
গড়বেতা 31 সে মার্চ :
এলাকার তিনি জেতা বিধায়ক ছিলেন তবু তাকে দল টিকিট দেয়নি এবারে। সেই সঙ্গে এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া অভিষেকের সভায় ডাক পড়েনি, ডাক পড়েনি মমতার সভায়। ফলে গরহাজির বিক্রম চন্দ্র প্রধান অবশেষে উপস্থিত হলেন গড়বেতা দিদির সভায়। যদিও বক্তব্য জানাতে গিয়ে বলেন আমি দলের স্রষ্টা কিন্তু কেউ আমাকে ছাড়া আমার এলাকায় সভা করতেই পারেন। এতে আমার রাগ ক্ষোভ নেই তবে আমার দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ দলের উপর পড়তে পারে।

অবশেষে দিদির ডাকে মান ভাঙলো বিক্রম চন্দ্র প্রধানের তিনি সভায় এলেন বক্তব্য রাখলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গোটা রাজ্যের সঙ্গে মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভার বেশ কিছু জায়গায় প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যার মধ্যে বাদ গেছে দাঁতন,কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়কদের নাম। বিশেষ করে দাঁতন বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক বিক্রম চন্দ্র প্রধানের নাম। এই বিক্রম চন্দ্র প্রধান দুবারের বিধায়ক রয়েছেন এই দাঁতন থেকে। দিদির একান্ত সৈনিক এবং এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কিন্তু এবারে তৃণমূল থেকে তাকে যেমন টিকিট দেওয়া হয়নি ঠিক তেমনি দিন কয়েক আগে অভিষেকের সভায় ডাকা হয়নি তাকে বলে অভিযোগ বিক্রম প্রধানের। পাশাপাশি গতকাল বেলদার সভাতেও দেখা যায়নি বিক্রম প্রধান, সূর্য অট্ট সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতৃত্বকে। যা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল একাধিকবার।

যদিও এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বেলদার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে, কোন ভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না করতে। এই সঙ্গে বলেছিলেন টিকিট পাননি মানে দলের বিরোধিতা করবেন এরকম না। যদিও সেই সভায় উপস্থিত হননি এই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক। অবশেষে এই দিন গড়বেতার সভায় দেখা গেল এই প্রাক্তন বিধায়ককে। তবে কিছুটা হতাশ এবং কিছুটা ক্ষোভ তার মধ্যে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক বিক্রম চন্দ্র প্রধান বলেন,”এই সভাতে এখানকার যিনি প্রার্থী তিনি ফোন করেছেন এবং ফোন করেছেন নেত্রী, তাই এসেছি আমি। অভিষেকের সভা না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে বিধায়ক বলেন আমাকে অভিষেকের সভায় ডাকা হয়নি। আক্ষেপ নিয়ে বলেন কেউ না ডাকলে সেখানে কেন যাব। কারণ আমি দল করেছি, দল গঠনও করেছি। আমি এলাকার দল গঠনের স্রষ্টা।

তাই কেউ যদি আমার এলাকায় আমাকে না ডেকে সভা করতে চান তা করতে পারেন। এ বিষয়ে আমার কোনও ক্ষোভ নেই। এবারে প্রার্থী তালিকা থেকে ছাঁটাই প্রসঙ্গে বলেন আমি যে বরাবর প্রার্থী হব, সব দিনের ক্যান্ডিডেট হবো তা কখনো হয় না। দল যখন মনে করেছে আমাকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে যখন মনে করেনি তখন অন্য কাউকে দাঁড় করিয়েছি। তবে এদিন সতর্ক করে বিক্রম প্রধান বলেন আত্মমর্যাদা হারিয়ে কখনো কিছু করতে যাব না, যোগ্য সম্মান রেখেই দল করব। এরপর মুখ্যমন্ত্রী কি উপদেশ দিলেন এ বিষয়ে তিনি বলেন আমরা দিদির একান্ত সৈনিক দিদি যা নির্দেশ দেবেন তা আমরা মানতে বাধ্য।আমরা যুব কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে আসা তৃণমূলী। দলের স্রষ্টা নিজের এলাকায় দল তৈরি করেছেন অথচ ডাক পাননি কোথাও ক্ষোভ নেই এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটাতো নিশ্চয়ই কষ্ট হয়েছিল।

কিছুটা ক্ষোভের সুরেই বলেন আমার উপর এই ক্ষোভ পড়লে সমস্যা নেই কিন্তু এই ক্ষোভটা সাধারণ মানুষের উপর পড়লে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবেন, তাতে দলের ক্ষতি। তার ফলে মানুষ দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু আমি সবার কাছে এখন বলছি, সবাই জোড়া ফুলে যেন ভোট দেয়।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এইদিন গড়বেতার সভা মঞ্চে দেখা গেল তালিকায় নাম থাকা এবং দল থেকে মুখ ফেরানো বেশ কয়েকজন নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়কদের। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক বিক্রম চন্দ্র প্রধান,পরেশ মুর্মু ,শৈবাল গিরি, চূড়ামনি মাহাত ।