Widow Vata :লক্ষী বা অন্নপূর্ণা নয়, এবার বছরের পর বছর ধরে বিধবা ভাতা টাকা পুরুষের একাউন্টে! অভিযোগ নিয়ে সরব বিজেপি

Share

দাসপুর 28 সে আগস্ট :

এতদিন শোনা যেত অন্নপূর্ণার টাকা পুরুষ একাউন্টে ঢুকছে, এবার বিধবা ভাতার টাকা পুরুষ একাউন্টে ঢুকছে গত চার বছর ধরে এরকমই ঘটনায় হতবাক বিজেপি। এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দোষী সরকারি আধিকারিকদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালো বিজেপি। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য এ ঘটনায় রাজনৈতিক কোন যোগ নেই বরং ডাটা এন্ট্রির ভুলের জন্য ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় সরব হয়েছে সিপিএমও।

পুরুষের একাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তো এর আগে অনেক বার শুনেছেন, এবার পুরুষের একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে বছরের পর বছর ধরে! তথ্য তুলে ধরে সরব বিজেপি, ঘটনা জানতে পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার।এমনই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার গোছাতি এলাকায়। জানা যায় গোছাতি গ্রামের ৬০ ঊর্ধ্ব ব্যাক্তি কেশব ঘোড়ই ভাতার জন্য স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে কাগজ জমা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে ২০২১ সাল থেকে বছরের পর বছর ধরে টাকা ঢুকছিল পুরুষের একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা। ঘটনা জানতে পেরে ততিঘড়ি ব্লক প্রশাসনের কাছে বিধবা ভাতা বন্ধের জন্য আবেদন জানান পরিবার।যদিও সমস্ত তথ্য তুলে সরব হন বিজেপি। এই বিষয়ে বিজেপি বলেন এই ব্যাক্তি জনকল্যাণ শিবির থেকে কিভাবে পাশ করিয়ে পুরুষ মানুষের একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা নিচ্ছেন?ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর পরিবারের তরফে লিখিত পাবার পরেই জেলা স্তরে ঘটনা জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা বলেন,’ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যে মানুষকে ভুয়ো ডেটা দিয়ে বোকা বানিয়ে রেখেছে এটা তার উদাহরণ। এই ঘটনা আমাদের কাছে নতুন নয়।বরং এটা বলব নতুন সরকারের জনকল্যাণ মঞ্চে যে আধিকারিকরা এখন তৃণমূল সরকারের কাজ করছে তারা এই ভুল কাজ-ই এই সরকার কে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করছে। না হলে একজন পুরুষ কি করে বিধবা ভাতার টাকা পেয়ে যায় এবং অন্নপূর্ণার টাকা একজন পুরুষের একাউন্টে কিভাবে ঢুকে যায়? আমরা মুখ্যমন্ত্রী কে আবেদন করব যেন এই প্রশাসনিকভাবে একটা তদন্ত করে।’

অন্যদিকে যিনি প্রাপক এ টাকা নিচ্ছেন সেই কেশব ঘোড়ই বলেন,’আমি বছর চারেক আগে বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার বয়স একাত্তর বছর। সেই হিসেবে এতদিন টাকা পেয়ে এসেছি কখনো দেখিনি যে বিধবা ভাতা না বার্ধক্য ভাতা টাকা একাউন্টে ঢুকেছে। যেহেতু আমি পড়াশোনা জানি না। পরবর্তীকালে আমার ছেলে বলেছে এটা বার্ধক্য নয় বরং বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে আমার একাউন্টে। আমি বিষয়টা নিয়ে অভিযোগ জানাবো এবং জানিয়েছি যাতে এটা কারেকশন করিয়ে দেয়।’

সৌমিত্র সিংহ রায় নামে এক তৃণমূল নেতার বক্তব্য,’বহু মানুষ সেই সময় তাদের বার্ধক্য ভাতা বহু মহিলা তাদের বিধবা ভাতার নামে আবেদন করেছিল। কম্পিউটারের মিসটেকের জন্য হয়তো বার্ধক্যের জায়গায় বিধবা হয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয় না এটা কোন রাজনৈতিক ব্যাপার। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিভিন্ন পুরুষ অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ফলে এটা ডাটা এন্টির সমস্যা, রাজনৈতিক ব্যাপার নয়।’

যদিও অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা লক্ষীকান্ত ভৌমিক বলেন,’আগের সরকারের আমলে আসল যারা যোগ্য বিধবা এবং বার্ধক্য ভাতা তারা পায়নি বরং নিয়ে গোপনে এবং ভুলভাবে অযোগ্য ব্যক্তিরা এই বিধবা ভাতা এবং বার্ধক্য ভাতা টাকা পেয়ে আসছে। কেউ অন্নপূর্ণার নামে কেউ আবার বিধবা ভাতার নামে পেয়ে আসছে।এরই প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা বিডিও অফিসে অভিযোগ জানাবো।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *