Dhadika Incident : আক্রান্ত বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে ফেরার পথে খোদ আক্রান্ত বাম আইনজীবীরা! গাড়ি ভাঙচুর, অল্প বিস্তর আহত অনেকে, নেতা বললেন প্রত্যাঘাত করার

Share

ধাদিকা 4 ঠা অক্টোবর :

সিপিএম আক্রান্ত কর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন করতে গিয়ে গড়বেতার ধাধিকাতে আক্রান্ত খোদ বামেদের একদল আইনজীবী। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আহত হলেন অনেকে। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে, যদিও অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির। সিপিআইএম জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বললেন প্রত্যাঘাত করার।

ফের অশান্তির বাতাবরণ পশ্চিম মেদিনীপুরে আর এবার অশান্তি ছড়ালো গড়বেতার ধাদিকাতে। মূলত কয়েকদিন আগে থেকেই এই গড়বেতায় চলছে বাম বনাম বিজেপি সংঘর্ষ। ঘটনা সূত্রপাত হয় সম্প্রতি চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের বিশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে। সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে ছুটে এসেছিলেন সিপিআইএম নেতার শতরূপ ঘোষ। যদিও সেই মিছিল শেষ হওয়ার পরই চন্দ্রকোনা রোডে সিপিআইএম পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শুধু ভাঙচুর নয় সেই সঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে।এই ঘটনার পরেই ফের রাতের বেলায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গড়বেতার ধাদিকা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। একের পর এক বিজেপি নেতারা আক্রান্ত হয়ে মেদিনীপুর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই সঙ্গে সংঘর্ষে এলাকা উত্তপ্ত পরিস্থিতি হয়। সম্প্রতি এ ঘটনা কিছুটা ঠান্ডা ছিল এরপরই এলাকার ভাঙচুর হয় সিপিএমের কর্মী সমর্থক নেতাদের বাড়ি।

আর সেই খবর পেয়ে এরপর কলকাতা থেকে একদল বামপন্থী আইনজীবীরা গাড়িতে করে ছুটে যান সেই ঘটনা পরিদর্শনে। এই ঘটনার পরি দর্শনের নেতৃত্ব দেন বিকাশ ভট্টাচার্যের একান্ত অনুগত্য আইনজীবী শামীম আহমেদ। এইদিন শামীম আহমেদের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি আইনজীবী দল এলাকায় ছুটে যান। বেনাচাপড়ার সামেদ গায়েন সহ ৮টি পরিবারের ভেঙে দেওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন তারা। এছাড়াও এলাকায় আর কয়েকটি বাড়ি পরিদর্শন করে যখন তারা ফিরে আসছিলেন এরপরই তারা আক্রান্ত হন। আইনজীবীদের অভিযোগ, ধাদিকাতে সড়ক রাস্তার উপর কাঠ বোঝাই গাড়ি রেখে আটকানো হয় তাদের। এরপর লাঠি রড তাড়া নিয়ে চারটি গাড়ীর উপর আক্রমণ করে জনা ৩০-৩৫ জন দুষ্কৃতি। গাড়ি ভাঙচুরের সময় কাঁচের আঘাতে সবাই অল্প বিস্তর আহত হয়।এদিন এই আইনজীবীদের দলে ছিলেন শামীম আহমেদ, সিদ্ধার্থ শংকর মন্ডল,রাজীতলাল মৈত্র, সমরেশ চক্রবর্তী,রেশমা খাতুন,শেখ আতাউদ্দিন, মধুমিতা দত্ত,শান্তনু গোস্বামী,গৌরব ঘোষ,আব্দুল্লাহ শেখ, শামসের আলম,ইন্দ্রনীল মুখার্জী।

এ বিষয়ে আইনজীবী মধুমিতা মুখার্জি বলেন,”আমরা এলাকা পরিদর্শন করে যখন ফিরছিলাম তখন জয় শ্রীরামের ধ্বনি দিয়ে বেশ কিছু যুবক তাদের পথ আটকায়। কোন কিছু বোঝার আগেই লাঠি বড় বড় বাঁশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়ির উপর,চলে আক্রমণ। তাদের বাঁশের এবং রডের আঘাতে গাড়িগুলো ভাঙচুর হয়ে যায়। আমি ওদেরকে বলি যে আমরা আইনজীবী আমরা এলাকা দেখতে এসেছি। কিন্তু তাও ওরা শোনে না। তারপরও টানা আক্রমণ চালায়। ওরা আমার চশমা কেড়ে নেয় অনেককে লাথি ঘুষাও মেরেছে। আমরা আইনজীবী ও হয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

যদিও অন্যদিকে এলাকার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধা বলেন,”এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কোনোভাবেই যুক্ত নয় পাশাপাশি তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন এ গড়বেতা এলাকায় চিরদিনের সিপিএমের আক্রমণের দ্বারা এলাকার মানুষ জর্জরিত এবং আক্রান্ত ছিল। আজ তাই তাদেরকে হাতের কাছে পেয়ে তারা তাদের বিক্ষোভ দেখিয়েছে এবং তাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ, বিক্ষুব্ধ মানুষরা ছিল বিজেপি কোনভাবেই সংযুক্ত নেই এই ঘটনার সঙ্গে।”

যদিও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিন্দার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করার ডাক দিলেন সিপিআইএম জেলা সম্পাদক বিজয় পাল। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “চারিদিকেই আক্রান্ত হচ্ছে বাম কর্মীরা। এবার আক্রান্ত হয়েছে খোদ আইনজীবীরা।পুলিশ সুপারকে বারে বারে অভিযোগ জানিয়েও কোন সূরাহা হচ্ছে না, শুনছেন না অভিযোগ। সিপিআইএম জেলা সম্পাদক ডাক দিলেন আত্মরক্ষার অধিকার,গণ জমায়েত, গণ প্রতিরোধ ও গণ প্রত্যাঘাতের। তিনি জেলা পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধেও কথা কটাক্ষ করেন।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *