Salboni Assembly : চতুর্থ বারের জন্য শালবনী বিধানসভার প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাতো! এবারের লড়াই গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা করার দাবি প্রার্থীর

Share

শালবনি 3 রা এপ্রিল :

এবারও শালবনী থেকে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন প্রাক্তন বিধায়ক মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো। মূলত বিগত তিন বারের জেতা বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো এবারেও লড়াই করছেন শালবনি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি বিমান মাহাতোর বিরুদ্ধে। এই শ্রীকান্ত মাহাতো রাজ্য সরকারের বিদায়ী পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গত ২০১১ সাল থেকে তিনি এই শালবনী বিধানসভা থেকে মাহাতোদের হয়ে লড়াই করছেন এবারে তার তিনবার জেতার পর চতুর্থ বার তিনি দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে একই সিটে।

যদিও প্রতিবাদে প্রতিদ্বন্দ্বী চেঞ্জ হয়েছে।এবারও তাই বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বিমান মাহাতো। যিনি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। এই শ্রীকান্ত মাহাতোর মমতার একদম ঘনিষ্ঠ এবং প্রথম পছন্দের। কেন না ২০১১ সালে পরিবর্তনের আগে থেকেই শ্রীকান্ত মাহাতো তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক এবং নেতৃত্ব ছিলেন। তাই অনেক বিধানসভায় নতুন মুখ আনলেও কয়েকটি সিটে তিনি পুরাতনদের ভরসা করেছেন। যদিও প্রার্থী তালিকার ঘোষণার পর থেকে এলাকায় প্রচারে ঝড় তুলেছেন এই তৃণমূল প্রার্থী।কর্মীসভা,দলীয় বৈঠক সহ একাধিক কর্মসূচি সারছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এদিন স্পষ্ট কথায় স্পষ্ট ভাবে জানালেন কিভাবে এলাকা তার দখলে রয়েছে এবং কিভাবে গো হারান হারাবে বিজেপিকে।

1) প্রশ্ন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আপনারা কতটা প্রস্তুত ?
উত্তর : সকাল ছয়টা থেকে আটটা, আটটা থেকে দশটা আমি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেই জনসংযোগ করি। সাহায্য করি এবং ভোটের প্রচার করি। এছাড়াও দুপুর বিকেল এবং রাত্রিবেলায় যখন যেভাবে প্রয়োজন তাকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিই।এই গতকাল একটি ছেলে পড়েছিল রাস্তায়। তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গোয়ালতোড় হাসপাতালে ভর্তি করা এবং তার ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা সবই করে দিয়েছি। আমাদের জন্য নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। তাই শালবনীতে গো হারান হারবে বিজেপি।
2)প্রশ্ন : বিজেপির SIR করার ফলে এলাকার মাহাতো কুড়মি নাম বাদ তাতে কি ভোটে প্রভাব পড়বে?
উত্তর : আমাদের এখানে মাহাতো কুড়মিদেরবেশি নাম বাদ পড়েনি। তবে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তা রুখে দিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের নেতৃত্ব। তাই ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্যই আমাদের বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। গণতন্ত্র সংবিধান রক্ষা করার জন্য এবং দেশকে বাঁচানোর জন্যই ভোট দিতে হবে বিজেপিকে তাড়াতে হবে। বাংলা বাঁচাতে বিজেপি তাড়াও অভিযান চলছে।

3)প্রশ্ন : প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি বিপুল ভোট নিয়ে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, কি বলবেন?
উত্তর : একদম গো হারান হারবে এই এলাকা থেকে। সেই সঙ্গে ভুলে যাবে ঠাকুরদার নাম। মানুষ বুথে বুথে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে যে বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করাবে। এস আই আর এবং নেগেটিভ কাজকর্ম করে যেভাবে মানুষকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে তাই মানুষ জোট বদ্ধ হয়েছে, জোট বদ্ধ হয়েছে ক্ষেতমজুর খেটে খাওয়া কৃষকেরা। বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশ পাঞ্জাব হরিয়ানাতে কিছুই করেনি এখানে মমতা ব্যানার্জি ঋণ মুকুব,আলু চাষীদের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা ব্যবস্থা করেছেন। বিজেপি সবচেয়ে বড় দোষ হচ্ছে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং তদন্ত দুর্নীতি। ব্রিটিশরা করেছিল জুডিশিয়াল মার্ডার এরা করছে জুডিশিয়াল করাপশন।

4) প্রশ্ন: তৃতীয় টার্ম অব্দি ছিলেন কোন কাজগুলো হলো কোন গুলো হল না?
উত্তর: আমরা ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সাল যদি কাজের হিসাব দিই তাহলে সারাদিন কেটে যাবে। কারণ আপনি যদি ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যা পরিস্থিতি ছিল এখন পুরোপুরি উল্টো। আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন। এদিন রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা গুলি তিনি বর্ণনা করেন, তুলে ধরেন হাতি মারলে রাজ্য সরকারের ক্ষতিপূরণ, মাওবাদী দ্বারা নিহত হলেও রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ। এর সঙ্গে মাওবাদী ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে জনমানসে ফিরতে চাইলেও যা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় সেগুলি তো রয়েছে। সেই সঙ্গে কন্যাশ্রী,রূপশ্রী,স্বাস্থ্যসাথী, বিনা পয়সায় চাল ডাল রেশনিং ব্যবস্থা বেকার যুবক যুবতীর ভাতা প্রভৃতি।

5) প্রশ্ন : এত উন্নয়নের পরেও কেন বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত ?
উত্তর : বিজেপি ঠকবাজি দল, মিথ্যাবাদী পার্টি।উড়িষ্যায় যান বুঝতে পারবেন কিভাবে বোকা বানানো হয়। মিথ্যা কথা বলে শত্রু শত্রু মিত্র তৈরি করছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বকে পাথেয় করে কেউ কেউ বিজেপি করছে। বিজেপি যে বাঁশ ও লণ্ঠন ভারতবর্ষকে দিয়েছে বা দিচ্ছে সেটা সবাই বুঝতে পারবেন কিছু বছর পর।
৬) প্রশ্ন : কত মার্জিনে জিতবেন আশা করছেন?
উত্তর: মানুষের সিদ্ধান্তেই আমাদের লিড হবে সেটা অনেক পরিমাণ।
৭)প্রশ্ন : বিধানসভা এলাকায় কোথাও তৃণমূলের দুর্বলতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে?
উত্তর : যা ভুল সমস্যা ছিল সেগুলো মানুষ বুঝতে পেরেছে এবং তারা কাম ব্যাক করছে দলে। তারা বলছে যত তাড়াতাড়ি পারবো আমরা এলাকায় জিতবো। তাই আমরা বলি আবার আসছে তৃণমূল বিজেপি হবে নির্মূল।

এখন দেখার শালবনী সিট চতুর্থ বারের জন্য শ্রীকান্ত মাহাতো বিধায়ক হন না বিজেপি দখল করে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in