
মেদিনীপুর 27 সে আগস্ট :
গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান সম্প্রদায়ের কাছে’গ্রন্থাগারিক দিবস উদযাপন একটি অত্যন্ত আবেগঘন বিষয়। ভারতের গ্রন্থাগারিকরা প্রতিবছর পদ্মশ্রী অধ্যাপক শিয়ালি রামামৃত রঙ্গনাথন — যিনি এস. আর. রঙ্গনাথন নামে সমধিক পরিচিত —তাঁর জন্মবার্ষিকী স্মরণে এই দিবসটি পালন করেন। ১৮৯২ সালের ১২ই আগস্ট রঙ্গনাথনের জন্মদিন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ভারতে ১২ই আগস্ট’ জাতীয় গ্রন্থাগারিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

মূলত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগ ১২ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন এই দিবসটি পালন করে থাকে। এবছর ২৭ শে আগস্ট বৃহস্পতিবার বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন গ্রন্থাগার থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে’ গ্রন্থাগারিক দিবস উদযাপিত হলো।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বান্ধব ঐতিহ্য মেনে একটি চারাগাছে জল দেওয়ার মাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর এই শুভ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। উদ্বোধনী ভাষণে গ্রন্থাগারকে একটি’ জীবন্তসত্তা হিসেবে অভিহিত করে অধ্যাপক কর গ্রন্থাগারিকদের অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গ্রন্থাগারিকদের উদ্দেশ্যে তাঁর দূরদর্শী বক্তব্য তরুণ গ্রন্থাগারিকদের অত্যন্ত আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত করে। অধ্যাপক কর ‘ভুয়াখবর’ বা ‘ফেকনিউজ’ –এর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই জ্বলন্ত সমস্যার মোকাবিলায় উদ্ভাবনী পদ্ধতি খুঁজে বের করার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

তাঁর এই ভবিষ্যৎমুখী পরামর্শ গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য’ রঙ্গনাথন মেমোরিয়াল লেকচারহল’ পেয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সৌমেন মল্লিক অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হন ; উল্লেখ্য, এইদিন উপাচার্য এই হলটির উদ্বোধন করেন। ড. মল্লিক রঙ্গনাথনের অবদান — যা মূলত দেশীয় হলেও বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে —তা স্মরণ করার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে এই দিবসটি উদযাপনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারের সাথে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান সুযোগগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি জানান যে, বিভাগ শীঘ্রই তাদের আসন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্সগুলোর বিষয়ে ঘোষণা করবে।

এই উপলক্ষ্যে বিভাগ দুটি বক্তৃতার আয়োজন করেছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন প্রধান এবং বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক সবুজ কুমার চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় গ্রন্থাগারকে একটি’ জীবন্ত স্মৃতি-ব্যবস্থা’ (living memory system) হিসেবে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। অন্য একটি বক্তৃতায় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক ড. অসিতাভ দাস বাংলা অভিধানের যাত্রাপথ — এর সূচনা থেকে বর্তমান পর্যন্ত —তুলে ধরেন। বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক দুর্গাশঙ্কর রথের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।