বেরোবেন, কখন বেরোবেন তা আপনারই ঠিক করবেন। সদ্য ডিগ্রিপ্রাপ্ত পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষিত মহিলারাই তাঁদের পরিবার ও সমাজে পরিবর্তন আনতে পারেন।

আজ যে সার্টিফিকেট আপনারা পেলেন, তা কেবল একটি যাত্রার শুরু, শেষ নয়।” কলেজের অধ্যক্ষ ড: স্বপ্না ঘোড়াই ২০২৫-২০২৬ সালের শিক্ষা বর্ষের সাফল্য তুলে ধরেন। কলেজের চতুর্থ সমাবর্তন ঘিরে তাই ছিল উৎসবের আবহ। ডিগ্রি, পদক ও সম্মাননার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল নারীশিক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ। পড়ুয়াদের কাছে সমাবর্তনের এই দিনটি একদিকে যেমন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনই পেশাগত ও সামাজিক জীবনের নতুন পথচলার সূচনা।