
খড়গপুর (সদর) 1 লা এপ্রিল :
পশ্চিম মেদিনীপুর ১৫ টি বিধানসভার এক অন্যতম বিধানসভায় হল রেল শহর খড়্গপুর। যা সংবাদে শিরোনামে প্রতিদিনই রয়েছে। এবার এই খড়্গপুর সদর থেকে লড়াই হচ্ছে তৃণমূলের প্রদীপ সরকার বনাম বিজেপির পুরনো প্রার্থী দিলীপ ঘোষের। একসময় এই খড়্গপুরে বিধায়ক সাংসদ হয়ে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিলাম বিজেপির এই সর্বভারতীয় নেতা কে সরিয়ে তার জায়গায় আনা হয় হিরণকে। অন্যদিকে সাংসদ হিসেবে দিলীপ ঘোষ কে সরিয়ে আনা হয় অগ্নিমিত্রা পাল কে। কিন্তু কিন্তু দিলীপ শুভেন্দু দ্বন্দ্বে হেরে যায় অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর ফের ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। এবার আর হিরনকে না, ভরসা সেই দিলীপের উপর রেখেছে বিজেপি। তাই এবারের লড়াইটা ও দিলীপ বনাম প্রদীপ সরকার।

একদিকে নন বেঙ্গলীদের একছত্র আধিপত্য খড়্গপুরে তাই এর নাম মিনি ইন্ডিয়া দেওয়া হয়েছে। তাদের যেমন একাধিক সমস্যা সমাধানের ব্যাপার হয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে রেল কলোনি সহ এলাকার মানুষদের সমস্যা সমাধান। তবে এবারে প্রদীপ সরকার প্রার্থী হওয়ার পর থেকে লড়াই ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন। টানা কর্মীসভা, ডোর টু ডোর ক্যাম্পেনিং, এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, জনসভা এবং মিটিং মিছিল। এদিন সোজা সাপটায় স্পষ্ট উত্তর দিলেন প্রদীপ সরকার।তিনি বলেন প্রাক্তন সাংসদ কিছুই কাজ করেনি যা করা হয়েছে আমাদের আমলে। তবে জিতলে বাকি অলিখিত কাজগুলোই সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

১) প্রশ্ন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আপনারা কতটা প্রস্তুত ?
উত্তর : ভোট নিয়ে আমাদের নতুন কোন প্রস্তুতির হওয়ার দরকার পড়ে না। আমরা সারা বছর মানুষের হয়ে কাজ করি,মানুষের পাশে থাকি। যে কোনো উন্নয়নের কাজ এছাড়া রামনবমী, ঈদ ,দুর্গাপূজা কালীপুজো সহ নানান ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পর্যন্ত আমাদেরই পাবেন। আমরা শুধু এই খড়্গপুরের মানুষকে বলবো ৮ বছর দিলীপ ঘোষ কে দেখেছেন পাঁচ বছর হিরনকে দেখেছেন এবার একবার আমাদের ভোট দিয়ে দেখুন কারণ বহিরাগতরা আসে, বোকা বানায় ভোট নেই চলে যায়। এবারে তা করবেন না আপনারা।
২) প্রশ্ন : অ বাঙালি অধ্যুষিত রেল শহর খড়গপুরে এসআই আর এ প্রচুর নাম বাদ পড়েছে এক্ষেত্রে কি ভোটে প্রভাব পড়বে?
উত্তর : এইটাও একটা বিজেপি চালাকি যা মানুষ ধরে ফেলেছে। কারণ দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা SIR এর নাম করে চরম হয়রানি,লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করেছে তারা। এমনকি একেকটা বুথে বুথে দেড়শ দুশো নাম বাদ দিয়েছে তারা। এগুলো সবাই ভারতীয় তারা রোহিঙ্গা না। তার জবাব মানুষ তেইশ তারিখে ভোট বাক্সে দেবে।

৩)প্রশ্ন : অভিনেতা হিরণকে সরিয়ে সর্বভারতীয় নেতা দিলীপ প্রার্থী,মাইলেজ না ভোটে প্রভাব?
উত্তর : বিজেপির কে প্রার্থী হল কে হল না তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা মমতা ব্যানার্জির সৈনিক, মমতা ব্যানার্জির আদর্শে লড়ছি। আমাদের প্রশ্ন এতদিন যদি দিলীপ ভালো কাজ করে থাকত তাহলে ২৪ শে লোকসভা নির্বাচনে কেন তাকে সরিয়ে অগ্নিমিত্রাকে প্রার্থী করা হয়েছিল? আবার হিরন যদি ভালো কাজ করে থাকে তাহলে ওকে কেন সরিয়ে আবার দিলীপকে প্রার্থী করা হলো! হিরন দিলীপ দুজনেই ব্যর্থ।যেহেতু জেদ ধরেছে দিলীপ খড়্গপুরে তাকে প্রার্থী করতে হবে তাই তাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এরা কেউ কোন কাজ করেনি, মানুষ রাগে ফুঁসছে, খালি ভোটের অপেক্ষা। হিরন আগে পাতা গুড়িয়েছে এবার দিলীপ ৪ তারিখের পর পাতা গুড়াবে খড়্গপুর থেকে।

৪)প্রশ্ন : এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল তাতে কি প্রভাব পড়বে ভোটে?
উত্তর : এই বছর প্রথম সব দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্য ভাবে সবাই প্রচার করছেন এই নির্বাচনে।এরপরেও কোন নেতা যদি কিছু বলে কয় তাতে কিছু যায় আসে না দলেরম কারণ এলাকার কর্মীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের এই সিটটি দিদিকে জিতিয়ে উপহার দেবেন।
৫)প্রশ্ন : জেতার ব্যাপারে কি আশাবাদী কত লিড দেবেন?
উত্তর : আমরা জিতবো অবশ্যই তবে কত ভোটে জিতব তাও বলা সম্ভব নয়। কারণ এ বছর দিলীপ ঘোষ যে হারছে এটা নিশ্চিত। সময় এখনো বাকি আছে মার্জিনটা বলার।
৬)প্রশ্ন : এত বছর থেকেও কোন কাজগুলো বিজেপি করেনি কোনগুলো করবেন?

উত্তর : গোলবাজার মার্কেট থেকে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন কোন ক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কোন পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ওরা কোন কাজ করেনি আমরা কাজ করেছি। ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হয়েছে, রাস্তায় স্ট্রিট লাইট চালু হয়েছে, বিভিন্ন রাস্তাঘাট হয়েছে ,শিল্প হয়েছে,স্টেডিয়াম হয়েছে, ছট ঘাট হয়েছি।
৬)প্রশ্ন : মিনি ইন্ডিয়া নামে পরিচিত খড়্গপুরের তেলগু তামিলদের সমস্যা সমাধানে কি উদ্যোগ নিয়েছে?
উত্তর : আমি জেতার পর খড়্গপুরের ৭০ বছরের দাবি তেলেগু ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি, স্কুল গুলোকে উন্নয়নের টাকা খরচা করেছি। ওদের আর কোন দাবিদাওয়া এই মুহূর্তে নেই। তবে জেতার পর ওদের কলেজ বা স্কুল যদি নতুন করে করা যায় তা বিবেচনা আমরা করবো।