
শালবনি 20 ই সেপ্টেম্বর :
পাঁচ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত মাও নেতা গ্রেফতার, ধৃত মাও নেত্রী স্ত্রীও।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে গ্রেফতার দু’জন। শীর্ষ নকশাল নেতা অসীম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত মাওবাদী নেতা রাজু মাহাতো (ওরফে পতিত পবন মাহাতো, ওরফে মঙ্গল) এবং তার স্ত্রী মালতী মুর্মু (ওরফে মালা) মালতীর বিরুদ্ধেও দুই লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার অন্তর্গত ৫ নং লালগেরিয়া অঞ্চলের সরবেড়িয়া এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এই গ্রেফতারের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি আধিকারিকের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশ সূত্রের দাবি, মাওবাদী শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল (ওরফে আকাশ) এর সঙ্গে ওই দু’জনও পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে ছিলেন। অসীম মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজু ও মালতীর গ্রেফতারের সম্ভাবনা বাড়ে।STF গোপন অভিযান চালিয়ে দু’জনকে সরবেড়িয়া গ্রাম থেকে আটক করে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পটাশ পুরের নৈপুরে STF-এর জালে শীর্ষ মাওবাদী নেতা আকাশ ধরা পড়ে। যার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের খোঁজের অবসান হয়েছে। সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’, যিনি ‘মনোজ’ নামেও পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনিনাথপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF। তিনি সাধারণ মানুষ নন, তিনি মাওবাদী শীর্ষ নেতা অসীম মন্ডল ওরফে আকাশ ওরফে মনোজ।মূলত দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে ছিলেন এই মাওবাদী নেতা। তাঁর সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে এক কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শশুর বাড়িতে এসেই গ্রেপ্তার হন তিনি।এই আকাশের নিয়ে তথ্য বলতে গেলে বলা যায় এই অসীম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একসময় পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। প্রায় চার দশক ধরে মাওবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গতিবিধিতে পরিবর্তন আসে বলে তদন্তে উঠে আসে। জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আসার পর থেকেই তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।এরপরই পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে তাঁর অবস্থানের সূত্র মেলে। পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনিনাথপুর এলাকায় তিনি অবস্থান করছেন এমন তথ্য পাওয়ার পর STF অভিযান চালায়। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি ওই এলাকায় এসেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।এরপর অভিযান চালিয়ে মনিনাথপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে STF। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের পুরনো নেটওয়ার্ক, সহযোগী এবং সাংগঠনিক গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।

দীর্ঘ প্রায় চার দশকের মাওবাদী কর্মকাণ্ডের পর শীর্ষনেতা আকাশের পটাশপুর থেকে গ্রেফতারি ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির সূত্র ধরে তদন্তে এগিয়ে এসটিএফ এই স্বামী স্ত্রীকে ধরেছে শালবনী থেকে। যার মাথার মূল্য ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা।