Health Department : ‘লাইসেন্স বাড়িতে রয়েছে, সময় দিলে পরে দেখাবো’ ভুয়ো ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে উত্তর পেলেন আধিকারিকরা, তড়িঘড়ি বন্ধ করা হলো একাধিক সেন্টার

Share

মেদিনীপুর 23 সে আগস্ট :

লজ এবং মলের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর অভিযানের একই সাথে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ল্যাব এবং পলিক্লিনিক এর বিরুদ্ধে অভিযান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। লাইসেন্স না পেয়ে একাধিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশ, সেই সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা। এই অভিযানকে সাধুবাদ জানালো পশ্চিম মেদিনীপুর ডায়গনস্টিক অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি বহুদিন ধরেই আমরা এই অভিযোগ করে আসছিলাম জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসে।

এবার টানা ভুয়ো ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং বেআইনি লাইসেন্সবিহীন ডায়গনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে অপারেশন চালাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর, নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য জেলায়। মূলত দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াগনস্টিক ফোরাম জেলা স্বাস্থ্য আধিকারীকে চিঠি দিয়েছিল যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খোদ মেদিনীপুর, ঘাটাল খড়্গপুর, বেলদা, নারায়ণগড়, দাসপুর, কেশপুরে ব্যাপক পরিমাণে লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে। সেই সব ডায়গনস্টিক সেন্টারের না আছে লাইসেন্স না আছে কোন সরকারি কাগজ। শুধু সেন্টারগুলো চলছে এমন নয়, সেই সেন্টারে নানান রক্ত পরীক্ষা, মল মূত্র পরীক্ষা যেমন হচ্ছে সেই সঙ্গে এক্স-রে মেশিন রাখা হয়েছে। রমরমিয়ে এ ব্যবসা চলছে গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে। এর সঙ্গে দালাল রাজ জড়িত। যে দালাল গুলো এইসব সেন্টারে সাধারণ মানুষের রক্ত নিয়ে এসে কম পয়সায় রক্ত পরীক্ষা করে ভুয়ো রিপোর্ট প্রদান করছে। এই ঘটনায় নতুন সরকার আসার পরে নড়ে চড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

তড়িঘড়ি গতকাল থেকে অপারেশন চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম। এদিনও পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকায় শুরু হয় এই অভিযান। গতকালের পরে এই দিনও হানা দেয় বিভিন্ন সেন্টারে সেন্টারে। সেখানকার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ, মালিকের সঙ্গে কথা বলে সঠিক উত্তর না পেয়ে দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে আগামী দিনে যাতে ব্যবসা না করতে পারে তারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরও যদি ব্যবসা করে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে হলে জানান স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। যদিও এই অভিযানে গিয়ে যখন স্বাস্থ্য আধিকারিক তাদের লাইসেন্স দেখতে চাইছিলেন তখন সেই সেন্টারের মালিকদের উত্তর ছিল, বাড়িতে রয়েছে সময় দিলে পরে দেখাবো। কেউ কেউ আবার বলেছেন রিনিউয়াল করা হয়নি ২০১২ সাল থেকে।

এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গী বলেন,’ অনেকদিন ধরেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক কর্তৃপক্ষ তারা অভিযোগ করছিল এই ভুয়ো ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানো নিয়ে। যে ঘটনায় আমাদের অপারেশন চলছে অভিযানও চলছে। এরকম বেশ কয়েকটি ভুঁইফোড় লাইসেন্সবিহীন সেন্টারের হদিশ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সেন্টারে আবার এক্সরে মেশিনও রাখা হয়েছে। আমরা তাদের উপযুক্ত কাগজের দাবি করেছি। আর না পাওয়াই সেগুলোকে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আমরা এরকম কয়েকটি সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছি জেলা প্রশাসনের সহায়তায়। আমাদের অভিযান আগামী দিনেও চলবে ক্রমাগত।”

এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর ডায়গনস্টিক অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের জেলার সহ-সভাপতি নীলকমল ভুঁইয়া বলেন,” আমরা আগেই জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কে জেলার ভিন্ন জায়গায় গজিয়ে ওঠা অবৈধ ল্যাব,ডায়গনস্টিক,অবৈধ পলিক্লিনিক,ওষুধ দোকানে ডাক্তার বসানো প্রভৃতি নিয়ে আমরা এর আগে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং ড্রাগ কন্ট্রোলে অভিযোগ জানিয়েছে। সরকার পরিবর্তন হতেই স্বাস্থ্য দপ্তরের এ অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের কোনরকম এই ভুয়ো সেন্টার গড়ে না ওঠে তার জন্য উনি সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন এটাই আমরা আবেদন জানাবো।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *