
নবান্ন 6 ই জুন :
কোথায় কত মাদ্রাসা? কী ভাবে নথিভুক্ত? রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসককে রিপোর্ট দিতে বলল নবান্ন। রাজ্য জুড়ে সমস্ত মাদ্রাসার সমীক্ষা শুরু করল রাজ্য সরকার। সব জেলার জেলাশাসককে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জেলাভিত্তিক রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে সমস্ত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ-ও জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক কাজের জন্যই এই নির্দেশ।

এবার সরকারের পরিবর্তনের পরেই রাজ্যের মাদ্রাসার সঠিক তথ্য নিয়ে উঠে পড়ে লাগলো নতুন সরকার। এই দিন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, মাদ্রাসার অবস্থান, কবে তৈরি হয়েছে, নথিভুক্ত কি না, কোথায় কী ভাবে নথিভুক্ত, সেই সংক্রান্ত নথি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা সংগ্রহ করে রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। মাদ্রাসাটি আবাসিক বা বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কি না এবং সেখানকার পাঠক্রমের বিষয়েও খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হবে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে যাতে আগামী দিনে পরিকল্পনা, পড়ুয়াদের হিতার্থে পদক্ষেপ করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, সেই জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মাদ্রাসা গুলিতে কোনও বেনিয়ম বা বেআইনি কাজ চলছে কি না, তা জানতেও রাজ্য সরকারকে সাহায্য করবে এই রিপোর্ট।

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, বেনিয়ম ধরা পড়লে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। তবে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই তথ্যের ভিত্তিতে মাদ্রাসায় পঠনপাঠন বন্ধ করা বা পড়ুয়াদের ছাঁটাই সংক্রান্ত পদক্ষেপ করা হবে না। মাদ্রাসায় যেমন পড়াশোনা চলছে, তেমনই চলবে। এরই পাশাপাশি এবার মাদ্রাসা গুলিতে বন্দেমাতরম গাওয়া নিয়েও কঠোর হয়েছে এ রাজ্যের রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনার সময় বাধ্যতামূলক ভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে বলে দিন কয়েক আগে নির্দেশিকা দিয়েছিল রাজ্যের বিজেপি সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে এই নির্দেশ জারি করে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিরেক্টরেট। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, প্রতি দিন বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলি বা প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে এক কথা বলা যায় মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ে অতি সক্রিয় হচ্ছে নতুন সরকার।