
মনোহরপুর 5 ই আগস্ট :
দীর্ঘদিন ধরে বেহাল গ্রামীণ রাস্তা, হাঁটু সমান কাদা। রাস্তা মেরামতের জন্য নির্বাচনের আগে পথশ্রী ৪ প্রকল্পের বোর্ড পড়লেও শুরু হয়নি কাজ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার মানুষজন। যদিও নব্য নির্বাচিত বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন সমস্যা সমাধানের।

বেহাল রাস্তার জন্য গ্রামে আসতে চাইনি আত্মীয় স্বজনেরা,বেহাল রাস্তায় গ্রামে প্রবেশ করে না অ্যাম্বুলেন্স, খাটিয়ায় করে রোগীকে নিয়ে যেতে হয় রাস্তা পর্যন্ত! এমনই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলদহ গ্রামে। এই গ্রামবাসীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ওই গ্রামেরই দুটি প্রধান রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে হাজারো হাজারো মানুষজন। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি এক কিলোমিটার এবং অন্যটি ১৭০ মিটারের রাস্তা পথশ্রী ৪ প্রকল্পে রাস্তা মেরামতের জন্য বোর্ড লাগিয়ে ঘটা করে শিলান্যাস হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই দুর অবস্থার কথা জেনে তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনেরা আসে না উৎসব অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি গ্রামের কেও অসুস্থ হলে রোগীকে খাটিয়ায় করে সড়ক পর্যন্ত নিয়ে আসতে হয় এমনই অভিযোগ তাদের।
তারা এও বলেছেন বাম আমলে রাস্তা মেরামত হলেও আগের সরকারের আমলে বার বার বলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এর ফলে এই বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে স্থানীয়দের। ওই রাস্তা বেরোতে গেলে সাইকেল মোটরসাইকেল রেখে হেঁটে পেরোতে হয়।মোটরসাইকেল বা সাইকেল নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মনে করেন। সকলের দাবি অবিলম্বে রাস্তা মেরামত অথবা নতুন করে করে দিক এই নতুন সরকার।
স্থানীয় গ্রামবাসী ভজহরি মন্ডল বলেন,”এ রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করাই দায়। সাইকেল মোটরসাইকেল কোনভাবেই যায় না। ফলে আমরা সমস্যায় পড়েছি। কারণ আমরা কৃষক পরিবারের।এখানে কয়েকশ মানুষ তাদের আনাজ সবজি এবং কৃষকের জিনিস এ রাস্তা দিয়ে মার্কেটে নিয়ে যেতে পারে না।যার।ফলে এ সমস্যা সমস্যায় থেকে গেছে। বিগত ছয় থেকে আট সালে বাম আমলে এতে মোরাম পড়েছিল, তারপর থেকে আর কিছুই হয়নি।’

গীতা রানী ঘোষ নামে আর এক বাসিন্দা বলেন,’রাস্তার এমনই বেহাল অবস্থা যে নিজের মেয়ে জামাইরাও আমাদের বাড়ি আসতে চায় না। আসতে চায় না বাপের লোকরা। বহু বার তাদের আবেদন নিবেদন করেছি বাড়িতে উৎসব অনুষ্ঠানে আসার জন্য কিন্তু তারা বলেছে রাস্তা না ঠিক হলে কোনদিনই তারা আসবেন এই বাড়িতে। এ রাস্তা সংস্কার নিয়ে বহুবার আমরা আবেদন-নিবেদন করেছি। বিগত সরকারের আমলেও কিন্তু রাস্তা সারাই হয়নি। আমাদের এই দুর্ঘটনা পূর্ণ রাস্তা দিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে রাস্তা তৈরি করুন বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি।”

স্থানীয় গাড়ির চালক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন,”বড় গাড়ি তো কোনোভাবেই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না কারণ এক হাঁটু পর্যন্ত কাদা। এ রাস্তা দিয়ে না ঢুকে বাইক না ঢোকে সাইকেল। তাই আমরা বড় গাড়িকে দূরে রেখে দিয়ে হেটে হেঁটে সমস্ত মাল বহন করে নিয়ে যায়। বিগত কয়েক বছর ধরেই এ রাস্তা বেহাল। চাষীর এ বছরের মাল অন্য বছরে লোড হয়।’
যদিও এই বিষয়ে চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিধায়ক সুকান্ত দোলুই বলেন “এই বর্ষায় বেহাল রাস্তা ঘাটে মানুষের যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে,যে রাস্তা গুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি সে রাস্তাগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করব বর্ষা কাটলেই।”