Rathyatra Utsav : প্রায় 50 বছর ধরে কাঠের রথ তৈরি করে পরিবারের কর্মসংস্থান বজায় রেখেছে প্রামাণিক পরিবারের মহিলারা! রাত ফুরোলেই রথ

Share

ঘাটাল 15 ই জুলাই :

এই পরিবারের মহিলারাই কাঠের রথ তৈরি করেন আর সেই রথ কিনতে ভিড় ক্রেতাদের। এরকমই ছবি ঘাটালের আড়গোড়া এলাকায়। এলাকার মানুষ ভিড় জমান প্রামানিক পরিবারে এই কাঠের তৈরি রথ কিনতে। দীর্ঘ পূর্বপুরুষ ধরে এই রথ তৈরি করেছেন এই পরিবার, এ বছরও তার কমতি নেই। এই বছর রথের সংখ্যা ১৫০ পিস।

মহিলাদের হাতে তৈরী কাঠের রথ দেদার বিক্রি হচ্ছে ঘাটালে, রথ তৈরী করতে চরম ব্যস্ত মহিলারা। মূলত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের আড়গোড়া এলাকার প্রামানিক পরিবারের মহিলারা কাঠের রথ করেন প্রায় ৪৫-৫০ বছর ধরে। পূর্ব পুরুষের হাতে গড়া রথ তৈরির কাজ তারা ছাড়তে পারেননি। তাদের এই কাঠের রথ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ছাড়িয়ে, হাওড়া, হুগলি, কলকাতায় পাড়ি দেয়। এখন তাই খাওয়া দাওয়া ভুলে রথ তৈরিতে ব্যস্ত তারা। সব মিলিয়ে এ বছর তারা ১৫০ টি কাঠের রথ তৈরি করেছেন। আর সেই রথ কিনতে ইতিমধ্যে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। কারণ হাতে গোনা মাত্র কয়েকদিন তার পরেই রথ যাত্রা উৎসব।রথের সময় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই কাঠের রথ কিনে সাজিয়ে টেনে রথযাত্রা উৎসব পালন করবে।
সেই রথ তৈরি করতে চরম ব্যস্ত প্রামানিক পরিবারের মহিলাদের পাশাপাশি সকল সদস্য। এবছর এই রথ ৫০০, ৬০০,৭৫০ টাকা দামের ছোট-বড় মাঝারি মিলিয়ে মোট ১৫০টি রথ তৈরি করেছে প্রামানিক পরিবারের সদস্যরা।

এই বিষয়ে পরিবারের সদস্য গীতা প্রামানিক বলেন,”আমার শশুরের আমল থেকে এই রথ তৈরি করছি আমরা। তাদের ব্যবসায় আমরা টিকিয়ে রেখেছি। যেহেতু পরম্পরা মেনেই রথ তৈরি হচ্ছে তাই আজও সেই কাঠের রং তুলিনি আমরা বসে যাই এবং রথ তৈরি করি। যা কিনতে ভিড় জমায় ক্রেতারা। ছন্দা প্রামানিক বলেন আমি ২১ বছর ধরে রথ করছি। এক সময় শশুর করতেন কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকার জন্য দু’বছর রথ বন্ধ ছিল। এরপর ক্রেতারা বারবার রথের চাহিদা প্রকাশ করলে ফের আমরা সেই রথ তৈরি করা শুরু করি। এভাবেই আমাদের হাতে খড়ি।”

বিক্রেতা প্রভাকর প্রামাণিক বলেন,”বাবা তৈরি করতেন এই রথ। বাবার রথ তৈরি করা দেখে দেখে আমার শেখা আমি প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে রথ তৈরি করছি। এ বছরও প্রায় অনেক রথ বানিয়েছি কিন্তু চাহিদা কেমন হবে বোঝা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। এই রথ তৈরিতে এখন মূল ভূমিকা নিয়েছে বাড়ির মহিলারা।”

অন্যদিকে ক্রেতা দীপঙ্কর কোলের বক্তব্য,” ভাইপোর জেদা জেদিতে এই রথ কিনতে আসা। গত বছর চেয়েছিল তাই বানিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা ভালো হয়নি। এ বছর আবার বায়না করে আর তার বায়নাতে জোরই চলে এসেছি রথ কিনতে। আর এখানে এসে খোঁজ করতে প্রামানিকদের বাড়ি দেখিয়ে দেয় এখানকার লোক। কাঠের রথ আর সেই রথ পেয়ে খুশি ভাইপো। জিনিসপত্রের সঙ্গে দাম বেড়েছে রথের।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in