
ঘাটাল 1 লা আগস্ট :
ঘাটালের বন্যায় নিত্য সঙ্গী ডিঙি বা ছোট নৌকো, চাহিদা তুঙ্গে ডিঙ্গীর,বন্যার আগে ঘাটালে জোর কদমে তৈরি হচ্ছে ডিঙি, প্রত্যেক বাড়ির উঠোনে রাখা রয়েছে বন্যায় ব্যবহৃত আরেক জলযান। সেই ডিঙ্গি এবং নৌকা বিক্রি হচ্ছে জোড়া ১৫ হাজার।টাকায়।

প্রতি বছর বন্যার খবরের শিরোনামে থাকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল। টানা বৃষ্টি ও জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে প্লাবিত হয় ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যার জলে ডুবে যায় রাস্তাঘাট। যাতায়াতের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় ঘাটালের মানুষজন কে। ঘাটালের অধিকাংশ বাড়িতে সাইকেল মোটর সাইকেলের পাশাপাশি রাখা রয়েছে তাল কাঠ বা পাতের তৈরি জলযান। বন্যা আসলেই বাজার হাট বা শহরে আসতে প্রয়োজন হয় এই ছোট্ট ডিঙি বা নৌকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটালের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নৌকোর ব্যবস্থা থাকলেও তা খুব সীমিত। সরকারি নৌকোর উপর আস্থা না রেখেই বাড়ি বাড়ি ডিঙি নৌকা করে শহরে আসেন অনেকে। এদিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি পাত, আবারও আতঙ্কের দিন গুনছেন ঘাটালের মানুষজন। তাই আগাম বন্যার জলযান প্রস্তুত করে নিচ্ছেন অনেকেই। অনেকের বাড়ির উঠনোর সামনেই রেখেছেন ডিঙি ও নৌকো গুলি। ডিঙি সাধারণত হয়ে থাকে তাল কাঠের, তাল কাঠের তৈরি ডিঙি ৮-১০ বছর চললেও পরে তা আর ব্যবহার করা যায়না। তাই পাতের তৈরি ডিঙি তৈরি করছেন অনেকেই। ঘাটালের কোথাও ১৩ হাজার টাকা জোড়া আবার কোথাও ১৫ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে ডিঙি। বর্তমানে ডিঙির চাহিদা তুঙ্গে। জোর কদমে তৈরি হচ্ছে ডিঙি।

এলাকার বাসিন্দা মায়া মাইতি বলেন,”বাড়িতে সামান্য টুকু জল আনতেই জল পেরিয়ে যেতে হয়। আরে খাবার জল না হলে রান্না করা খাওয়া কিছুই হবে না। তাই আমরা কাঠের এই ডিঙি গুলো ব্যবহার করি। আমাদেরকে তো বেঁচে থাকতে হবে তাই আমাদের প্রধান ভরসা এই নৌকা এবং ডিঙি ।”
মিস্ত্রি সুমন মান্না বলেন,” আমি নিজে ঘর থেকে বেরোনোর সময় ডিঙ্গি ব্যবহার করি। সারা বছরের কয়েক মাস জলে ডুবে থাকে ঘাটাল আর তাই এখানে ডিঙি ও নৌকার ব্যাপক চাহিদা। এবারও অনেকগুলো তৈরি করেছি জোড়া পনেরো হাজার টাকা করে বিক্রি করছি আমরা।”

এক দোকানি সঞ্জীব মাইতি বলেন,”যাতায়াতের জন্য সাইকেল মোটর সাইকেলের পাশাপাশি এবারে আমরা নৌকা এবং ডিঙ্গি রাখছি। সিটের তৈরি এই নৌকা ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা জোড়া দাম পড়ে। আগে ৬ জোড়া বিক্রি করে দিয়েছি, আবার আমরা তৈরি করছি।কারণ এখানকার মানুষের প্রধান ভরসা এই নৌকা।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঘাটালের মাস্টারপ্ল্যান এখনো কমপ্লিট হয়নি। নতুন সরকার আসার পর নতুন করে উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু তার মধ্যে বর্ষা এসে যাওয়ায় সেই একই অবস্থায় ফিরে গেছে ঘাটালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তাই এখন নৌকা এবং ডিঙির উপর ভরসা করছে এলাকার মানুষ। কারণ বেঁচে থাকতেএকমাত্র অবলম্বন সেই নৌকা এবং ডিঙি।