Census 2026 : ’30 দিনের সেন্সাসের কাজ 5 দিনে শেষ’ নজির গড়লেন শিক্ষক বিকাশ লাহা! খুশি গ্রামবাসীরা

Share

চন্দ্রকোণা 25 সে আগস্ট :

SIR এর কাজে তিনি কাজ করে নজর কেড়েছিলেন, এবার তিনি ৩০ দিনের সেন্সাসের কাজ ৫ দিনে শেষ করে নজির গড়লেন। তিনি কেউ নন তিনি চন্দ্রকোণার প্রসাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর শিক্ষক বিকাশ লাহা। তাঁর দায়িত্বে ছিল ২০২ টি বিল্ডিং,২৫৪ টি সেনসাস হাউস ও ২০৪ টি হাউস হোল্ড।

সার(স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)-এ বিএলও হিসাবে বাড়ি বাড়ি সার্ভের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।এনিউমারেশন ফর্মের যাবতীয় তথ্য ডিজিটাইজড করার পরই প্রশাসনের নজর পড়েছিল তাঁর বুথে। কারণ,বুথে একজনও মৃত ভোটার নেই বলে দাবি করেছিলেন বিএলও।এই খবর সংবাদ শিরোনামে উঠে আসতেই ওই বুথে বিশেষ নজর দিয়েছিল প্রশাসন। মহকুমা শাসক থেকে ভিডিও সহ ‘সার’-এর কাজে যুক্ত আধিকারিকেরা ওই বুথে গিয়ে তথ্য যাচাই করেছিলেন। অবশ্য তথ্য যাচাইয়ের পর প্রশাসনের আধিকারিকেরা কোনও গরমিল খুঁজে পাইনি। জানা গিয়েছিল, বুথে কেউ মারা গেলে সেই খবর পেয়ে তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ করতেন তিনি। বুথে একজনও মৃত ভোটার না পাওয়ার তথ্য যাচাইয়ের পর বিএলও’র কাজের প্রশংসা করেছিল প্রশাসন। কম সময়ে তিনি সার-এর কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। চন্দ্রকোণা পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড গোপালপুর ১৪৮ নম্বর বুথের বিএলও শিক্ষক বিকাশ লাহা ‘সার’-এর মতো সেন্সাসের কাজেও সাড়া ফেলেছেন। সময়ের আগেই সেন্সাসের কাজ শেষ করে রেকর্ড গড়েছেন শিক্ষক বিকাশ লাহা।

জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোণার প্রসাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর শিক্ষক বিকাশ লাহা।’সার’-এর পর তাঁর কাঁধে সেন্সাসের দায়িত্ব পড়ে। ১ আগষ্ট থেকে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত সেল্ফ এনিউমারেশন বা স্ব-গণনা প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন হয়। ১৬ আগষ্ট থেকে শুরু হয়েছে ফিল্ড-এনিউমারেশন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন শিক্ষকেরা। এই পর্ব চলবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেন্সাসের কাজ শেষ করলেন শিক্ষক বিকাশ লাহা। তাঁর দায়িত্বে ছিল ২০২ টি বিল্ডিং,২৫৪ টি সেনসাস হাউস ও ২০৪ টি হাউস হোল্ড।

এই বিষয়ে বিকাশ লাহা বলেন,” ১৮ ও ১৯ তারিখ এই দু’দিন ঘুরে ঘুরে ম্যাপ করা,বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাউস নম্বর লেখার কাজ শেষ করেছি। এরপর ২০ তারিখ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসাধারণের তথ্য সংগ্রহ ও সেই তথ্য ডিজিটাল অ্যাপে আপলোড করার কাজ শুরু করি। ২২ তারিখ তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল অ্যাপে আপলোড-এর কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি। তিনি আরও জানান,তথ্য যাচাইয়ে প্রথম দিন পাঁচ ঘন্টায় ৫০ টি, পরের দিন ১২ ঘন্টায় ১০০ টি ও তৃতীয় দিন ৫ ঘন্টায় ৫২ টি বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করি ।আগে থেকে পরিকল্পনা করে এবং দ্রুততার সাথে জনগণনার কাজ নিখুঁত ভাবে সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিকাশ বাবু।তাই পাঁচদিনের মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ করে ফেলি। তিনি আরও জানিয়েছেন,কাজ শুরুর আগে থেকেই ম্যাপিং এর কাজ প্রস্তুত ও সমস্ত পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।সেইমত নিখুঁত ভাবেই অল্প সময়ে কাজ শেষ করতে পেরেছেন বলে দাবি তাঁর।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ওই বুথের বাসিন্দা রামকৃষ্ণ নায়েক বলেন,’বিকাশ বাবু যথেষ্ট উদ্যোগী এবং পরিশ্রমী। বিগত দিনে এস আই আর এর কাজ খুব দ্রুততার সঙ্গে করেছেন। তাই তিনি প্রশাসনের নজরে ছিলেন। এবারেও সেন্সাসের কাজ প্রতি দ্রুততা এবং নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সাথে করেছেন। আমরা বুথের বাসিন্দা হিসেবে উনার কাজে খুবই খুশি।

বিকাশ বাবুর সুপারভাইজার সৌগত সাঁই জানিয়েছেন,’উনি এসআইআর-এর সময়েও ভালো কাজ করেছিলেন। বুথে দীর্ঘদিন বিএলও’র কাজ করছেন উনি। জনগণনার কাজ কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করেছেন। ওনার কাজ আমি খতিয়ে দেখেছি,কোনও ত্রুটি খুঁজে পাইনি। একশো শতাংশ পরিশ্রম দিয়ে উনি একাজ করেছেন। আমার তরফে ও পুরসভার পক্ষ থেকেও ওনার কাজকে সাধুবাদ জানাই।’বুথের বিএলও’র কাজের প্রশংসা করেছেন সেখানকার বাসিন্দারাও।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *