Karam Festival : কাঁসাই নদীর ধারে জাওয়া পাতা দিয়ে শুরু ‘করম পরব’! অংশ নিল আদিবাসী কুড়মিরা

Share

মেদিনীপুর 18 ই সেপ্টেম্বর :

রীতি মেনেই শুরু হয়ে গেল করম পরব। মূল উৎসবটি আরও কয়েকদিন পর হলেও রীতি মেনে বালি উঠা বা জাওয়া পাতা দিয়ে কাঁসাই নদীর ধারে সেই পরবের সূচনা করলেন কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ। কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন জানাচ্ছেন, বাঁশের তৈরি পাত্রে রাখা হয় বালি। নির্দিষ্ট রীতি মেনে তাতে বপন করা হয় শষ্যের বীজ। অঙ্কুরোদ্গমের পর তা করম ঠাকুরের কাছে রেখে পুজোও করা হয়।

এই পরবের বৈশিষ্ট্য :

করম পরবের তিনদিন, পাঁচদিন, সাতদিন অথবা ন’দিন আগের থেকেই এই উৎসবের সূচনা হয়ে থাকে বিভিন্ন জায়গায়। মেদিনীপুর শহর করম পরব কমিটির তরফ থেকে জানা যায়,করম পরব আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। এই পরবের মধ্য দিয়ে দু’টি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের দিকও রয়েছে। একটি হল কৃষি শিক্ষা। আর অন্যটি হল কিশোরীদের নারী হয়ে ওঠার শিক্ষা। একটি বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটাতে যে যত্ন প্রয়োজন, তবেই শস্য হবে, তেমনই কুমারী থেকে নারী হয়ে উঠতেও সেই যত্ন ও রীতি মেনে চলা জরুরি। তাই আমি মনে করি, কৃষিকাজ ও নারীর জীবন শৈলীর পাঠও মেলে এই পরবের মধ্য দিয়ে।

কীভাবে পালন :

এইদিন প্রথমে বাঁশের তৈরি পাত্রে বিভিন্ন শস্যের বীজ রাখার আগে বীজে হলুদ মাখানোর রীতিও রয়েছে। যা একরকম বীজের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে বলেই অনুমান। তাকেই বলা হয়, বালি তোলা বা জাওয়া পাঁতা। এরপর সাতদিন ধরে চলবে তার পরিচর্যা। প্রত্যেক দিন নিয়ম করে করে হলুদ জল দেওয়া এবং নাচগান করে করে জাওয়ার চারপাশে প্রদক্ষিণ করেন কুমারী মেয়েরা। ওই ক’দিন কুমারী মেয়েটিকে ‘জাওয়ার মা’ বলে সম্বোধন ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। তাই ‘জাওয়ার মা’কে অনেক রীতি মেনে চলতে হয়। ওই সময়, মাথার চুল বেঁধে স্নান করা নিষেধ, ঘুমোনো যাবে না কাত হয়ে, শাক, দই ও অন্য টক খাওয়া বারন। লবন হাতে ছোঁয়া, কাঠি, খড়িকা খুঁচি, ইত্যাদি ভাঙা, চুল আঁচড়ানো, আগুনে পোড়া দ্রব্য খাওয়া, হলুদ খাওয়া, মিষ্টি খাওয়া, আমিষ খাওয়া, দড়ির খাটে বসা, অবাঞ্ছিত স্থানে শৌচকর্ম নিষেধ। পুজার দিনে নির্জলা উপবাসও করতে হবে। বিপ্লবের কথায়, ‘কৃষি ছাড়া মানুষের জীবন অচল ছিল। তাই পুরনো আমল থেকেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। যাতে পরিবারের সকলে কৃষি শিক্ষার পাশাপাশি কুমারী মেয়েও জীবন শিক্ষা লাভ করে পরবের রীতিনীতির মধ্য দিয়ে, সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে।’ বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম- অর্থাৎ জঙ্গলমহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়।

মেদিনীপুর শহর করম পরব কমিটির সদস্য বিপ্লব মাহাতো বলেন,’ এই করম পরব আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। প্রতিবছরই এই সময় এই পরবের সূচনা হয়।এই পরবের মূলত দু’টি দিক জ্ঞান অর্জনের দিকও রয়েছে যেমন একটি হল কৃষি শিক্ষা। আর অন্যটি হল কিশোরীদের নারী হয়ে ওঠার শিক্ষা। একটি বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটাতে যে যত্ন প্রয়োজন, তবেই শস্য হবে, তেমনই কুমারী থেকে নারী হয়ে উঠতেও সেই যত্ন ও রীতি মেনে চলা জরুরি।

তাই আমি মনে করি, কৃষিকাজ ও নারীর জীবন শৈলীর পাঠও মেলে এই পরবের মধ্য দিয়ে। আমাদের রীতিনীতি আচার অনুষ্ঠান সমস্ত কিছুই জ্ঞান অর্জন এবং সামাজিক ভিতের উপর নির্ভর করে।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *