Sighting a butterfly : ফের দেখা মিলল কিন্তু 60 বছর পর! মুকুট ফড়িংয়ের দেখা লোধাশুলির জঙ্গলে

Share

লোধাশুলি 20 ই জুলাই :

বিরল প্রজাতির,তবে দেখা মেলে। অপেক্ষা করতে হলো নাই নাই করে প্রায় ৬০ টি বছর! দীর্ঘ ষাট বছর পর আবার দেখা মিলল হুডেড গ্রাসহপার (Hooded Grasshopper) বা মুকুট ফড়িংয়ের। ঝাড়গ্রাম জেলার লোধাশুলির জঙ্গলে দেখা গেল সেই ফড়িং এর । যে ঘটনায় বেজায় খুশি গবেষকরা।

এ ফড়িং যে সে ফড়িং না এর আসল নাম হুডেড গ্রাসহপার (Hooded Grasshopper) কিন্তু একে মুকুট ফড়িং নামেই চেনে লোকাল মানুষেরা। বিভিন্ন নথি ঘেঁটে গবেষকরা জানাচ্ছেন এই পতঙ্গটি কেবলমাত্র ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। তবে যত্রতত্র তার দেখা মেলা ভার।প্রসঙ্গত ১৯৬৫ সালে বোম্বে ন্যাচরাল হিস্ট্রি সোসাইটির জার্ণালে উল্লেখ রয়েছে যে, ওই সময় এই পতঙ্গের দেখা মিলেছিল বিহারের হাজারিবাগে। সেটি নোটিশে এনেছিলেন ফাদার রিচার্ড। তখনই জুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া তত্ব তালাশ করে জানিয়েছিল, বিহারের হাজারিবাগের পাশাপাশি সিংভূম, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এবং মেদিনীপুর জেলা, ওডিশার গঞ্জাম এবং মধ্যপ্রদেশের ব্যাঙ্গালোর, মাইশোর এবং মান্ডলাতেও পাওয়া যায়। ওই সময় অবশ্য অবিভক্ত মেদিনীপুরের মধ্যেই ছিল ঝাড়গ্রাম। কারণ, তখনও ঝাড়গ্রাম জেলা ভাগ হয়নি। তবে মেদিনীপুরের কোন জায়গায় পাওয়া গিয়েছিল তার কোনও উল্লেখ নেই।

এবার ঝাড়গ্রামের মোহনপুর গ্রামীন হাসপাতাল সংলগ্ন লোধাশুলির জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক পবিত্র মাহাতোর নজরে পড়ে সেটি। জঙ্গলে নতুন প্রানী দেখে তার ছবি তোলার পাশাপাশি সেটি সংগ্রহও করেন। তারপর বিষয়টি জানান, তাঁর শিক্ষক তথা কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহারকে। সুমন বাবু খোঁজ নিতে গিয়ে বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির জার্নাল ঘেঁটে উদ্ধার করেন পুরনো ইতিহাস। পবিত্র বলেন, ‘আমি গবেষণার কারণে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গলে ও জলাশয়ে ঘুরে বেড়ায়। অনেক ধরণের পাখি, পতঙ্গ দেখেছি। কিন্তু এই ধরণের পতঙ্গ প্রথম নজরে এলো।’এই বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক সুমন প্রতিহার জানান, এই মুকুট ফড়িং সাধারণত বিভিন্ন গাছের পাতা খায়। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এদের বেশি পছন্দের হল সেগুন গাছের কচি পাতা।

দক্ষিণ ভারতের চন্দন গাছের পাতা খেয়ে গাছ নষ্ট করে। তাই এদের অনেকে চন্দন দস্যুও বলে থাকে। এই হুডেড গ্রাসহপারের (Hodded grasshopper) বৈজ্ঞানিক নাম টেরাটোডস মন্টিকলিস (Teratodes monticollis)। যারা দেখতে একেবারে পাতার মতো। ফলে গাছে বসে থাকলেও হঠাৎ চেনা বা বোঝা মুস্কিল। এই ধরণের পতঙ্গের সন্ধান জঙ্গলমহলের জীব বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে বলেই গবেষকদের অভিমত। তবেই বিরল প্রজাতির ফড়িংয়ের দেখা মেলাতেই খুশি গবেষকরা খুশি এলাকার মানুষ।

গবেষকদের এও দাবি কোভিডের সময় বহু বিরল প্রজাতির প্রাণী, পতঙ্গ, জন্তু-জানোয়ারের দেখা মিলেছিল এই জঙ্গলমহল অধ্যুষিত অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in