CPIM BJP Clash : গড়বেতায় বিজেপি সিপিএম সংঘ*র্ষে আহত একাধিক! বিজেপির হুঁশিয়ারি পুলিশকে, সিপিএমের দাবি, ‘গ্রামবাসীদের প্রতিরোধ চলবে ‘

Share

গড়বেতা 20 ই সেপ্টেম্বর :

চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের পার্টি অফিস পোড়ানোর কয়েক দিনের মধ্যেই গড়বেতার খড়কুশমায় বিজেপি সিপিএম সংঘর্ষ। আহত হলো বিজেপির একাধিক কর্মী। বিজেপির হুঁশিয়ারি সিপিএম এবং খোদ পুলিশকেও। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত না হয় তাহলে তাদের ছেলেরা এই অশান্ত পরিবেশকে শান্ত করে দেবে। যদিও অন্যদিকে পাল্টা সিপিএম নেতার দাবি, এটা গ্রামবাসীদের প্রতিরোধ যা আগামী দিনে চলবে।’

ফের রাজনৈতিক সংঘ*র্ষে উত্তপ্ত গড়বেতার খড়কুশমা, আহত হল বিজেপি এবং সিপিএমের একাধিক কর্মী সমর্থক। বিজেপি সূত্রে জানা যায় খড়্কুশমায় একটি পার্টি অফিসে পতাকা তোলাকে নিয়েই এই গন্ডগোলের সূত্রপাত। অভিযোগ, এ দিন বিকেল সন্ধ্যা নাগাদ একটি সিপিএমের পার্টি অফিসে পতাকা তুলছিল সিপিএমের লোকজন। এই ঘটনাকে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বিজেপি।এরপরে বিজেপির অভিযোগ এলাকার সিপিএমের লোকজন বেরিয়ে এসে তরোয়াল,বল্লম ছুরি ভোজা*লি নিয়ে আক্রম*ণ করে তাদের কর্মী সমর্থকদের উপর। এই ঘটনা এলাকার জি এস সহ আহত হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন বিজেপি কর্মী সমর্থক ও নেতৃত্ব। যা নিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।পরবর্তীকালে সন্ধিপুর এবং গড়বেতার পার্শ্বস্থ এলাকায় এই রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।রাতের অন্ধকারে দু পক্ষের মধ্যে অশান্তি বিশৃঙ্খলা এবং মা*রামারি শুরু হয়ে যায়। যদিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ঘটনার মোকাবিলা করার চেষ্টা করে। তবে বিজেপির অভিযোগ এই ঘটনায় তাদের এত কর্মী আক্রান্ত এবং জখম হয়েছে যে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের গ্রেফতার করে পুলিশ যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয় এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখে। তবে যদি তা না হয় তবে তপন শুকুর এবং সুশান্ত ঘোষ এর মত নেতাদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় তার ওষুধ জানা আছে। যদিও এই ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া বামেদের। সিপিএম সূত্রে জানা যায় এদিন তাদের পার্টি অফিস গেরুয়া রং করতে যায় কিছু বিজেপি কর্মী নেতৃত্ব। এরপর এলাকার মানুষ বাধা দেয় এবং সেই বাধা দেওয়ার ফলেই শুরু হয়ে যায় মারামারি। এরপরে গোটা গ্রাম তার প্রতিরোধ করে এবং বিজেপি কর্মীদের এই কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। যেই প্রতিরোধের মধ্যে পড়ে বিজেপি কর্মী নেত্রীরা পালিয়ে যায়। এরপর তারা সন্ধিপুর এবং গড়বেতার আরো বিভিন্ন এলাকা যখন পৌঁছায় তখন সেখানকার মানুষও ছুটে আসে এবং প্রতিরোধ করে ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।এই ঘটনায় বেশ কিছু সিপিআইএম কর্মী সমর্থক নেতৃত্বও জখম হয়েছে বলে দাবি তাদের। যদিও এই ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও অশান্তি অব্যাহত এলাকায়। একদিকে বামেদের অভিযোগ ঘরবাড়ি ভাঙচুরের,অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ মা*রধরের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের বড় মাপের মিছিল হয়। যে মিছিলে অংশ নিতে ছুটে এসেছিলেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। যদিও এই মিছিলের পরে সিপিএমের চন্দ্রকোনা পার্টি অফিসে আক্রান্ত হয়, ভাঙচুর করা হয় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় জিনিসপত্র। যদিও এই ঘটনায় অভিযোগের তীর ছিল বিজেপির দিকে এবং সিপিএম নেতা বারবার অভিযোগ করেন এই ঘটনায় পুলিশ কোন অভিযোগ নেয়নি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টে তারা বিজেপি কে সাপোর্ট করছে এবং গণেশ পুজোয় ব্যস্ত রয়েছেন পুলিশ সুপার। এই ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া কিনা তাও খতিয়ে দেখছে রাজনীতিক মহল।

এই নিয়ে এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব মদন রুইদাস বলেন,’ বিকেল সন্ধ্যে নাগাদ যখন সিপিএম পার্টি অফিস পতাকা তোলা হয় তখন আমাদের লোকজন বাধা দিতে গেলেই সমস্যা সৃষ্টি হয়। কারন কিছুদিন আগে এই মিছিলের নাম করে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়েছে এই সিপিএমের লোকজন। এরপরে সিপিএমের লোকজন ভোজালি, ছুরি বল্লম নিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে মা*রধর করা হয় এবং আহত করায় আমাদের নেতাকর্মীদের। আমরা এই ঘটনার পরই হুঁশিয়ারি দিচ্ছি পুলিশকে এবং এলাকায় তপন শুকুরের মতো নেতাদের। অবিলম্বে যদি পুলিশ কড়া হাতে দোষীদের কে গ্রেপ্তার করে শাস্তি না দেয় তাহলে আমাদের পাল্টা আক্রমণ হবে তার দায়িত্ব নিতে হবে তাদের। পাশাপাশি তিনি বলেন এলাকায় সুশান্ত ঘোষ তপন, শুকুরেরা যদি মনে করে আবার পুরনো দিনের রাজত্ব ফিরিয়ে আনবে তাহলে ভুল ভাবছে, আমরা তার যোগ্য জবাব দেব।’

যদিও এই নিয়ে সিপিআইএম জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন,” এলাকায় কোন বিজেপির পার্টি অফিস নেই ওই সংশ্লিষ্ট এলাকায়। এদিন সিপিএমের পার্টি অফিসে গেরুয়া রং করতে গেলে এলাকার মানুষ বাধা দেয়। যেহেতু গোটা এলাকাটা সিপিএমের লোকজন সিপিএম পার্টি করে তাই তারা বাধা দিতেই বাকি গ্রামবাসীরা হাজির হন। আর তাদের প্রতিরোধ করে এই বিজেপির দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। এরপর তারা সন্ধি পুরে গন্ডগোল করার চেষ্টা করে এবং অন্যান্য জায়গায় সেখানে পাল্টা প্রতিরোধ হয় আর তাতেই পালিয়ে যায় বিজেপির নেতা নেতৃত্বরা। তবে এই ঘটনায় বিজেপির লোকজন আহত হয়েছে বলে আমার জানা নেই, তবে আমাদের কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। যদিও এই সিপিআইএম নেতা দুদিন আগে এক সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।তিনি বলেছিলেন যখন তাদের পার্টি অফিস ভাঙছে পোড়াচ্ছে তখন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা গণেশ পুজোয় মগ্ন ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন তৃণমূলের মত বিজেপির রাজত্বে একই পরিস্থিতি জেলায়।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *