
কাঁটাপাহাড়ি 19 সে সেপ্টেম্বর :
খেলার শেষ পর্বে হঠাৎই বাজ পড়ে আহত হল একাধিক খেলোয়াড়, মৃত এক খেলোয়াড়। মৃতের নাম দিবা মুর্মু (১০)। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া। রাতেই হাসপাতালে দৌড়ে আসেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, বিজেপি জেলা সভাপতি তুফান মাহাতো, সমিত দাস, শুভজিৎ রায়, মদন রুইদাস সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী দরবার করে ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আর্জি বিধায়কের।

খেলার শেষ পর্বে হঠাৎ বিকট আওয়াজ তারপর আর মনে নেই আরেনের! এরপর চোখ খুলে দেখি সবাই মাঠে শুয়ে আছে ঠিক এইরকম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা খুদে খেলোয়াড় আরেন হাঁসদার। খেলার মাঠে ঘটলো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর যে দুর্ঘটনায় শিকার হলো একে একে করে প্রায় ২১ জন খেলোয়াড় মৃত্যু হলো মৃতের নাম দিবা মুর্মু (১০) নামে এক খুদে খেলোয়াড়ের। ঘটনা ঝাড় গ্রামের লালগড় থানার কাঁটাপাহাড়ি এলাকায়। মূলত গ্রামবাসীদের উদ্যোগে কুমারবাঁধ ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। বিকেল সন্ধ্যা নাগাদ এই খেলা শেষ পর্বে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা মত, এদিন ফুটবল খেলা শেষে যখন সবকিছু গোড়ানোর কাজ চলছিল তখন কিছু খাবার বেঁচে ছিল। সেই সময় সে খাবারগুলো খাওয়া দাওয়া করছিল এই এখানকার ছেলেগুলো যারা কাজকর্ম করেছে। এরপর হঠাৎ মেঘ কালো করে বিকট আওয়াজ হয় এবং তারপরে আমরা সবাই জ্ঞান হারায়। পরবর্তী কিছুক্ষণ পর যখন চোখ খুলি দেখি সবাই মাঠে শুয়ে আছে।

দু চারজন কোনক্রমে চোখ খুলে উঠে গ্রামে খবর দেয় এরপর সবাই ছুটে এসে কোনক্রমে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এই ঘটনায় আমাদের গ্রামের প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ই আহত হয়েছে। তবে আমাদের মনে হয় যেহেতু আমরা ত্রিপল গোড়ানোর কাজ করছিল সেই সময় কোন কারণে কোথাও বাজ পড়ার পর তার বিদ্যুতের ঝলকানিতেই এবং আওয়াজে সকলে আহত হয়। এরপর সবাইকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।এইদিন তাদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে আছেন বিজেপি নেতা নেতৃত্বরা।এরপর গভীর রাত্রে ছুটে আসেন বিজেপির বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ। তিনি আহতদের দেখেন তদারকি করেন এবং আশ্বাস দেন রাজ্য সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণ তাদেরকে যেন দ্রুত দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে খেলোয়াড় আরেন হাঁসদা বলে,’খেলা যখন শেষ হয়ে গিয়েছিল তখন ত্রিপল গুড়ানোর কাজ চলছিল। সেই সঙ্গে এক্সট্রা বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো খাচ্ছিল যারা এই খেলার সঙ্গে যুক্ত এবং সারাদিন ধরে কাজ করছিল সেই ছেলেরা। এরই মধ্যে মেঘ কালো করে হঠাৎই বিকট আওয়াজ এবং বিদ্যুতের ঝলকানি তারপরেই আমরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরবর্তী কালে চোখ খুলে দেখি সবাই মাঠে শুয়ে আছে। এরপর কোনক্রমে দু চার জন হামাগুড়ি দিয়ে উঠে গ্রামের লোকদের ডাকে এবং তাদেরই সাহায্যে সবাইকে নিয়ে আসি মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। প্রত্যেকে খেলোয়াড় ছিল এবং সকলেই আহত হয়েছে।’
আহতের ঠাকুমা পূর্ণিমা মুর্মু বলেন,’ খেলার মাঠেই এই বাজ পড়ে জখম হয়েছে একাধিক গ্রামের খেলোয়াড়রা। যার সঙ্গে আহত হয়েছে আমার নাতি। খেলার শেষে যখন তারা খাওয়া-দাওয়া করছিল একটা ত্রিপলের উপর সেই সময় বাজ পড়ে এবং তাতেই আহত হন সবাই। এরপর মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তার চিকিৎসা চলছে।’

এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ বলেন,’ ঘটনাটা খুবই মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক। খেলার শেষ পর্বে বাজ পড়ে আহত হয়েছে গ্রামেরই প্রায় ২০-২২ জন খেলোয়াড়। মারা গেছে দিবা মুর্মু (১০) নামে একজন। আমরা খবর পেয়ে দৌড়ে এসেছি তাদের সেবা সুশ্রূষার ব্যবস্থা করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করব যাতে তারা সকাল হতেই যেন ক্ষতিপূরণ চার লক্ষ টাকা করে তাদের পরিবারকে তুলে দেওয়া যায়।’

এখন অপেক্ষা এই খেলোয়াড়রা কবে সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারে?